এন্টি ক্রাইস্ট: দাজ্জাল নাকি ডিজিটাল সিস্টেম

[ For the English Translation of this article please chick here ]

আলী হাসান ভূঁইয়া :

দাজ্জাল ইসলামে অতি আলোচিত একটা নাম। এরকম মুসলিম খুব কমই পাওয়া যাবে যারা দাজ্জাল নামের সাথে পরিচিত নয়। এই সম্পর্কে অনেক হাদিস আছে । হাদিস সমুহের আক্ষরিক অর্থ গ্রহন করলে আমাদের এই ধারনাই হয় যে দাজ্জাল একজন মানুষ। কিন্তু আসলেই কি দাজ্জাল একজন মানুষ  নাকি অন্য কিছু। কোরানে দাজ্জাল সম্পর্কে সরাসরি বা ইঙ্গিতেও কোন আলোচনা করা হয় নাই তবে  মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের কোরানে চিন্তা ভাবনা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কুরআনে চিন্তা-ভাবনা, গবেষণা (তাফাক্কুর) এবং বুদ্ধি (আকল) ব্যবহারের ওপর প্রায় ১০০-এর বেশি আয়াতে জোর দেওয়া হয়েছে, যা মানুষকে সৃষ্টিজগৎ ও আল্লাহর নিদর্শনের ওপর চিন্তা করতে নির্দেশ দেয়। এর মাঝে অন্যতম যেমন

সৃষ্টিজগৎ নিয়ে চিন্তা: “নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯০) ।
কুরআন নিয়ে চিন্তা: “তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না?” (সূরা আন-নিসা ৪:৮২) ।
নিজ সত্তা নিয়ে চিন্তা: “তারা কি নিজের মনের কথা নিয়ে চিন্তা করে না?” (সূরা আল-হাশর ৫৯:২১)।
নিদর্শন বোঝা: “এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা-গবেষণা করতে পার” (সূরা বাকারা ২:২১৯)

আমরা যদি উপরের এই চারটি বিষয়ে একটু গভীর ভাবে দৃষ্টি দেই অর্থাৎ সৃষ্টিজগৎ, কোরান, নিজ সত্তা, এবং অতীত এবং বর্তমান এর বিভিন্ন নিদর্শন নিয়ে চিন্তা ভাবনা করি এবং যুক্তির আলোকে,বিজ্ঞান সম্মত ভাবে নিম্নে উল্লেখিত দাজ্জাল সম্পর্কে উল্লেখ যোগ্য হাদিস সমুহ পর্যালোচনা করি এবং বাস্তবতার নিরিখে ভেবে দেখি কি  সম্ভব আর কি সম্ভব না , তাহলেই হয়তো আমরা ভিন্ন কোন ধারনায় উপনিত হতে পারব ইনশাল্লাহ।

হযরত আনাস (র) হতে বর্ণিত রাসুল্লাহ (স)ইরশাদ করেছেন এমন কোন নবী অতীত হন নাই যিনি তার উম্মত কে কানা মিথ্যাবাদী দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেন নাই। তোমরা জেনে রেখো দাজ্জাল নিশ্চয় কানা হবে। তোমরা তাও জেনে রাখো যে তোমাদের প্রতিপালক বা প্রভু আল্লাহ কানা নন। দাজ্জাল এর দু চোখের মাঝে লেখা থাকবে কাফ-ফা-রা অর্থাৎ কাফের মেসকাত ৫২৩৭ নং হাদিস মিনা বুক হাউস ও সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ৭১৩১, ৬৬৪৬)।

মহানবীর হাদিসে দাজ্জাল কে প্রভু হিসেবে তুলনা করা হয়েছে। প্রথমেই যে কথাটি আসে তা হলো কেন এই তুলনা। এই তুলনার কারন হলো অভ্যাস। মানুষ অভ্যাসের দাস। যদি ভালো ভাবে লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন আমরা মহান আল্লাহর বান্দা এই ভাবে যে আমরা তার যে ইবাদত করি তা এক ধরনের অভ্যাস। ৫ ওয়াক্ত নামাজ, রোজা , দান, সদকা সবই মানুষের অভ্যাস । এই অভ্যাস ই মোমিন ব্যাক্তিকে কাফের হতে আলাদা করে। এখন আসা যাক দাজ্জাল এর ক্ষেত্রে। আমরা যদি বর্তমানে নজর দেই তাহলে দেখবো যে ডিজিটালাইজেশন এর যুগে কম্পিউটার,টিভি,মোবাইল, ইন্টারনেট ব্যবহারে আমরা এতটাই অভ্যস্ত যে এগুলো ছাড়া আমাদের জীবন একদম অচল। এখন আশা যাক কেন দাজ্জাল কে মানুষ না বলে ডিজিটাল বলছি। এর পিছনে রয়েছে বিভিন্ন হাদিস এর যূক্তি গ্রাহ্য ব্যাখ্যা। প্রথমেই আমরা দাজ্জাল এবং ডিজিটাল নামকরন এর বিষয়ে আলচনা করবো। আমরা যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখবো ইংরেজি আর আরবি নাম এর ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। যেমন-

 

এডাম                             আদম

হাভা                              হাওয়া

আব্রাহাম                        ইব্রাহিম

সোলেমন                       সোলাইমান

ডেভিড                          দাউদ

এবার  শব্দের অর্থ এর দিকে নজর দেওয়া যাক। দাজ্জাল’ (دجل) ধাতু থেকে ‘উদ্ভব’, যার অর্থ মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা, বা সত্যকে মিথ্যার মাধ্যমে ঢেকে দেওয়া। অন্যদিকে ডিজিটাল হলো এমন ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি যা তথ্য বা ডেটাকে বাইনারি কোড অর্থাৎ ০ এবং ১ (0 & 1) এর মাধ্যমে প্রসেস, সংরক্ষণ এবং স্থানান্তর করে।এটি এনালগ পদ্ধতির বিপরীতে গাণিতিক সংকেত ব্যবহার করে দ্রুত এবং নির্ভুল ফলাফল দেয়। কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ক্যামেরা এবং ইন্টারনেট-ভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তিই হলো ডিজিটাল প্রযুক্তির উদাহরণ।

এখন আমরা যদি সৃষ্টিজগৎ, কোরান, নিজ সত্তা, এবং অতীত এবং বর্তমান এর বিভিন্ন নিদর্শন আলোকে টিভি , কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিন এর দিকে দেখি তাহলে আমরা আসলে কি দেখতে পাই। বাস্তব কিছু নাকি পরিপূর্ণ মিথ্যা যা শুধুই সংখ্যার খেলা এবং একটা ধোকা যা দৃশ্যত আছে কিন্তু বাস্তবে নেই।

আবূ খায়সামা যুহায়র ইবনু হারব (অন্য সনদে) মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান রাবী (রহঃ) … নাওয়াস ইবনু সামআন (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে রাসুল্লাহ (স) বলেছেন,

শোন, আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আবির্ভাব হয় তবে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। তোমাদের প্রয়োজন হবে না। আর যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকা অবস্থায় দাজ্জালের আবির্ভাব হয়, তবে প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তি নিজের পক্ষ হতে একে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তাআলাই হলেন আমার পক্ষ হতে তত্ত্বাবধায়ক। দাজ্জাল যুবক এবং কোঁকড়া চুল বিশিষ্ট হবে। তার চক্ষু হবে স্ফীত আঙ্গুরের ন্যায়। আমি তাকে কাফির আবদুল উযযা ইবনু কুতনের সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করছি। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে সে যেন সূরা কাহফের প্রথমোক্ত আয়াত সমুহ পাঠ করে। সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হতে আবির্ভূত হবে। সে ডানে-বামে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! অবিচল থাকবে।

আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে পৃথিবীতে কত দিন অবস্থান করবে? উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চল্লিশ দিন পর্যন্ত। এর প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের দিনসমূহের মতই হবে।

আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! যেদিন এক বছরের সমান হবে, উহাতে এক দিনের সালাতই কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? জবাবে তিনি বললেন, না, বরং তোমরা এদিন হিসাবে ঐ দিনের পরিমাণ নির্ধারণ করে নিবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! দাজ্জাল পৃথিবীতে তার গতির দ্রুততা কেমন হবে? তিনি বললেন, বাতাসে পরিচালিত মেঘের ন্যায়। সে এক সম্প্রদায়ের নিকট এসে তাদেরকে কুফরীর দিকে আহবান করবে। তারা তার উপর ঈমান আনয়ন করবে এবং তার ডাকে সাড়া দিবে। অতঃপর সে আকাশকে হুকুম করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দিরে, ভূমি গাছ-পালা ও শষ্য উদগত করবে।
এরপর সন্ধ্যায় তাদের গবাদী পশুগুলো পূর্বের তূলনায় অধিক লম্বা, কুঁজ, প্রশস্ত স্তন এবং উদরপূর্ণ অবস্থায় তাদের নিকট ফিরে আসবে। অতঃপর দাজ্জাল অপর এক সম্প্রদায়ের নিকট আসবে এবং তাদেরকে কুফুরীর প্রতি আহবান করবে। তারা তার কথাকে উপেক্ষা করবে। ফলে সে তাদের নিকট হতে ফিরে চলে যাবে। অমনি তাদের মাঝে দুর্ভিক্ষ ও পানির অনটন দেখা দিবে এবং তাদের হাতে তাদের ধন-সম্পদ থাকবে না। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে উহাকে সম্মোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন যমীনের ধন-ভাণ্ডার বের হয়ে তার অনুগমন করবে,যেমন মৌমাছি তাদের সর্দারের অনুগমন করে। (সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) পরিচ্ছেদঃ ১৮. ৭১০৬)

যেহেতু  একাধিক হাদিসে দাজ্জাল সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে তাই হাদিস সমুহের মাঝে সমন্বয় এবং আলোচনার সুবিধার্থে আমরা হাদিস সমুহ কে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে আলোচনা করবো।তবে তার আগে আমাদের কিছু বিষয় সম্পর্কে একটু জানা দরকার আর তাহলো, জ্ঞান কি, ঈমান কাকে বলে , যুক্তি বলতে কি বুঝায় এবং চিন্তার পরিভাষা কি?

জ্ঞান- শয়তানের সাথে যুদ্ধ করার হাতিয়ার সরুপ হচ্ছে জ্ঞান। অন্যভাবে বলা যায়, বাস্তব যুক্তি প্রমাণ এর নামই হচ্ছে জ্ঞান। মলূত,স্রষ্টা কর্তৃক সৃষ্ট যাবতীয় সৃষ্ট বস্তুর(দৃশ্য ও অদৃশ্য ) নির্ধারিত সীমা ও পরিসীমা সম্পর্কে জানা ও তা অনুধাবন করার নামই হচ্ছে জ্ঞান।

ঈমান – ঈমান এর পারি ভাষিক অর্থ হচ্ছে বিশ্বাস।,পূর্বপুরুষদের মতামত শুধু মেনে চলা এবং এর গুরু রহস্য এর অধিকারির প্রতি উত্তম মনোভাব প্রদর্শন করাই হচ্ছে ঈমান। সাভাবিক দৃষ্টিতে ঈমান এর সংগা এটাই। সকল ধর্ম ও জাতি বিশেষ ঈমান বা বিশ্বাস এর অধিকারি । কিন্তু সকলের বিশ্বাস যুক্তিসংগত, বা সন্দেহাতীত? না।এমনকি মসুলিম সম্প্রদায় যাদের ধর্মের মুলভিত্তি ঈমান তাদের মধ্যেও বহু বিষয়ে মতৈক্য রয়ছে। যেখানে সমালোচনা করার অবকাশ থেকে যায় তা ঈমান নয়। বরং, দিদ্ধা দন্ধহীন, যুক্তি যুক্ত, তর্কহীন মানবীয় অনুভুুতিকে ঈমান বলে।

যুক্তি -স্রস্টা কর্তৃক প্রকৃতির উপর আরপিত অকাট্য সপ্রমানিত  কঠোর রিতি নীতিই হচ্ছে যুক্তি। অন্যভাবে বলা যায় সময়, কাল ও অবস্থান এর বেস্টনী মুক্ত অখণ্ডনীয় ও অপরবর্তনীয় নিয়মনীতি কে যুক্তি বলে ।

চিন্তা -বাস্তবতার আলোকে  কি হতে পারে , আর কি হতে পারে না, অন্যভাবে বললে , কোন একটি ঘটনার
পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত বা অনির্ধারিত কোন, একটি বা একাধিক যে ঘটনা ঘটতে পারে তা নিয়ে যুক্তিগ্রাহ্য ভাবে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া বা কর্ম করার পূর্বে মানুষ আভ্যন্তরিন ভাবে বুদ্ধি বৃত্তিক যে সকল ভাবনা বা হিসাব নিকাশ  সম্পাদন করে তাকে চিন্তা বলে ।উল্লেখ্য যে চিন্তা, দুশ্চিন্তা ও কল্পনা এর মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান । চিন্তা পার্থিব, অপার্থিব বা উভয়ই সংশ্লিষ্ট ভাবনা হতে পারে তবে তা বাস্তবতা ভিত্তিক এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত ।কিন্তু দুশ্চিন্তা শুধুই পার্থিব বা দুনিয়াদারি সম্পর্কিত ভাবনা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যুক্ত । অপরদিকে কল্পনা হচ্ছে বাস্তবতা বহির্ভূত ভাবনা।

উপরোক্ত বিষয়গুলোর আলোচনার ভিত্তিতে আমরা যদি  হাদিস সমুহ গ্রহন করি তাহলে হাদিসে বর্ণিত দাজ্জাল বলতে  ডিজিটাল সিস্টেম এবং এর সংগে জড়িত একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠিকে বুঝানো হয়েছে এবং কোন একক রক্ত মাংসের মানুষ কে বুঝান হয় নাই।কারন পবিত্র কোরানে এসেছে “যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী (পরিপূর্ণ বিশ্বাসী অথবা পরিপূর্ণ অবিশ্বাসী) হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে, আমি তাদের ঘরের ছাদও করে দিতাম রূপর এবং তারা যে সিঁড়ি দিয়ে চড়ে তাও! আর তাদের ঘরের জন্য দিতাম দরজা ও পালঙ্ক, যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত । এবং দিতাম (সোনার) অলংকার। এই সব কিছুই তো পার্থিব জীবনের ভোগ মাত্র। আর আপনার রবের কাছে পরকাল তো কেবল মুত্তাকীদের জন্যই  [সূরা যুখরুফ:৩৩-৩৫] এই আয়াত অনুযায়ী যদি আমরা চিন্তা করি এবং হাদিস সমুহের যদি আক্ষরিক অনুবাদ গ্রহন করি  তাহলে তা হবে যেমন অযোক্তিক তেমনি অকল্পনীয় একই সাথে সাংঘর্ষিক এবং যে আশংকা কোরানে প্রকাশ করা হয়েছে তারই বাস্তবায়ন হবার সম্ভাবনা দেখা দিবে।

এক্ষেত্রে প্রথমেই প্রশ্ন আসবে তাহলে কেন রাসুল্লাহ (সা) এরকম বর্ণনা দিয়েছেন। এর দুইটি সম্ভাব্য কারন হতে পারে। প্রথমটি জ্ঞান । যদি কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের  কোন বিষয়ে জ্ঞান বা ধারনা না থাকে তাহলে কেউ তাকে বা তাদের কি ভাবে বুঝাবে ? কোন সাদৃশ্য বস্তু বা ঘটনার সাথে তুলনা করে বা মিল দেখানোর মাধ্যমে যার সম্পর্কে উক্ত ব্যক্তির বা ব্যক্তিবর্গের জ্ঞান বা ধারনা আছে। উদাহরন সরুপ বলা যায় ঈশা ইবনে মরিয়ম এর কথা। এখন তিনি কুমারী মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহন করেছেন। এখন মুসলমান বা খ্রিষ্টানদের কাছে তিনি পবিত্র কিন্তু ইহুদীরা তাকে অসৎ চরিত্রের বলে ধারনা করেন। মুসলমান বা খ্রিস্টানরা এটা আল্লাহর কুদরত হিসেবে মান্য করেন কিন্তু ইহুদীরা এর বিপরীত। তখন মানুষ এর এই সম্পর্কে  কোন ধারনা ছিল না বা এই বিষয়ে কোন জ্ঞান ছিল না । অথচ কোরানে এসেছে । কিন্তু বর্তমানে যদি লক্ষ্য করেন এরকম কুমারী মায়ের অভাব নাই। আপনি বলবেন কিভাবে।উত্তর হলো সারোগেট মাদার বা  কৃত্রিম প্রজনন যেখানে যৌন মিলন ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে  গর্ভধারণ ঘটানোর উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে জরায়ুমুখ বা জরায়ু গহ্বরে শুক্রাণু এবং ডিম্বানু প্রবেশ করানো হয় । এখন তৎকালীন যুগে এই বিষয়টি কাউকে  বুঝানোর জন্য ঈশা ইবনে মরিয়ম অপেক্ষা অধিক গ্রহনযোগ্য  সাদৃশ্য কোন উদাহরন কি ছিল?

দ্বিতীয় স্বপ্ন। যেমন ইউসুফ (আ) এর সপ্ন। যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলল, ‘হে আমার পিতা! আমি স্বপ্নে দেখেছি, এগারোটি নক্ষত্র, সূর্য ও চন্দ্রকে, তাদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায় দেখেছি’।(সূরা ইউসুফ, আয়াত ৪) এখানে নক্ষত্রগুলো তাঁর ১১ ভাই, সূর্য বাবা (ইয়াকুব আঃ) এবং চাঁদ মাতা (রাহেল) এর প্রতীক ছিল। এখানে প্রতিকী অর্থ এসেছে। অন্য দিকে  মিশরের রাজার সপ্ন যা এসেছে ৪৩-৪৯ আয়াতে যা  হযরত ইউসুফ (আ.) কর্তৃক এর ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে। রাজা দেখেন, ৭টি মোটা গরু ৭টি রোগা গরু খেয়ে ফেলছে এবং ৭টি সবুজ শীষের পাশাপাশি ৭টি শুকনা শীষ । ইউসুফ (আ.) ব্যাখ্যা করেন, মিশরে ৭ বছর প্রচুর শস্য উৎপাদন হবে, এরপর ৭ বছর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হবে। এই স্বপ্নটি রুপক অর্থে এসেছে।

উল্লেখিত বক্তব্যের আলোকে এবং আলোচনা সংক্ষিপ্ত রাখার নিরিখে আমরা যদি নিম্ন লিখিত উল্লেখযোগ্য হাদিস সমুহ পর্যালোচনা করি তাহলে দেখবো বাস্তবতার নিরিখে আমাদের এই ধারনাই অধিক যুক্তি সঙ্গত যে দাজ্জাল বলতে হাদিসে কোন একক ব্যক্তি বা মানুষকে নয় বরং ডিজিটাল সিস্টেম এবং এর সঙ্গে যুক্ত একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠিকে বুঝানো হয়েছে।

হাদিস-৩

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.)  বললেন, আমি আজ রাত্রে (স্বপ্নে) দেখেছি যে, আমি কা’বার কাছে উপস্থিত। সেখানে আমি গৌরবর্ণের এক লোককে দেখতে পেলাম। যিনি তোমার দেখা গৌরবর্ণের সর্বাপেক্ষা সুন্দর লোকদের অন্যতম। তার দীর্ঘ চুল ছিল, যা তোমার দেখা সর্বাপেক্ষা সুন্দর বাবরি চুলের অন্যতম ছিল। যেগুলোকে সে আঁচড়িয়ে গোছগাছ করে রেখেছিল উক্ত চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরে পড়ছিল। তিনি দুই ব্যক্তির কাঁধের উপর ভর করে কা’বা ঘরের তাওয়াফ করছিলেন। আমি প্রশ্ন করলাম, এ লোকটি কে? উত্তরে (ফেরেশতাগণ) বললেন, ইনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম। অতঃপর আমি আরেক লোককে দেখলাম, যার কেশ ছিল সম্পূর্ণ কোঁকড়ানো, জটবাঁধা। আর তার ডান চোখ ছিল কানা, দেখতে যেন চক্ষুটি ফোলা আঙ্গুরের মতো। লোকেদের মধ্যে (ইয়াহূদী) ইবনু কতান-এর সাথে যার বাহুলাংশে সাদৃশ্য বা মিল রয়েছে। সেও দুই লোকের কাঁধে ভর করে কা’বা ঘর ত্বাওয়াফ করছে। আমি প্রশ্ন করলাম, এ লোকটি কে? উত্তরে তারা বললেন, এটা মাসীহে দাজ্জাল।  (প্রথম অনুচ্ছেদ – কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা. ৫৪৮৩মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ফিতনা )

হাদিস-৪

ফাত্বিমাহ্ বিনতু কায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে সালাতের জন্য ঘোষণা দিতে শুনতে পেলাম। সালাত শেষ করে তিনি (সা.) মিম্বারে উপবিষ্ট হলেন এবং মুচকি হেসে বললেন, প্রত্যেক লোক নিজ নিজ সালাতের স্থানে বসে থাক। অতঃপর বললেন, তোমরা কি জান, আমি তোমাদেরকে কেন একত্রিত করেছি? সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তিনি (সা.) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে কিছু দেয়ার জন্য বা কোন ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য সমবেত করিনি; তোমাদেরকে একত্রিত করেছি বরং তামীম আদ্ দারী-এর বর্ণিত একটি ঘটনা শুনানোর জন্যই। তামীম আদ দারী ছিলেন একজন খ্রিস্টান, তিনি (আমার নিকট) এসে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি আমাকে এমন একটি ঘটনা শুনিয়েছেন, এটা ঐ কথারই সাথে মিল রাখে যা আমি তোমাদেরকে মাসীহে দাজ্জাল সম্পর্কে বলেছিলাম। তিনি বলেছেন, একবার তিনি ’লাম ও জুযাম’ গোত্রের ত্রিশজন লোকের সঙ্গে একটি সামুদ্রিক নৌকায় সফরে বের হয়েছিলেন। সাগরের ঢেউ তাদেরকে দীর্ঘ একমাস পর্যন্ত এদিক সেদিক ঘুরাতে ঘুরাতে পরিশেষে একদিন সূর্যাস্তের সময় একটি দ্বীপের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে তারা এমন একটি জানোয়ার দেখতে পেলেন যার সমস্ত দেহ বড় বড় পশমে ঢাকা। অধিক পশমের কারণে তার অগ্র-পশ্চাৎ কিছুই নির্ণয় করা যায়নি। তখন তারা তাকে লক্ষ্য করে বললেন, তোর অকল্যাণ হোক! তুই কে? সে বলল, আমি ’জাসসাসাহ্ (অর্থাৎ গুপ্ত সংবাদ অন্বেষণকারিণী)। তোমাদের তথ্যাদি শুনার ও জানার প্রত্যাশী।

তামীম আদ দারী বলেন, উক্ত জন্তুর কাছে লোকটির কথা শুনে তার প্রতি আমাদের অন্তরে ভয় সঞ্চার হলো যে, তা জিন হতে পারে। তখন আমরা দ্রুত সেখানে গেলাম এবং গির্জায় প্রবেশ করে সেখানে এমন একটি প্রকাণ্ড দেহবিশিষ্ট মানুষ দেখতে পেলাম যা ইতোপূর্বে আমরা আর কখনো দেখতে পাইনি। সে ছিল খুব মজবুত করে বাঁধা অবস্থায়, তার হাত ঘাড়ের সাথে এবং হাঁটুদ্বয় নিচের উভয় গিটের সাথে লৌহশিকল দিয়ে একত্রে বাঁধা ছিল। আমরা তাকে বললাম, তোর অকল্যাণ হোক! তুই কে? সে বলল, নিশ্চয় তোমরা আমার সম্পর্কে জানতে পারবে, তবে তোমরা আগে আমাকে বল দেখি তোমরা কে? তারা বললেন, আমরা ’আরবের লোক। আমরা সমুদ্রে একটি নৌকায় আরোহী ছিলাম দীর্ঘ একমাস সাগরের তরঙ্গ আমাদেরকে এদিক-সেদিক ঘুরিয়ে এখানে এনে পৌঁছিয়েছে। অতঃপর আমরা এ দ্বীপে প্রবেশ করার পর সারা দেহ ঘন লোমে আবৃত এমন একটি জন্তুর সাথে আমাদের দেখা হলো। সে বলল, আমি ’জাসসাসাহ্।
সে আমাদেরকে এ গির্জায় আসতে বলায় আমরা দ্রুত তোমার কাছে এসে উপস্থিত হয়েছি।

সে বলল, আচ্ছা তোমরা আমাকে বল দেখি! বায়সান এলাকার খেজুর বাগানে ফল আসে কি? (বায়সান হিজাযের একটি জায়গার নাম) আমরা বললাম, হ্যা, আসে। সে বলল, সেই বাগানের গাছে অদূর ভবিষ্যতে ফল ধরবে না। অতঃপর সে বলল, আচ্ছা বল দেখি! ’তবারিয়্যাহ্’-এর নদীতে কি পানি আছে? আমরা বললাম, হ্যা, তাতে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে। সে বলল, অচিরেই তার পানি শুকিয়ে যাবে। এবার সে প্রশ্ন করল, আচ্ছা বল দেখি! ’যোগার’ ঝরনার পানি আছে কি? আর তথাকার অধিবাসীগণ কি উক্ত ঝরনার পানি দ্বারা তাদের ক্ষেত-খামারে চাষাবাদ করে। অতঃপর সে প্রশ্ন করল, আচ্ছা বল দেখি! উম্মিদের নবীর সংবাদ কী? আমরা বললাম, তিনি মক্কাহ থেকে হিজরত করে বর্তমান ইয়াসরিব (মদীনায় অবস্থান করছেন। সে প্রশ্ন করল, বল দেখি! ’আরবরা কি তার সাথে লড়াই করেছিল? আমরা বললাম, হ্যা, করেছে। সে প্রশ্ন করল, তিনি (সে নবী) তাদের সাথে কি আচরণ করেছেন? এর উত্তরে আমরা বললাম যে, তার আশেপাশের ’আরবদের ওপরে তিনি জয়ী হয়েছেন এবং তারা তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেছে। এতদশ্রবণে সে বলল, তোমরা জেনে রাখ! তার আনুগত্য করাই তাদের পক্ষে কল্যাণজনক হয়েছে।

আচ্ছা এখন আমি আমার অবস্থা বর্ণনা করছি আমি মাসীহে দাজ্জাল, অদূর ভবিষ্যতে আমাকে বের হওয়ার অনুমতি প্রদান করা হবে। আমি বের হয়ে জমিনে বিচরণ করব। মক্কাহ্-মদীনাহ্ ছাড়া এমন কোন জনপদ বাকি থাকবে না, চল্লিশ দিনের মধ্যে যেখানে আমি প্রবেশ করব না। সেই দু স্থানে প্রবেশ করা আমার ওপরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যখনই আমি তার একটিতে প্রবেশ করতে চাইব, তখন নাঙ্গা তরবারি হাতে মালাক (ফেরেশতা) এসে আমাকে প্রবেশ করা হতে বাধা প্রদান করবে। মূলত তার প্রত্যেক প্রবেশ পথে মালাক পাহারারত রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এ পর্যন্ত বর্ণনা করে রাসূলুল্লাহ (সা.) – নিজ লাঠি দ্বারা মিম্বারে টোকা দিয়ে বললেন, এটা ত্বায়বাহ্, এটা ত্বায়বাহ্, এটা ত্বায়বাহ্ (মদীনাহ্)। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, বল দেখি! এর আগে আমি কি তোমাদেরকে এ হাদীস বর্ণনা করিনি? লোকেরা বলল, জী হ্যা। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, দাজ্জাল সিরিয়ার কোন এক দরিয়ায় অথবা ইয়ামানের কোন এক দরিয়ায় আছে। পরে বললেন, না, বরং সে পূর্বদিক হতে আগমন করবে। এ বলে তিনি (সা.) হাত দ্বারা পূর্বদিকে ইঙ্গিত করলেন। (মুসলিম) (প্রথম অনুচ্ছেদ – কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা ৫৪৮২) মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ফিতনা।

অন্য এক বর্ণনাতে এসেছে

ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাঃ) তামীম আদ্ দারী-এর ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, তামীম আদ দারী বলেছেন, সেই দ্বীপে প্রবেশ করলে আমি সেখানে এমন একটি নারীর সাক্ষাৎ পেলাম যার মাথার কেশ এত লম্বা যে, তা জমিনে হিচড়িয়ে চলে। তামীম প্রশ্ন করলেন, তুমি কে? সে বলল, আমি ’জাসসাসাহ্ (গোপন তথ্য অন্বেষণকারিণী)। অতঃপর সে বলল , তুমি এ প্রাসাদের দিকে যাও। অতএব আমি সেখানে আসলাম। সেখানে লম্বা লম্বা চুলবিশিষ্ট এমন এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে দৃঢ়ভাবে লোহার শিকলে বাঁধা, আসমান জমিনের মাঝখানে লাফালাফি করছে। আমি প্রশ্ন করলাম, তুই কে? সে বলল, আমি দাজ্জাল। (সহীহ: আবূ দাউদ ৪৩২৫, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ২০৩৭৩।)

হাদিস-৫

আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আবূ বকর ও ’উমার (রাঃ) -এর সাথে মদীনার কোন এক রাস্তায় ইবনু সাইয়্যাদ-এর সাক্ষাৎ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এ বললেন, তুমি কি এটা সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল? সে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি আল্লাহ প্রতি, তাঁর ফেরেশতগণের প্রতি, তাঁর নাযিলকৃত কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর পাঠানো সমস্ত রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি। অতঃপর রাসূল (সা.) তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি দেখতে পাও? সে বলল, আমি পানির উপরে একখানা সিংহাসন দেখতে পাই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি সাগরের উপর ইবলীসের সিংহাসন দেখ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, তুমি আর কি দেখতে পাও? সে বলল, দু’জন সত্যবাদী এবং একজন মিথ্যাবাদী অথবা বলল, দু’জন মিথ্যাবাদী এবং একজন সত্যবাদীকে দেখতে পাই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও বললেন, বিষয়টি তার উপর হজবরল হয়ে পড়েছে। অতএব তোমরা তাকে পরিত্যাগ কর। (মুসলিম) প্রথম অনুচ্ছেদ – কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা ৫৪৯৫ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ফিতনা।

হাদিস-৬

আবূ বকরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: দাজ্জালের বাপ মা ত্রিশ বছর পর্যন্ত নিঃসন্তান থাকবে। অতঃপর তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবে, যে হবে কানা, লম্বা লম্বা দাঁতবিশিষ্ট ও অকেজো। তার চক্ষুদ্বয় নিদ্রা যাবে কিন্তু তার অন্তর ঘুমাবে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তার পিতামাতার অবস্থা বললেন, তার পিতা হবে পাতলা দেহবিশিষ্ট, ছিপছিপে লম্বা, তার নাক হবে পাখির ঠোটের মতো সরু। আর তার মাতা হবে মোটা দেহবিশিষ্ট, হাত দুইখানা লম্বা লম্বা। আবূ বকরাহ্ (রাঃ) বলেন, মদীনার ইয়াহূদীদের ঘরে (এ জাতীয়) একটি সন্তান জন্ম হওয়ার কথা আমরা শুনতে পেলাম। তখন আমি ও যুবায়র ইবনুল আওয়াম (তাকে দেখতে) গেলাম এবং তার পিতামাতার কাছে পৌছে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের উভয়ের ব্যাপারে যেরূপ বর্ণনা করেছিলেন, তারা হুবহু সেরূপই। অতঃপর আমরা তাদেরকে প্রশ্ন করলাম, তোমাদের কোন সন্তান আছে কি? তারা বলল, ত্রিশ বছর পর্যন্ত আমরা নিঃসন্তান ছিলাম, অতঃপর আমাদের এমন একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, যে কানা, বড় বড় দাঁতবিশিষ্ট ও অপদার্থ। তার চোখ ঘুমায় কিন্তু তার অন্তর ঘুমায় না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা তাদের নিকট থেকে বের হয়ে দেখি যে, সে সন্তান একখানা চাদর মুড়া দিয়ে রৌদ্রের মধ্যে শুয়ে আছে এবং তা হতে গুনগুন শব্দ শুনা যাচ্ছে। তখন সে মাথা থেকে চাদর সরিয়ে বলল, তোমরা দু’জনে কি কথা বলেছ? আমরা প্রশ্ন করলাম, আমরা যা বলেছি তুমি তা শুনেছ? সে বলল, হ্যা শুনেছি। আমার চক্ষুদ্বয় নিদ্রা যায়, কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না। (তিরমিযী) (দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ – ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা ৫৫০৩। মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ফিতনা।

হাদিস-৭

হুযায়ফাহ্ (রাঃ)  হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: দাজ্জালের বাম চোখ কানা, মাথার কেশ অত্যধিক। তার সঙ্গে থাকবে তার জান্নাত ও জাহান্নাম। বাস্তবে তার জাহান্নাম হবে জান্নাত এবং জান্নাত হবে জাহান্নাম। (মুসলিম) প্রথম অনুচ্ছেদ – কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা ৫৪৭৪,মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত) ফিতনা।

হাদিস – ৮

৫৪৯১-[২৮] আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার গৃহে ছিলেন এবং দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বললেন, দাজ্জালের আগমনের পূর্বের তিন বছর এরূপ হবে যে, এটার প্রথম বছর আসমান তার এক-তৃতীয়াংশ বর্ষণ এবং জমিন তার এক-তৃতীয়াংশ ফলন বন্ধ রাখবে। দ্বিতীয় বছর আসমান তার দুই-তৃতীয়াংশ বর্ষণ তার জমিন তার দুই-তৃতীয়াংশ ফলন বন্ধ রাখবে। আর শেষ তৃতীয় বছর আসমান তার সমস্ত বর্ষণ এবং জমিন তার সমুদয় ফলন বন্ধ রাখবে, ফলে ক্ষুরবিশিষ্ট প্রাণী (যেমন- গরু, ছাগল প্রভৃতি) এবং শিকারী দাঁতবিশিষ্ট জন্তু (যেমন- হিংস্র জানোয়ার) নিঃশেষ হয়ে যাবে। দাজ্জালের সর্বাধিক মারাত্মক ফিতনাহ এটা হবে যে, সে কোন বেদুঈনের কাছে এসে বলবে, বল তো, যদি আমি তোমার মৃত উটগুলো জীবিত করে দেই, তাহলে তুমি কি বিশ্বাস করবে যে, আমি তোমাদের প্রভু? সে বলবে, হ্যাঁ, তখন শয়তান তার উটের আকৃতিতে উত্তম স্তন এবং মোটাতাজা কুঁজবিশিষ্ট অবস্থায় সামনে উপস্থিত হবে। তিনি (সা.) বলেন, অতঃপর দাজ্জাল এমন এক ব্যক্তির কাছে আসবে যার ভাই এবং পিতা মারা গেছে। তাকে বলবে, তুমি বল তো, যদি আমি তোমার পিতা ও ভাইদের জীবিত করে দেই তবে কি তুমি আমাকে তোমার প্রভু বলে বিশ্বাস করবে না? সে বলবে, হ্যা, নিশ্চয় বিশ্বাস করব। তখন শায়তান তার পিতা ও ভাইয়ের হুবহু আকৃতি ধারণ করে আসবে। আসমা (রাঃ) বলেন, এ পর্যন্ত আলোচনা করে তিনি (সা.) স্বীয় কোন প্রয়োজনে বাইরে গেলেন, এবং পরে ফিরে আসলেন।এদিকে দাজ্জালের এ সমস্ত তাণ্ডবের কথা শুনে উপস্থিত লোকেরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় পতিত হলো। আসমা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন দরজায় উভয় বাজুতে হাত রেখে বললেন, হে আসমা’! কি হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনায় আপনি তো আমাদের কলিজা বের করে ফেলেছেন। তখন তিনি বললেন, (দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই) সে যদি বের হয় আর আমি জীবিত থাকি, আমিই তখন দলীল-প্রমাণের দ্বারা তাকে প্রতিহত করব। আর যদি আমি জীবিত না থাকি তখন প্রত্যেক মুমিনের সাহায্যকারী হিসেবে আল্লাহই হবে আমার স্থলাভিষিক্ত। আসমা (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ, আমাদের অবস্থা হলো আমরা আটার খামির তৈরি করি এবং রুটি তৈরি করে অবসর হতে না হতেই পুনরায় ক্ষুধায় অস্থির হয়ে পড়ি। অতএব সেই দুর্ভিক্ষের সময় মুমিনের অবস্থা কেমন হবে? জবাবে তিনি (সা.) বললেন, সেই বস্তুই তাদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য যথেষ্ট হবে যা আকাশবাসীদের জন্য যথেষ্ট হয়ে থাকে। আর তা হলো তাসবীহ ও তাক্বদীস (অর্থাৎ আল্লাহর যিকর ও পবিত্রতা বর্ণনা করা)। (আহমাদ, কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা৫৪৯১)

হাদিস-৯

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মক্কা ও মদিনা ব্যতীত এমন কোন শহর নেই যেখানে দাজ্জাল পদচারণ করবে না। মক্কা এবং মদিনার প্রত্যেকটি প্রবেশ পথেই ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে পাহারায় নিয়োজিত থাকবে। এরপর মদিনা তার অধিবাসীদেরকে নিয়ে তিনবার কেঁপে উঠবে এবং আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত কাফির এবং মুনাফিকদেরকে বের করে দিবেন। (৭১২৪, ৭১৩৪, ৭৪৭৩, মুসলিম ৫২/২৪, হাঃ ২৯৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৫৮)

হাদিস-১০

হযরত মুজাম্মি ইবনু জারিয়া আল-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, “ঈসা ইবনে মরিয়ম দাজ্জালকে বাবে লুদে হত্যা করবেন।” (সুনান আত তিরমিজি: ২২৪৪; মুসনাদ আহমদ)

এবার আমরা হাদিস সমুহের বিশ্লেষণ করবো। প্রথমেই আসা যাক (ইয়াহূদী) ইবনু কতান এবং ইবনু সাইয়্যাদ এর বিষয়ে । এটা সরাসরি উল্ল্যেখ নাই যে দুইজন এক ব্যাক্তি নাকি আলাদা দুইজন ব্যাক্তি। তবে হাদিস অনুযায়ী একজন কে রাসুল্লাহ(স) সপ্নে দেখেছেন এবং আরেকজন কে  সরাসরি প্রশ্ন করেছেন এবং পরিত্যাগ করতে বলেছেন। কিন্তু হাদিসে এটাও এসেছে যে লোকেদের মধ্যে (ইয়াহূদী) ইবনু কতান-এর সাথে দাজ্জাল এর বহুলাংশে সাদৃশ্য বা মিল রয়েছে এবং ইবনু সাইয়্যাদই দাজ্জাল।

মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে দেখেছি, তিনি আল্লাহর শপথ করে বলতেন যে, ইবনু সাইয়্যাদই দাজ্জাল। তখন আমি বললাম, আপনি আল্লাহর শপথ করে বলছেন? জবাবে তিনি বললেন, আমি ’উমার (রাঃ) কে এ সম্পর্কে নবী (সা.) -এর সামনে কসম করে বলতে শুনেছি, অথচ নবী (সা.) তাতে কোন আপত্তি করেননি। (বুখারী ও মুসলিম) প্রথম অনুচ্ছেদ – ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা ৫৫০০- মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)ফিতনা।

আবার অন্য হাদিসে এসেছে যা আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি ইবনু সাইয়্যাদ-এর সাথে মক্কার পথে যাত্রী হলাম। সে আমাকে বলল, আমি লোকের পক্ষে থেকে আশ্চর্যজনক ধারণার সম্মুখীন হয়েছি। লোকেরা বলে, আমিই দাজ্জাল। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেননি যে, দাজ্জালের কোন সন্তানাদি হবে না? অথচ আমার সন্তানাদি আছে। এ কথাটি তিনি কি বলেননি যে, সে কাফির? অথচ আমি একজন মুসলিম। তিনি কি এ কথাটি বলেননি যে, সে মক্কাহ্ ও মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না? অথচ আমি মদীনাহ থেকে এসেছি এবং মক্কায় যাচ্ছি। আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, অতঃপর সে আমাকে শেষ কথাটি বলল যে, আল্লাহর শপথ! জেনে রাখুন, আমি তার (দাজ্জালের) জন্ম সময়, জন্মস্থান এবং বর্তমানে সে কোথায় থাকে নিশ্চিতভাবে জানি এবং আমি তার বাপ মাকেও চিনি। রাবী [আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ)] বলেন, তার এই শেষ কথাটি আমাকে সন্দেহে ফেলে দিল। তখন আমি বললাম, তোর সারাদিন অকল্যাণ হোক, তখন (সফর সঙ্গীদের) কেউ বলল, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে যে, তুমিই সেই (ব্যক্তি)? সে বলল, যদি দাজ্জালের পদবি (গুণাবলি) আমাকে প্রদান করা হয়, তাহলে তাকে অপছন্দ করব না। (মুসলিম)প্রথম অনুচ্ছেদ – ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা ৫৪৯৮। মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)ফিতনা।

এখন এখানে প্রশ্ন থেকে যায় যে কেন রাসুল্লাহ (স)  এরকম বলেছেন  যেখানে স্পষ্ট ভাবে তিনি (স) উল্ল্যেখ করেছেন যে দাজ্জাল হবে কানা, তার কপালে কাফের লেখা থাকবে অথচ ইবনু কুতান বা ইবনু সাইয়্যাদ কানা নয় বা দাজ্জাল সম্পর্কে যেসব বর্ণনা এসেছে তার সাথে কোন মিল নেই তার বা তাদের সাথে। অথচ রাসুল্লাহ (স) তাদের সাথেই তুলনা করেছেন। সম্ভবত এর কারন হচ্ছে সপ্ন যা রাসুল্লাহ(স) কে দেখানো হয়েছে ঠিক যেমন ইউসুফ (আ) দেখেছিলেন রুপক বা প্রতিকী হিসেবে যার ব্যাখ্যা ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। প্রথমত ইবনু কুতান ছিলেন ইহুদী ,যা ইহুদী সম্প্রদায় কে নির্দেশ করে , দ্বিতীয়ত ইবনু সাইয়্যাদ যিনি ছিলেন অস্বাভাবিক চরিত্রের অধিকারী যা দাজ্জাল তথা  ডিজিটাল সিস্টেম এবং এর নিয়ন্ত্রক গোষ্ঠীর অস্বাভাবিক কর্মকান্ডের বহিঃপ্রকাশ। একই ভাবে আমরা যদি  হাদিস সমুহ পর্যালোচনা করি তাহলে দেখবো তামিম দারীর হাদিসটিও একটি সপ্ন । কোন বাস্তব ঘটনা নয়। তামিম দারি খ্রিস্টান ছিলেন ।বাইবেলেও দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা এসেছে।এখানে দুইটা জন্তুর কথা বলা হয়েছে।আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করবো।  এখন কেন তামিম দারীর হাদিসটি সপ্ন তা হাদিস সমুহের আলোকে  যুক্তিগ্রাহ্য ভাবে  আমরা চিন্তা করে দেখবো।৬ নং হাদিসটি যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে দেখবো যে দাজ্জাল এর জন্ম নিয়েই এখানে মতভেদ আছে সেক্ষেত্রে তামিম দারী যাকে দ্বীপে দেখেছেন তিনি কে ছিলেন এবং কেনই বা রাসুল্লাহ(স) তাকে হত্যা বা দেখা করার জন্য সেই দ্বীপে যান নাই বা কাউকে পাঠান নাই যেখানে ইবনু সাইয়্যাদ কে নিজে দেখতে গিয়েছিলেন অথচ হাদিস অনুযায়ী তামিম দারী এবং আরো ত্রিশ জন ব্যক্তি সেই দ্বীপে যদিও পথ ভুলে গিয়েছিলেন তবে পুনরায় আরবে ফেরত এসেছিলেন আর যেহেতু ফেরত এসেছিলেন সেহেতু পথ চিনেই ফেরত এসেছিলেন কিন্তু রাসুল্লাহ(স)দাজ্জাল এর অবস্থান সম্পর্কে বলেন দাজ্জাল আছে সিরিয়ার কোন এক দরিয়ায় অথবা ইয়ামানের কোন এক দরিয়ায় আছে। পরে বললেন, না, বরং সে পূর্বদিক হতে আগমন করবে। এ বলে রাসুল্লাহ (সা.) হাত দ্বারা পূর্বদিকে ইঙ্গিত করলেন। এছাড়া শুধু মাত্র তামিম দারী ব্যাতিত আর কেউ ইসলাম গ্রহন করেন নাই বা এই বিষয়ে কোন সাক্ষ্য বা বর্ণনা দেন নাই হাদিস অনুযায়ী এবং যে প্রকান্ড ব্যাক্তির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তাতে তার  চক্ষুষ্মান হওয়াই প্রমানিত হয় কানা নয়। অন্যদিকে গির্জা বা চার্চে তাকে বন্দী করে রাখা হয়েছে বা হয়েছিল  অর্থাৎ আগে সেখানে মানুষ বসবাস করতো কিন্তু এরকম কোন বর্ণনা ইতিহাসে পাওয়া যায় না।  কিন্তু যদি আমরা ইন্টারনেট এর আবিষ্কার দিকে নজর দেই এবং এর মুল নিয়ন্ত্রকের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে কিছুটা হয়ত গির্জা সম্পর্কে ধারনা পাব।

ইন্টারনেট  উদ্ভাবনের প্রাথমিক কারণ ছিল সামরিক। সর্বপ্রথম মার্কিন সামরিক সংস্থা পেন্টাগন বিশ্বব্যাপী নিজেদের অবস্থানগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক গোপন যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য এ ধরনের কোন একটি প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে শুরু করে। তাই তাঁরা ১৯৬০ সালের দিকে কম্পিউটার প্রযুক্তি নিয়ে নতুনভাবে গবেষণা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬২ সালে ডারপা (ডিফেন্স অ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট)- এর একজন অন্যতম আলোচিত এবং প্রথম সারির গবেষক জেসিআর লিকলিডার (JCR Licklider) গ্যালাকটিক নেটওয়ার্ক (Galactic Network) আবিষ্কার করেন।

এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি কম্পিউটারের সঙ্গে অন্য একটি কম্পিউটারের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছিল। আর এই পদ্ধতিকেই মূলত প্যাকেট সুইচিং (Packet Switching) বলা হয়। তবে সেসময় এনএসএফ ইন্টারনেটের দায়িত্ব নেয়। অর্থ্যাৎ ইন্টারনেটের সকল টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেয় এনএসএফ। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা মাত্র ৪টি কম্পিউটারের মধ্যে গড়ে তুলেছিলেন প্রথম অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর তিনটি কম্পিউটার ক্যালিফোর্নিয়ায় ও একটি ছিল উটাই -তে। আর এই যোগাযোগ ব্যবস্থার নাম ছিল ডার্পানেট (DARPANET)।ধীরে ধীরে এই প্রযুক্তির আরো উন্নত করা হয় এবং ১৯৮৯ সালে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এবং এইচটিটিপি আবিষ্কার এবং ১৯৯৩ সালে বিশ্বের প্রথম ওয়েব ব্রাউজার মোজাইক এর আবিষ্কার এর মাধ্যমে ইন্টারনেট জগতে প্রথমবারের মতো ছবি ও লেখাকে একই সঙ্গে একই পেজের মধ্যে দেখানো সম্ভব হয়ে ওঠে।এর ফলে ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে ইন্টারনেটে চাহিদা ক্রমশ বাড়তে শুরু করে।যার ফলে গত শতকের নব্বই দশকের শুরুতে ইন্টারনেটকে জনসাধারণের ব্যবহার যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক (যা মূলত ICANN-এর মতো মার্কিন-ভিত্তিক সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে) ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আর বিশ্বের মানুষ পরিচিত হয় ‘ইন্টারনেট’ নামক একটি নতুন ধারণার সঙ্গে।

চীন এবং বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশের সমর্থনে ,রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটের  দায়িত্ব আইক্যানের (ICANN) মতো বেসরকারি, বহু-অংশীজনভিত্তিক সংস্থা থেকে জাতিসংঘের, বিশেষত এর আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (ITU)-এর হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশসমূহ এবং অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো এর বিরোধিতা করে আসছে।

এখানে একটি বিষয় উল্ল্যেখযোগ্য আর তা হলো জি পি এস বা Global Positioning System। বাংলায় একে বিশ্বজনীন অবস্থান-নির্ণায়ক ব্যবস্থা বলা হয় । এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত একটি উপগ্রহ-ভিত্তিক নেভিগেশন সিস্টেম, যা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে নিখুঁত অবস্থান, গতি এবং সময় নির্ধারণ করতে ব্যবহার করা হয়। এর উপর অন্য কারো নিয়ন্ত্রন নাই।

এবার জাসসা নামক প্রানীটির বিষয়ে আসা যাক, যার বিষয়ে তামিম দারীর হাদিস ব্যাতিত আর কোথাও উল্ল্যেখ পাওয়া যায় না । হাদিসে জাসসা প্রানীটি বা নারী টি এসেছে দাজ্জাল এর আগে যে দাজ্জাল এর সংবাদ প্রদান করেছে । আমরা যদি একটু গভীর ভাবে লক্ষ করি তাহলে দেখবো জাসসা নামের অর্থে এর পরিচয় লুকিয়ে আছে। জাসসা মানে গোপন তথ্য অনুসন্ধানকারী। এখন  তথ্য তা গোপন হোক বা প্রকাশ্য তা  আমরা অনুসন্ধান করে কিভাবে ধারন করি এটা হচ্ছে বিবেচ্য বিষয়। ক্যামেরা বা আলোকচিত্র ধারনকারী যন্ত্র। যা কম্পিউটার এবং টিভির পূর্বে এসেছে এবং এই ডিজিটাল সিস্টেম এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ ।

এবার আসা যাক দাজ্জাল এর পৃথিবীতে অবস্থান এর ব্যাপারে যা আমদের ধারনাকে আরো যোক্তিক ভাবে  প্রমানিত করবে যে দাজ্জাল কোন একক ব্যাক্তি নয়। ২ নং হাদিসে পৃথিবীতে দাজ্জাল এর অবস্থান সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার অবস্থান। যার প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো সাধারন দিনসমূহের মতই হবে।  আল্লাহর রাসুল আরো বলেছেন  যেদিন এক বছরের সমান হবে, সেদিন হিসাবে ঐ দিনের পরিমাণ নির্ধারণ করে সালাত আদায় করতে হবে। তিনি (স) আরো বলেছেন দাজ্জাল এর গতি হবে বাতাসে পরিচালিত মেঘের ন্যায়।। অবশ্য অন্য একটি হাদিসে এসেছে যা,

আসমা বিনতু ইয়াযীদ ইবনুস সাকান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন: দাজ্জাল চল্লিশ বছর জমিনে থাকবে। এর বছর হবে মাসের মতো, মাস হবে সপ্তাহের মতো এবং সপ্তাহ হবে এক দিনের মতো। আর দিন হবে খেজুরের একটি শুকনা ডাল আগুনে পুড়ে নিঃশেষ হওয়ার সময়ের মতো। (শারহুস্ সুন্নাহ্) দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ – কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা ৫৪৮৯-মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)ফিতনা।

হাদিসে উল্ল্যেখিত ৪০ দিন এবং ৪০ বছর দাজ্জালের দুইটি ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানকে নির্দেশ করছে । পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন “নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি রাতকে দিন দিয়ে ঢেকে দেন, তারা একে অন্যকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে এবং সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজি—সবই তাঁর আজ্ঞাবহ। জেনে রাখো, সৃষ্টি এবং আদেশ সবই তাঁর। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ বরকতময়, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।” (সূরা আল-আরাফ:৫৪)।পবিত্র কুরআনে মোট সাতবার এই কথাটি উল্ল্যেখ করা হয়েছে।  এখানে ‘দিন’ (Arabic: Ayyam) অর্থ সাধারণ ২৪ ঘণ্টার দিন নয়, বরং এগুলো হলো দীর্ঘ সময়কাল বা পর্যায়। ইসলামি ঐতিহ্য, কুরআন এবং হাদিসে ‘৪ (চার)৪০’ (চল্লিশ) এবং৭(সাত) ‘৭০’ (সত্তর) সংখ্যা গুলোর বিশেষ তাৎপর্য ও ব্যবহার রয়েছে।  কয়েকটি উদাহরন দেওয়া হোল।

ইসলামে ৪ (চার) সংখ্যার ব্যবহার ও তাৎপর্য:

১. বহুবিবাহের সীমা: কুরআন অনুযায়ী, একজন পুরুষ সর্বোচ্চ ৪ জন স্ত্রী রাখতে পারেন, তবে তা সমান অধিকার নিশ্চিত করার শর্তে (সূরা নিসা, আয়াত ৩)।
২. জান্নাতের নদী: জান্নাতে চার ধরণের নদীর কথা বলা হয়েছে, পানির, দুধের, শরাবের এবং বিশুদ্ধ মধুর নদী।
৩. মানুষের সৃষ্টি: হাদিস অনুযায়ী, মায়ের গর্ভে ভ্রূণ ৪ মাস বয়সে আত্মা পায়।
৪. চার খলিফা: ইসলামের ইতিহাসে প্রধান চারজন খলিফা হলেন আবু বকর (রা.), ওমর (রা.), ওসমান (রা.) এবং আলী (রা.)।
৫. চার মাযহাব: সুন্নি ইসলামে প্রধান ৪টি ফিকহি মাযহাব রয়েছে—হানাফি, শাফেয়ী, মালেকি এবং হাম্বলী।
৬. চার ফেরেশতা: প্রধান চারজন ফেরেশতা হলেন জিবরাঈল (আ.), মিকাঈল (আ.), আজরাঈল (আ.) এবং ইসরাফিল (আ.)

ইসলামে ৪০ (চল্লিশ) এর ব্যবহার ও তাৎপর্য:

১. পূর্ণতা ও পরিপক্কতার বয়স: কুরআন মজিদে বলা হয়েছে, যখন কোনো ব্যক্তি ৪০ বছর বয়সে উপনীত হয়, তখন তার বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক পরিপক্কতা চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছায়।
২. নবুওয়াত প্রাপ্তি: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৪০ বছর বয়সে নবুওয়াত লাভ করেন ।
৩. মূসা (আ.) এর তুর পাহাড়ে অবস্থান: আল্লাহ তায়ালা মূসা (আ.) কে ৩০ রাত এবং পরে আরও ১০ রাত (মোট ৪০ রাত) ইবাদতের জন্য তুর পাহাড়ে ডেকেছিলেন ।
৪. ভ্রূণের বিকাশ: হাদিস অনুযায়ী, মায়ের গর্ভে ভ্রূণ ৪০ দিন করে তিনটি পর্যায়ে (মোট ১২০ দিন) পূর্ণতা পায় এবং এরপর আত্মা ফুঁকে দেওয়া হয় ।
৫. ৪০ দিনের ইবাদত: টানা ৪০ দিন জামাতের সাথে তাকবীরে উলার সাথে নামাজ পড়লে নিফাক ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরওয়ানা পাওয়া যায় বলে হাদিসে বর্ণিত আছে ।
৬. আধ্যাত্মিক সাধনা (চিল্লা): সুফি ও তাসাউফ পন্থীদের মতে, আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য ৪০ দিনের চিল্লা বা ইবাদত খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

ইসলামে ৭ (সাত) সংখ্যার ব্যবহার ও তাৎপর্য:

১. আসমান ও জমিন: আল্লাহ তাআলা ৭ আসমান ও ৭ জমিন সৃষ্টি করেছেন (সূরা তালাক, আয়াত ১২)।
২. কুরআনের আয়াত: পবিত্র কুরআনের প্রথম সুরা, ‘সূরা ফাতিহা’, ৭টি আয়াত বিশিষ্ট।
৩. হজের বিধান: হজ ও ওমরাহ পালনকালে কাবা শরিফ ৭ বার প্রদক্ষিণ (তাওয়াফ) করা এবং সাফা-মারওয়া   পাহাড়ে ৭ বার সাঈ করা ওয়াজিব।
৪. সাতটি জাহান্নাম: জাহান্নামের ৭টি স্তর বা দরজা রয়েছে।
৫. মুশকিলাত থেকে মুক্তি: হাদিসে ৭টি বিশেষ আমলের কথা বলা হয়েছে যা মানুষকে ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বাঁচায়।
৬. শিশুর আকিকা: জন্মের ৭ম দিনে শিশুর আকিকা দেওয়া সুন্নত

ইসলামে ৭০ (সত্তর) এর ব্যবহার ও তাৎপর্য:

১. আধিক্য বা অগণিত বোঝাতে: আরবি ভাষায় ৭০ সংখ্যাটি প্রায়শই অগণিত বা অনেক বেশি বোঝাতে ব্যবহৃত হয় ।
২. ক্ষমা ও ক্ষমা প্রার্থনা: আল্লাহ বলেন, মুনাফিকদের জন্য যদি ৭০ বারও ক্ষমা চান, তবুও আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না (সূরা তওবা-৮০)। এখানে ৭০ দ্বারা ক্ষমার চূড়ান্ত সীমা বোঝানো হয়েছে ।
৩. ইবাদতের সওয়াব বৃদ্ধি: রমজান মাসে বা বিশেষ আমলের সওয়াব ৭০ গুণ বা তার চেয়ে বেশি বাড়িয়ে দেওয়া হয় ।
৪. জাহান্নামের শৃঙ্খলা: অবাধ্যদের জাহান্নামে ৭০ হাত দীর্ঘ শৃঙ্খলে বাঁধা হবে বলে উল্লেখ আছে ।
৫. ৭০ হাজার ফেরেশতা: বিশেষ জিকির বা আমলকারী ব্যক্তির জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা দোয়া করেন ।

সংক্ষেপ বললে ইসলামে ৪০ সাধারণত জীবনের পূর্ণতা বা একটি নির্দিষ্ট সময়কাল বোঝাতে এবং ৭০ সওয়াব বা শাস্তির আধিক্য ও চূড়ান্ত সীমা বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং অন্যদিকে ৪ সংখ্যাটি মূলত মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় আইনের ভারসাম্য এবং ৭ সংখ্যাটি আল্লাহর সৃষ্টি ও ইবাদতের পূর্ণতাকে নির্দেশ করে।। আমরা যদি এখন ২ নং হাদিস অনুযায়ী দাজ্জাল এর  অবস্থান কালের দিকে দৃষ্টি দেই তাহলে এই ৪০ দিন বলতে একটি সময় কালকে বুঝানো হয়েছে যা কয়েকটি পর্যায়ে বিভক্ত যেমন কোরানে বলা হয়েছে আল্লাহতায়ালা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। এখন আমরা যদি কম্পিউটার এর চিপ বা মাইক্রো প্রসেসর আবিষ্কার এর দিকে দেখি তাহলে দেখবো কম্পিউটার চিপ (ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট) ১৯৫৮ সালে টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস-এর জ্যাক কিলবি এবং ১৯৫৯ সালের শুরুর দিকে স্বতন্ত্রভাবে ফেয়ারচাইল্ড সেমিকন্ডাক্টর-এর রবার্ট নয়েস আবিষ্কার করেন। কিলবি ১৯৫৮ সালের সেপ্টেম্বরে জার্মেনিয়াম দিয়ে তৈরি প্রথম কার্যকরী মনোলিথিক ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট প্রদর্শন করেছিলেন, অন্যদিকে নয়েস প্ল্যানার প্রসেস ব্যবহার করে আরও ব্যবহারোপযোগী সিলিকন-ভিত্তিক চিপ তৈরি করেছিলেন।এই আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে ইন্টেল (Intel) মাইক্রোপ্রসেসর তৈরি করে.  মুলত এখান থেকেই শুরু। সফটওয়্যার, বা হার্ডওয়্যার যেদিক দিয়েই হিসেব করেন তিনটি পর্যায়ই পরিলক্ষিত হবে অর্থাৎ হাদিসে যেভাবে বর্ণিত আছে। প্রথমে যদি আমরা হার্ডওয়্যর এর দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখব ডেস্কটপ তারপর ল্যাপটপ এবং পরবর্তীতে পাম্পটপ বা মোবাইল। অন্যদিকে যদি সফটওয়্যার এর দিকে যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখব ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম, উইন্ডোজ এবং এন্ড্রয়েড। এখন আসা যাক সময় বা পর্যায় । আমরা যদি গভীর ভাবে চিন্তা করি তাহলে দেখবো ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম একটা দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল। যা হাদিসে একদিন কে এক বছরের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এরপর উইন্ডোজ  সিস্টেম যেখানে একদিনকে এক মাসের সাথে তুলনা করা হয়েছে । সবার শেষে এন্ড্রয়েড বা মোবাইল ফোন যা একদিন কে এক সপ্তাহের সাথে তুলনা করা হয়েছে। অন্য দিন গুলকে সাধারন দিনের সাথে তুলনা করা হয়েছে। যেখানে নতুন কিছু নয় বরং এই সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের উন্নত করনকেই বুঝানো হয়েছে। অন্যকিছু নয়। সবচেয়ে বড় কথা মনে রাখতে হবে যে বাস্তবে পৃথিবীতে কখনই এক দিন এক বছরের সমান হতে পারে না। দিন রাত্রির পরিবর্তন কখনই ব্যাতিক্রম হওয়া সম্ভব না বিজ্ঞান সম্মত ভাবে । কারন এর সাথে সৃষ্টি জগতের অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িত।  কোরানে যেমন বলেছে , “ইয়াসিন। বিজ্ঞানময় কুরআনের শপথ।” (সুরা ইয়াসিন ৩৬- ১,২) । “নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯০) অন্য আয়াতে এসেছে “তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।” (সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩৩)

এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসবে যে তাহলে কেন সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে হিসেব করতে বলা হয়েছে? এর কারন অন্য কিছু নয় বরং মানুষের যাতায়াত এর মাধ্যম এবং এর ফলাফল।এ কারনেই হাদিসে বলা হয়েছে দাজ্জাল চল্লিশ বছর জমিনে থাকবে। এর বছর হবে মাসের মতো, মাস হবে সপ্তাহের মতো এবং সপ্তাহ হবে এক দিনের মতো। আর দিন হবে খেজুরের একটি শুকনা ডাল আগুনে পুড়ে নিঃশেষ হওয়ার সময়ের মতো। আগে যেখানে যেতে সপ্তাহ, মাস বা বছর লেগে যেত এখন সেখানে দিনে দিনে চলে যাওয়া যায়।যেমন বাংলাদেশ থেকে ১৯৭২ সালেও জাহাজে করে সমুদ্র পথে হজে যেতে হয়েছে এবং ধীরে ধীরে প্রযুক্তির উন্নতি এবং সহজলভ্যতার কারনে  জাহাজের পরিবর্তে এখন বিমানে করে হজে বা যেকোন জায়গায় যাওয়া যায়। এখন কেন সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে হিসাব করতে বলা হয়েছে তা আমরা  দুইটি উদাহরনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করবো। প্রথমেই আসা যাক বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যাওয়া এবং আসা। আমরা যদি  দুপুর ১ টায় যোহরের নামাজ পড়ে ঢাকা থেকে সৌদি আরব এর রিয়াদের উদ্দেশ্যে প্লেনে রওনা করি  এপ্রিল মাসে এবং প্রায় ৬ ঘন্টার বেশি সময় ভ্রমনের পর যখন সৌদি আরব পৌঁছাব তখন স্বাভাবিক ভাবে আমাদের আসর এবং মাগরিবের নামাজ  পড়ে এশার নামাজ পড়ার কথা । কিন্তু সৌদি আরবে  তখন জোহরের ওয়াক্ত চলছে কারন টাইম জোন। সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে তিন ঘন্টা পিছিয়ে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি করবো। আসর,মাগরিবের নামাজ আবার পড়বো নাকি পড়বো না জামাতে। এবার যদি আমরা বিকাল ৫ টায় আসরের নামাজ পড়ে আবার বাংলাদেশ এর উদ্দ্যেশে রওনা দেই তাহলে ৬ ঘন্টা ভ্রমনের পর আমরা যখন পুনরায় ঢাকায় পৌঁছাব তখন মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হয়ে এশার ওয়াক্ত  শেষ হয়ে তাহাজ্জুদ এর ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাবে । উক্ত ক্ষেত্রে আমাদের কি করা উচিৎ। অনেকে বলবে যে আমরা প্লেনে নামাজ পড়ে নিব কিন্তু এখানে দুইটা সমস্যা। ১ম হচ্ছে দিক এবং ২য় হচ্ছে টাইম জোন। প্লেনে দিক বা কেবলা কিভাবে নির্ধারণ করা হবে তা যেমন একটা সমস্যা ঠিক তেমনি টাইম জোন হচ্ছে আরেকটি সমস্যা। এটা কোন গাড়িতে বসে বা জন্তুর উপর বসে নামাজ পড়ার ন্যায় নিয়মাধীন নয়,যদিও ফতোয়া আনুযায়ী নামাজ পড়া যাবে প্লেনে , কারন প্লেনে আপনার ভ্রমনের সময় আপনি যে টাইম জোন এ আছেন সেখানে হয়তো মাগরিবের ওয়াক্ত চলছে অথচ আপনি তখন আসরের নামাজ পড়ছেন ঘড়ির সময় অনুযায়ী। এবার আসা যাক বাংলাদেশ থেকে কানাডা প্লেন যাত্রা । সাধারনত সরাসরি বিমান যাত্রায়  সময় লাগে প্রায় ১৮ ঘন্টা এবং ঢাকা থেকে কানাডার সময়ের পার্থক্য ১১ ঘন্টা। এখন কেউ যদি ঢাকা থেকে কানাডার উদ্দেশ্যে এশার নামাজ পড়ে রাত ১২ টার দিকে  রওনা দেয় তাহলে সে যখন কানাডা পৌঁছাবে তখন প্রায় আবার এশার নামাজ এর সময় হয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু বাস্তবে সে কানাডা তে যখন পৌঁছাবে তখন সকাল এবং তার শুধু ফজরের নামাজ কাজা হবে। অন্যদিকে যদি সে এরপরই অর্থাৎ ফজরের নামাজ পড়ে ২০ তারিখে  কানাডা হতে বাংলাদেশ এর উদ্দ্যেশে রওনা দেয় এবং ১৮ ঘন্টা ভ্রমনের পর যখন বাংলাদেশ এ পৌঁছাবে তখন সে ২১ তারিখে বাংলাদেশ অবস্থান করবে এবং তখন একদিন পার হয়ে আরেকদিন এর জোহরের ওয়াক্ত হয়ে যাবে। উক্ত ক্ষেত্রে তার বা তাদের  নামাজ এর হিসাব কি হবে যদিও সে বা তারা প্লেনে নামাজ পড়ে।

এখন আসা যাক দাজ্জালের গতির বিষয়ে। দুই নং হাদিসে বলা হয়েছে দাজ্জালের গতি হবে বাতাস চালিত মেঘ এর ন্যায়। অন্য এক হাদিসে এসেছে।

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: দাজ্জাল একটি ধবধবে সাদা বর্ণের গাধায় আরোহী হয়ে বের হবে। তার দু কানের মধ্যবর্তী স্থানটি সত্তর হাত (দূরত্ব) পরিমাণ চওড়া হবে। (বায়হাক্বী’র “কিতাবুল বা’সি ওয়ান্ নুশূর”) তৃতীয় অনুচ্ছেদ – কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা ৫৪৯৩- মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)  ফিতনা।

এখন বাস্তবতার নিরিখে উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এবং কোরানের আলোকে যদি আমরা পর্যালোচনা করি তাহলে বায়ু চালিত মেঘ বলতে বজ্রমেঘ বা কিউমুলোনিম্বাস মেঘ কে বুঝানো হয়েছে কারন বায়ু চালিত মেঘ এবং বজ্রপাতের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও সরাসরি। সহজ কথায়, বাতাস যখন খুব দ্রুত উপরে ওঠে এবং মেঘের ভেতর সংঘর্ষ সৃষ্টি করে, তখন বজ্রপাতের জন্ম হয়। অর্থাৎ বিদ্যুৎ এবং এর গতিকে বুঝানো হয়েছে যা কম্পিউটার ইন্টারনেট টিভি বা  মোবাইল এর চালিকা শক্তি।  নাহলে কোন মানুষের পক্ষে বাতাস চালিত মেঘের গতি অর্জন সম্ভব নয়। ঠিক তেমনি এমন কোন গাধার কথা বাস্তবতার আলোকে চিন্তাও করা যায় না যার দুই কানের দূরত্ব ৭০ হাত লম্বা । কিন্তু যদি প্রতিকী হিসেবে ধরা হয় সেক্ষেত্রে আলাদা কথা।কোরানে এসেছে পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।”সূরা লুকমানের ১৯”। এখন আমরা যদি গাধা গ্রহন না করে স্বর গ্রহন করি সেক্ষেত্রে এর উত্তর পাওয়া যাবে।ইংলিশ ফোনেটিক অ্যালফাবেট (Phonetic Alphabet) মূলত দুই ধরনের: আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা (IPA) যা উচ্চারণের জন্য এবং NATO ফোনেটিক বর্ণমালা যা রেডিও যোগাযোগে বর্ণ স্পষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। কম্পিউটার টাইপিং বা শেখার জন্য IPA সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যা ৪৪টি শব্দের ধ্বনি (phonemes) নির্দেশ করে।কম্পিউটারে ইংরেজি সঠিক উচ্চারণের জন্য IPA ব্যবহার করা হয়, কারণ ইংরেজি বানান সবসময় উচ্চারণের সাথে মেলে না। এবার আশা যাক গাধার কান এর ক্ষেত্রে যার মাঝের দূরত্ব ৭০ হাতের কথা বলা হয়েছে। এখন আমরা যদি মোবাইল টাওয়ার বা ইন্টারনেট সার্ভার এর দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখবো একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর এদের অবস্থান  আর যেহেতু শ্রবন শক্তির সাথে এর সম্পর্ক তাই কান এখানে প্রতিকী অর্থে এসেছে।

এখানে একটি বিষয় উল্ল্যেখ করতে হচ্ছে টাইম ডাইলেশন বা কাল দীর্ঘায়ন।

টাইম ডাইলেশন প্রধানত দুটি কারণে ঘটে:
১. গতিজনিত সময় প্রসারণ (Special Relativity):
কোনো বস্তু যত বেশি গতিতে (আলোর গতির কাছাকাছি) চলে, তার জন্য সময় তত ধীরে চলে।
উদাহরণ: একটি মহাকাশযান যদি খুব দ্রুত গতিতে মহাকাশে ঘুরে আসে, তবে মহাকাশযানের আরোহীর কাছে যে সময় অতিবাহিত হয়েছে, পৃথিবীতে থাকা তার যমজ ভাইয়ের কাছে তার চেয়ে বেশি সময় পার হয়েছে।

২. মহাকর্ষীয় সময় প্রসারণ (General Relativity):
যেখানে মহাকর্ষীয় বল বা গ্রাভিটি যত বেশি শক্তিশালী (যেমন ব্ল্যাক হোলের কাছে), সেখানে সময় তত বেশি ধীরে চলে।
উদাহরণ: পৃথিবীর পৃষ্ঠের চেয়ে মহাকাশে (যেখানে মহাকর্ষ কম) সময় দ্রুত চলে। জিপিএস (GPS) স্যাটেলাইটগুলোর ঘড়ি পৃথিবীর ঘড়ির চেয়ে সামান্য দ্রুত চলে, যা হিসাব না করলে জিপিএস কাজ করবে না। ভূপৃষ্ঠের তুলনায় জিপিএস স্যাটেলাইটগুলোতে সময় প্রতিদিন প্রায় ৩৮ মাইক্রোসেকেন্ড দ্রুত চলে।

এখন ডিজিটাল সিস্টেমের কল্যানে আমরা টাইম ডাইলেশন এর বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি।

এবার আশা যাক দাজ্জাল এর বর্ণনা । ১ নং হাদিসে বলা হয়েছে দাজ্জাল নিশ্চয় কানা হবে। দাজ্জাল এর দুই চোখের মাঝে লেখা থাকবে কাফ-ফা-রা অর্থাৎ কাফের। অন্যদিকে,

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দাজ্জালের ডান চোখ কানা হবে। তার দৃষ্টিহীন চক্ষুটি স্ফীত আঙ্গুর ফলের মত দৃশ্যমান হবে। (সহীহ বুখারী; হাদীস ৬৫৯০)।

আবার আরেকটি হাদিস যা হযরত হুযাইফা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাজ্জালের বাম চক্ষু কানা হবে। সে এলোকেশী হবে। তার সাথে কৃত্রিম জান্নাত-জাহান্নাম থাকবে। তার জাহান্নাম হবে জান্নাত আর জান্নাত হবে জাহান্নাম। (সহীহ মুসলিম; হাদীস ৭৫৫১)

দেখা যাচ্ছে যে একটি হাদিসে এসেছে দাজ্জাল এর ডান চোখ কানা এবং আরেকটি হাদিসে এসেছে তার বাম চোখ কানা এবং তার দৃষ্টিহীন চক্ষুটি স্ফীত আঙ্গুর ফলের মত দৃশ্যমান হবে।দাজ্জাল কানা হওয়ার বিষয়টি  প্রতিকী অর্থে এসেছে। মানুষের চোখ প্রধানত দেখার ইন্দ্রিয় হিসেবে কাজ করে, যা আলো ও রঙ শনাক্ত করে মস্তিষ্কে ভিজ্যুয়াল তথ্য পাঠায়। এটি কাছের ও দূরের বস্তু ফোকাস করা, বস্তুর আকার, গভীরতা (3D ভিশন) এবং গতিবিধি বুঝতে সাহায্য করে। চোখ বাইরের জগত থেকে আলো গ্রহণ করে এবং প্রতিবিম্ব তৈরির মাধ্যমে আমাদের দেখতে সাহায্য করে। এখন যদি আমরা একটি মনিটর বা টিভির মোবাইল ফোনের দিকে মনোনিবেশ করি তাহলে দেখবো মানুষ এখান থেকে আলো গ্রহন করে প্রতিবিম্ব তৈরির মাধ্যমে দেখছে । কিন্তু যখন বিদ্যুৎ থাকে না বা বন্ধ করে রাখা হয় বা নষ্ট হয়ে যায় তখন এর কোন ব্যবহার নাই বা কানা। এর মুল ব্যবহারই চোখের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। এজন্যই রাসুল্লাহ (সা) হাদিসে রাব্বুল আলামিনের সাথে তুলনা করে বলেছেন তোমাদের রব কানা নন। কারন কোরানে এসেছে “তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্ত তাঁরই” (সুরা বাকারা আয়াত-২৫৫)। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন  সুরা নিসা- ৫৮)। এখন আমরা যদি একটি মনিটর বা টিভি বিশেষ করে সি আর টি (Cathode Ray Tube)মনিটর বা টিভি এর  রঙ এবং গঠন এর দিকে নজর দেই তাহলে এলোকেশী চুল এবং স্ফীত আঙ্গুর ফলের মত দৃশ্যমান বলার কারন খুজে পাব। আর কপালে কাফের লেখা থাকার অর্থ ও মুলত এই কারনে যে কোন মোবাইল, টিভি বা মনিটর এর ইসলামিক নাম কেউ পাবে না।

এবার আমারা দাজ্জালের পূর্বে পৃথিবীর অবস্থা সম্পর্কে আলচনা করবো। ৮ নং হাদিসে এসেছে দাজ্জালের আগমনের পূর্বের তিন বছর এরূপ হবে যে, এটার প্রথম বছর আসমান তার এক-তৃতীয়াংশ বর্ষণ এবং জমিন তার এক-তৃতীয়াংশ ফলন বন্ধ রাখবে। দ্বিতীয় বছর আসমান তার দুই-তৃতীয়াংশ বর্ষণ তার জমিন তার দুই-তৃতীয়াংশ ফলন বন্ধ রাখবে। আর শেষ তৃতীয় বছর আসমান তার সমস্ত বর্ষণ এবং জমিন তার সমুদয় ফলন বন্ধ রাখবে, ফলে ক্ষুরবিশিষ্ট প্রাণী (যেমন- গরু, ছাগল প্রভৃতি) এবং শিকারী দাঁতবিশিষ্ট জন্তু (যেমন- হিংস্র জানোয়ার) নিঃশেষ হয়ে যাবে। এখন আমরা যদি ইউসুফ (আ) এর সপ্নের ন্যায় প্রতিকী অর্থ গ্রহন করি তাহলে আমরা গত শতাব্দীর তিনটি ঘটনা কে এক করতে পারি যেখানে একটি দেশ পরিপূর্ণ ভাবে জড়িত এবং বাস্তবে কিছুটা এরকম ই ঘটেছে। দেশটি হলো জার্মানি । প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ, এবং পরিশেষে বার্লিন ওয়ালের পতন অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং দুই জার্মানির পুনর্মিলন এবং এর ফলে  ‘শ্রেষ্ঠত্ব’ বা চরমপন্থী জাতীয়তাবাদী আচরণ সেখানে রক্ষণশীলভাবে দমন করা হয়। অর্থাৎ বিশ্ব মোড়ল এর অধীনে চলে যায় এবং ইহুদি বিদ্বেষ এর পরিবর্তে ইহুদি পালন শুরু হয় ।

এবার আসা যাক দাজ্জালের সময় পৃথিবীর অবস্থা সম্পর্কে । ২নং  হাদিসে এসেছে যে দাজ্জাল কোন এক সম্প্রদায়ের নিকট এসে তাদেরকে কুফরীর দিকে আহবান করবে। তারা তার উপর ঈমান আনয়ন করবে এবং তার ডাকে সাড়া দিবে।অন্যদিকে আরেকটি হাদিসে এসেছে যা

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইস্ফাহানের (ইরানের একটি প্রসিদ্ধ শহরে)র সত্তর হাজার ইয়াহুদী দাজ্জালের অনুসরণ করবে; তাদের কাঁধে থাকবে ত্বাইলেসী রুমাল।দাজ্জাল ও তার পরিচয়  (৩৮৫৫)(মুসলিম ২৯৪৪)।

প্রথমেই আসা যাক  ইস্ফাহানের ৭০ হাজার ইহুদিদের বিষয়ে। এখানে প্রথমেই মনে রাখতে হবে ইসলামে ৭০ সংখ্যার ব্যবহার যা সওয়াব বা শাস্তির আধিক্য ও চূড়ান্ত সীমা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।দ্বিতীয়ত ইস্ফাহান এর ইহুদীদের গুরুত্ব। ঐতিহাসিক মতে,  নবুখদ্নেৎসর বা বখতে নসর বা দ্বিতীয় নেবুচাদনেজাতিনি বাইতুল মুকাদ্দাস ধ্বংস করেন এবং বনি ইসরাইলদের সেখান থেকে বিতাড়িত করেন ।  তার ভয়ে  ইহুদিরা জেরুজালেম থেকে পালিয়ে গিয়েছিল, তখন তারা জেরুজালেমের মাটি ও জল সঙ্গে নিয়েছিল। তারা ইস্পাহান শহরে না পৌঁছানো পর্যন্ত বসতি স্থাপন করেনি, কারণ এখানকার মাটি ও জল জেরুজালেমের অনুরূপ বলে তারা মনে করত। আমরা যদি হাদিসটি রুপক অর্থে গ্রহন করি এবং ইস্ফাহানের পরিবর্তে ইসরায়েল কে ধরি তাহলে  আমরা বাস্তবের সাথে মিল খুজে পাব উভয়ক্ষেত্রে ।  ইস্ফাহান হচ্ছে ইরানের একটি অঞ্চল । ইস্ফাহানে বর্তমান ইহুদি জনসংখ্যা হচ্ছে ৮০০০ এবং সমগ্র ইরানের প্রায় ২৫০০০ অন্যদিকে  ইসরায়েল এর জনসংখ্যা হচ্ছে ১ কোটি ২৫ লাখ, যেখানে ২য় বিশ্ব যুদ্ধের পর প্রায় সমগ্র বিশ্বের ইহুদিরা একত্রিত হয়েছে, যারা জেরুজালেম দখল করে বসতি স্থাপন করছে এবং এখানে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস ভেংগে ইহুদি টেম্পল তৈরি করতে চায় এবং তারা বিশ্বের অধিকাংশ বড় বড় কম্পিউটার প্রযুক্তি তথা টেক কোম্পানির মালিক।

এবার আসা যাক দাজ্জাল এর সময় পৃথিবীর পরিবেশগত এবং জীব জানোয়ার এর অবস্থা সম্পর্কে । ২ নং হাদিসে এসেছে দাজ্জাল আকাশকে হুকুম করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দিবে , ভূমি গাছ-পালা ও শষ্য উদগত করবে।এরপর সন্ধ্যায় তাদের গবাদী পশুগুলো পূর্বের তূলনায় অধিক লম্বা, কুঁজ, প্রশস্ত স্তন এবং উদরপূর্ণ অবস্থায় তাদের নিকট ফিরে আসবে।

প্রথমত আসা যাক বৃষ্টির ক্ষেত্রে । এখানে দুইটি ঘটনা আমরা বলতে পারি। প্রথম আবহাওয়ার পূর্বাভাস। দ্বিতীয় কৃত্রিম বৃষ্টি বা ‘ক্লাউড সিডিং’ (Cloud Seeding)। ক্লাউড সিডিং হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মেঘের ওপর সিলভার আয়োডাইড, ড্রাই আইস (কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড) বা লবণের কণা ছড়িয়ে জোরপূর্বক বৃষ্টি নামানোর প্রক্রিয়া । বিমান, ড্রোন বা রকেটের সাহায্যে এই রাসায়নিকগুলো মেঘে মিশিয়ে দেওয়া হয়, যা জলীয় বাষ্পকে ঘনীভূত করে পানির ফোঁটায় পরিণত করে এবং শেষে ভারী হয়ে বৃষ্টি হিসেবে ঝরে পড়ে। ঠিক তেমনি আমরা যদি  কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থা এবং জিনগতভাবে পরিবর্তিত খাদ্য (Genetically Modified Food) এর দিকে নজর দেই যেখানে উদ্ভিদ, প্রাণী বা অণুজীব এর  জিনগত উপাদান (DNA) প্রকৌশলগত কৌশল ব্যবহার করে পরিবর্তন করা হয়। যার  মাধ্যমে আগাছানাশক প্রতিরোধ ক্ষমতা, কীটপতঙ্গ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা উন্নত পুষ্টিগুণের মতো কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়। এর ফলে খরার সময় বা অনুর্বর ভুমিতে  ফসল উৎপাদন তো সম্ভব হচ্ছেই সাথে মরুভুমিতেও উদ্ভিত জন্মানো সম্ভব হচ্ছে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরন হচ্ছে সৌদি আরবের মরুভূমিতে বনাঞ্চল বা সবুজের সৃষ্টি  যা এখন বাস্তব রূপ নিচ্ছে। গ্রিন সৌদি ইনিশিয়েটিভ (GSI)-এর অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা চলছে । অত্যাধুনিক ক্লাউড সিডিং প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত এবং মাটির নিচে পানির রিজার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমে মরুভূমি সবুজায়ন করা হচ্ছে। একই ভাবে কৃত্রিম প্রজনন বা প্রাণী সংকরায়ন যেখানে একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন জাতের প্রাণীর মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রজনন ঘটানো,  যেখানে মূল লক্ষ্য হলো পিতামাতার চেয়ে উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সন্তান উৎপাদন করা, যাকে প্রায়শই ‘সংকর তেজ’ বা হেটেরোসিস বলা হয়। এর সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে উন্নত স্বাস্থ্য, জীবনধারণ ক্ষমতা এবং মাংস বা দুধের বর্ধিত উৎপাদন। উদাহরন স্বরূপ কৃষি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য জো তথা ইয়াক ও গরুর সংকর  এবং দ্রুত বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন জাতের শূকর।

২নং হাদিসে আরো এসেছে যে দাজ্জাল অপর এক সম্প্রদায়ের নিকট আসবে এবং তাদেরকে কুফুরীর প্রতি আহবান করবে। তারা তার কথাকে উপেক্ষা করবে। ফলে সে তাদের নিকট হতে ফিরে চলে যাবে। অমনি তাদের মাঝে দুর্ভিক্ষ ও পানির অনটন দেখা দিবে এবং তাদের হাতে তাদের ধন-সম্পদ থাকবে না। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে উহাকে সম্মোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন যমীনের ধন-ভাণ্ডার বের হয়ে তার অনুগমন করবে,যেমন মৌমাছি তাদের সর্দারের অনুগমন করে।

এখন আমরা যদি মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থার দিকে নজর দেই এবং ইরান এর কথা বিবেচনায় আনি এবং একই সাথে অন্যান্য আরব দেশ গুলোর দিকে নজর দেই তাহলে আমরা হাদিসের সত্যতা সহজেই দেখতে পাই যেখানে তেল হচ্ছে সেই গুপ্ত ধন আর মরুভুমি হচ্ছে সেই পতিত জমি আর মার্কিন ডলার হচ্ছে হাদিসে বর্ণিত মৌমাছি সর্দার।

অন্যদিকে ৮ নং হাদিসে এসেছে দাজ্জালের সর্বাধিক মারাত্মক ফিতনাহ এটা হবে যে, সে কোন বেদুঈনের কাছে এসে বলবে, বল তো, যদি আমি তোমার মৃত উটগুলো জীবিত করে দেই, তাহলে তুমি কি বিশ্বাস করবে যে, আমি তোমাদের প্রভু? সে বলবে, হ্যাঁ, তখন শয়তান তার উটের আকৃতিতে উত্তম স্তন এবং মোটাতাজা কুঁজবিশিষ্ট অবস্থায় সামনে উপস্থিত হবে। তিনি (সা.) বলেন, অতঃপর দাজ্জাল এমন এক ব্যক্তির কাছে আসবে যার ভাই এবং পিতা মারা গেছে। তাকে বলবে, তুমি বল তো, যদি আমি তোমার পিতা ও ভাইদের জীবিত করে দেই তবে কি তুমি আমাকে তোমার প্রভু বলে বিশ্বাস করবে না? সে বলবে, হ্যা, নিশ্চয় বিশ্বাস করব। তখন শায়তান তার পিতা ও ভাইয়ের হুবহু আকৃতি ধারণ করে আসবে। এখন কোরান বলে “এটা এজন্য যে, আল্লাহই সত্য এবং তিনিই মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। এবং অবশ্যই কিয়ামত আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই; আর আল্লাহ অবশ্যই কবরে যারা আছে তাদের পুনরুত্থিত করবেন।” (সুরা হাজ্জ -আয়াত: ৬,৭) অন্যদিকে সুরা ইয়াসিনে এসেছে “সে বলে, ‘কে হাড়গুলোকে জীবিত করবে যখন সেগুলো জরাজীর্ণ হয়ে যাবে?’ বলুন, ‘যিনি ওগুলোকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তিনিই ওগুলোকে জীবিত করবেন।”(আয়াত: ৭৮-৭৯)। অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ মৃতকে পুনরায় জীবিত করতে পারে না। কিন্তু হাদিসে এসেছে শয়তান রুপ ধারন করে আসবে। এটা যেমন অযৌক্তিক তেমনি অবাস্তব । কারন পূর্বেই  কোরানের সূরা আয-যুখরুফ-এর ৩৩ থেকে ৩৫ নম্বর আয়াতে আমরা দেখেছি যেখানে সৃষ্টির সীমাবদ্ধতা উল্ল্যেখ করা হয়েছে এবং একই সাথে এটি  বিজ্ঞান সম্মত নয়। কিন্তু আমরা যদি একটু ভিন্নভাবে দৃষ্টি দেই তাহলে আমরা হাদিসে উল্ল্যেখিত বক্তব্যের সাদৃশ্যতা খুজে পাব। সবাক কিংবা নির্বাক, স্থির কিংবা চল চিত্র অর্থাৎ ছবি বা ক্যামেরার ব্যবহার যা আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি যেখানে পশু হোক বা মানুষ আমরা মৃত কে জীবিত এবং জীবিত কে মৃত দেখতে পারি এবং দাজ্জাল এর পূর্বেই এই ক্যামেরার আগমন যেমন তামিমদারির হাদিসে জাসসার উল্ল্যেখ করা হয়েছে।

এবার আসা যাক দাজ্জাল এর জান্নাত ও জাহান্নাম এর ব্যাপারে। হাদিস এবং কোরান অনুযায়ী জান্নাত হচ্ছে পরকালে চির সুখের জায়গা এবং জাহান্নাম হচ্ছে চির কষ্টের জায়গা। সেক্ষেত্রে দাজ্জালের জান্নাত ও জাহান্নাম ইহকালে কি হতে পারে ?  এখন আমরা যদি বাস্তবতার নিরিখে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে ডিজিটাল সিস্টেমে প্রচারনার  দিকে দৃষ্টি দেই তাহলে দেখবো এখানে ইসলামিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বা পশ্চিমা সংস্কৃতির  আধিপত্য চলে। এখন আমরা যদি ইসলামিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বা পশ্চিমা সংস্কৃতির  বৈশিষ্ট্য গুলো বিশ্লেষণ করি তাহলে কেন জান্নাত কে জাহান্নাম এবং জাহান্নাম কে জান্নাত বলা হয়েছে তা বুঝতে পারবো।

ইসলামিক সংস্কৃতি হলো কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত মুসলমানদের জীবনধারা, যা নৈতিকতা, শিষ্টাচার, শিল্প ও সামাজিক রীতিনীতি ধারণ করে । এটি কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং মানুষের চিন্তা, পারিবারিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি সামগ্রিক রূপ । হিজাব, হালাল খাদ্য, পারস্পরিক সম্মান, এবং উৎসব (ঈদ) এর মূল বৈশিষ্ট্য ।

ইসলামিক সংস্কৃতির মূল বৈশিষ্ট্যসমুহ:
বিশ্বাস ও ইবাদত: ঈমান বা আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি এবং প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, রোজা, যাকাত ও হজ পালন ।
নৈতিকতা ও শিষ্টাচার: সত্য বলা, সততা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করা এবং মানুষের সাথে ভালো আচরণ করা ।
পারিবারিক ও সামাজিক জীবন: পর্দা প্রথা (হিজাব/নিকাব), হালাল খাবার গ্রহণ, পারিবারিক বন্ধন এবং নারীদের সম্মান করা ।
শিল্প ও স্থাপত্য: ক্যালিগ্রাফি বা ক্যালিগ্রাফিক শিল্প, জ্যামিতিক নকশা এবং মসজিদ, মাদ্রাসা ও প্রাসাদের স্থাপত্যশৈলী ।
উৎসব ও সংস্কৃতি: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা, রমজান মাসের রোজা, এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি: ইসলামি সমাজে মদকে অপবিত্র ও বর্জনীয় হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি বুদ্ধি-বিবেক বিলুপ্ত করে দেয় বলে একে হারাম করা হয়েছে।

পাশ্চাত্য বা পশ্চিমা সংস্কৃতি (Western Culture) হলো ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা কেন্দ্রিক সামাজিক রীতি, মূল্যবোধ, শিল্প, প্রযুক্তি এবং বিশ্বাসের একটি মিশ্র রূপ, যার মূল ভিত্তি গ্রীক-রোমান সভ্যতা ও খ্রিস্টধর্ম । এটি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, গণতন্ত্র, বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর দেয়, যা বিশ্বায়নের ফলে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলছে ।

পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ (Individualism): নিজস্ব মতামত, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত কৃতিত্বকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় ।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকার: রাজনৈতিক স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর জোর দেওয়া হয়।
যুক্তিবাদী চিন্তা ও বিজ্ঞান: অন্ধবিশ্বাসের বদলে বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দেওয়া হয় ।
জীবনযাত্রা: দ্রুতগতির জীবন, ক্যাপিটালিজম বা পুঁজিবাদী অর্থনীতি এবং কাজের প্রতি উচ্চ দায়বদ্ধতা ।
শিল্প ও সাহিত্য: আধুনিক চিত্রকলা, সঙ্গীত, এবং রেনেসাঁ পরবর্তী শিল্পকলা এই সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ
সামাজিক রীতিনীতি: ডিনার, পার্টি বা কোনো উৎসবের শুরুতে মদ পান করা সেখানে একটি সামাজিক প্রথা। অনেক ক্ষেত্রে এটিকে খাবারের সাথে রুচি ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়

এবার আসা যাক দাজ্জালের সীমাবদ্ধতা । ৯ নং হাদিসে এসেছে মক্কা ও মদিনা ব্যতীত এমন কোন শহর নেই যেখানে দাজ্জাল পদচারণ করবে না। মক্কা এবং মদিনার প্রত্যেকটি প্রবেশ পথেই ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে পাহারায় নিয়োজিত থাকবে। এরপর মদিনা তার অধিবাসীদেরকে নিয়ে তিনবার কেঁপে উঠবে এবং আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত কাফির এবং মুনাফিকদেরকে বের করে দিবেন। এখন বাস্তবতার দিকে যদি নজর দেই তাহলে প্রশ্ন উঠবে ডিজিটাল এর যাবতীয় সিস্টেম তো মক্কা মদিনাতে পরিপূর্ণ ভাবে ব্যবহার হচ্ছে সেক্ষেত্রে দাজ্জাল উক্ত শহর ঢুকতে না পারার অর্থ কি। পূর্বেই বলেছি দুইটি সংস্কৃতির কথা ইসলামিক সংস্কৃতি এবং প্রাশ্চাত্য সংস্কৃতি । মক্কা, মদিনা এবং ইসলামের মূল আকিদা (বিশ্বাস) একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। মক্কা হলো ইসলামের আত্মপ্রকাশ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু, আর মদিনা হলো সেই বিশ্বাসের বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কেন্দ্র। এক কথায় রাসুল্লাহ (স) এর সময় মক্কা ও মদিনার জীবন মিলে ইসলামের যে পূর্ণাঙ্গ আকিদা ও জীবনব্যবস্থা তৈরি হয়েছে তা এই একাবিংশ শতাব্দীতে এসে ডিজিটালাইজেশনের যুগেও অপরিবর্তিত রয়েছে আল্লাহর রহমতে এবং সাহায্যে। যেমন কোরানে এসেছে “(স্মরণ কর) যখন তোমরা তোমাদের রবের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন যে, ‘আমি তোমাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করব, যারা একের পর এক আসবে’।”(সূরা আল-আনফাল ৮:৯)।

এখন আমরা যদি ৯/১১ ঘটনার পরবর্তী আফগানিস্থানে ন্যাটো জোটের আক্রমন , সিরিয়ার গৃহ যুদ্ধ এবং ইয়ামেন যুদ্ধের দিকে ভালোভাবে লক্ষ্য করি এবং এতে সৌদি আরব এর ভুমিকা দেখি তাহলে হাদিসে বর্ণিত মক্কা মদিনার অধিবাসীদের নিয়ে তিন বার কেপে উঠা এবং সমস্ত কাফির ও মুনাফিকদের বের হয়ে যাওয়ার অর্থ খুজে পাওয়া যাবে।

এবার আসা যাক দাজ্জাল এর আবির্ভাব নিয়ে । ২ নং হাদিসে বলা হয়েছে দাজ্জাল ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হতে আবির্ভূত হবে। আবার ৪নং হাদিসে রাসুল্লাহ(স) দাজ্জাল সিরিয়ার কোন এক দরিয়ায় অথবা ইয়ামেনের কোন এক দরিয়ায় আছে। পরে বললেন, না, বরং সে পূর্বদিক হতে আগমন করবে। এ বলে তিনি (সা.) হাত দ্বারা পূর্বদিকে ইঙ্গিত করলেন।আবার অন্য হাদিস অনুযায়ী দাজ্জাল পূর্বাঞ্চলের খুরাসান এলাকা থেকে বের হবে।

’আমর ইবনু হুরায়স (রহিমাহুল্লাহ) আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: দাজ্জাল পূর্বাঞ্চলের খুরাসান এলাকা থেকে বের হবে, এমন এক গোত্র তার আনুগত্য গ্রহণ করবে যাদের চেহারা হবে ঢালের মতো চ্যাপ্টা। (তিরমিযী)দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ – কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা ৫৪৮৭

এক্ষেত্রে প্রশ্ন দাড়ায়  কোনটা সঠিক। বাস্তবতা বলে প্রতিটিই সঠিক।যদি আমরা দাজ্জাল’ শব্দের অর্থের দিকে নজর দেই মানে ,দাজ্জাল(دجل) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা, বা সত্যকে মিথ্যার মাধ্যমে ঢেকে দেওয়া। সেক্ষেত্রে প্রতিটিই আবির্ভাবের ক্ষেত্রই সঠিক। প্রথমেই আশা যাক ইরাক এর কথায় যেখানে “আমরা  প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশের কাছ থেকে নিউ ওয়াল্ড অর্ডার সম্পর্কে প্রথম শুনেছিলাম তার ১৯৯১ সালের স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে — ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার ১২ দিন পর এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়, যার মূলে ছিল গণবিধ্বংসী অস্ত্র (Weapons of Mass Destruction – WMD) সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য এবং পরবর্তীকালে একে ‘মিথ্যা’ বা ‘প্রতারণা’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিতর্ক। এই যুদ্ধে কয়েক লাখ ইরাকি বেসামরিক নাগরিক এবং হাজার হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীর (যেমন: ISIS) উত্থানের পথ প্রশস্ত হয়।২০০৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল জাতিসংঘে একটি দীর্ঘ ভাষণ দেন। সেখানে তিনি কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি এবং বিভিন্ন প্রমাণ দেখিয়ে দাবি করেন যে, ইরাকের কাছে ভ্রাম্যমাণ জৈব গবেষণাগার এবং নিষিদ্ধ অস্ত্র রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি নিজেই এই ভাষণকে তার ক্যারিয়ারের একটি ‘কলঙ্ক’  হিসেবে অভিহিত করেন, কারণ তার দেওয়া তথ্যগুলো সঠিক ছিল না।

এবার আসা যাক সিরিয়া। ২০১১ সালের আরব বসন্তের ঢেউ সিরিয়ায় এক ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের সূচনা করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের আসাদ শাসনের পতনের কারণ হয়। কিন্তু বাস্তবে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ (২০১১-বর্তমান) কেবল একটি অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ নয়, বরং এটি ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি সম্পদ (গ্যাস পাইপলাইন) এবং পরাশক্তিগুলোর স্বার্থের সংঘাত। এই যুদ্ধের পেছনে ইউরোপের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এছাড়াও,যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের সীমান্তে ইরানের প্রভাব কমাতে আসাদকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল।যে কারনে আসাদ সরকারকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সিজার সিরিয়া সিভিলিয়ান প্রোটেকশন অ্যাক্ট’-এর মতো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

এবার ইয়ামেন এর ক্ষেত্র। ইয়েমেনের  যুদ্ধ মূলত অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তথা গৃহ যুদ্ধ হলেও, মুলত এটি সৌদি-ইরান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। এদিকে আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (AQAP)-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে ইয়েমেনে ড্রোন হামলা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে যেখানে ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA-এর অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণে মুজাহিদিনদের যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল, তারই একটি অংশ থেকে ওসামা বিন লাদেন আল-কায়েদা গঠন করেছিলেন।

এবার আসা যাক পূর্ব দিক। এখন মজার ব্যাপার হচ্ছে  খোরাসান  ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে মদিনা তথা সৌদি আরবের পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি বিশাল অঞ্চল।অর্থাৎ ইরান ও আফগানিস্থান।  প্রাচীনকালে খোরাসান ছিল পারস্য সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চল। এর প্রধান শহরগুলোর মধ্যে বলখ, হেরাত (আফগানিস্তান),  এবং নিশাবুর (ইরান) অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রথমে আসা যাক আফগানিস্থান এর ব্যাপারে। পূর্বেই আল কায়েদা এবং আমেরিকার সম্পর্কের  বিষয়ে উল্ল্যেখ করা হয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সন্ত্রাসী হামলা (৯/১১) আল-কায়েদা কর্তৃক পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত হামলা, যার পেছনে মার্কিন সরকারের সরাসরি জড়িত থাকার কোনো অকাট্য বা অফিসিয়াল প্রমাণ নেই। তবে, এই ঘটনা নিয়ে অনেক বছর ধরে বিভিন্ন তত্ত্ব  প্রচলিত রয়েছে, যেখানে দাবি করা হয় মার্কিন সরকার বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এটি জানত বা নিজে করেছে।অনেক মানুষ মনে করেন, এই হামলাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র  আফগানিস্তান ও ইরাকে আগ্রাসী নীতি বাস্তবায়ন করেছে। ইরাকের ব্যাপারে পূর্বেই মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রীর স্বীকারোক্তি উল্ল্যেখ করা হয়েছে।

অপরদিকে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর,নতুন ইসলামী প্রজাতন্ত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহা শয়তান’ এবং ইসরায়েলকে ‘ক্ষুদ্র শয়তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। ইরান ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একনিষ্ঠ প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে যা মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ এবং গভীর শত্রুতা দ্বারা চিহ্নিত কয়েক দশকের সংঘাতের সূচনা করে। ২০২৬ সাল নাগাদ, এই শত্রুতা প্রকাশ্য যুদ্ধে পরিণত হয়, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি কার্যকলাপের জবাবে মার্কিন-ইসরায়েল ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় অন্যদিকে  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান এবং হোর্মুজ প্রণালী  থেকে তেল নিয়ে “প্রচুর আয়” করতে চান ।

এবার আসা যাক দাজ্জাল এর হত্যা। ১০ নং হাদিস অনুযায়ী দাজ্জাল নিহত হবে। এখন উন্নত এবং ভিন্ন কোন প্রযুক্তি যদি আসে সেক্ষত্রে কি ডিজিটাল প্রযুক্তির  ব্যবহার থাকবে ?  যেমন ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্বারা এনালগ প্রযুক্তির প্রতিস্থাপন । এক্ষেত্রে বাইবেলের মত কোরানে ও হাদিসে কেয়ামতের লক্ষন হিসেবে একটি পশুর কথা এসেছে যে মানুষের সাথে কথা বলবে। দাব্বাতুল আরদ। কোরানে এসেছে “আর যখন প্রতিশ্রুতি তাদের উপর আপতিত হবে, তখন আমি তাদের জন্য ভূমি থেকে একটি জীব বের করব, যে মানুষের সাথে কথা বলবে যে, মানুষ আমার নিদর্শনসমূহের ওপর সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখত না।” (সূরা আন-নামল, আয়াত: ৮২)

এবার আসা যাক বাইবেলের ক্ষত্রে।বাইবেলের প্রকাশিত বাক্য ১৩ অধ্যায় (Revelation 13) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতীকী অধ্যায়, যেখানে দুইটি পশুর (Beast) বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যারা শয়তানের নির্দেশে কাজ করে।
এখানে পুনরুত্থান বা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার বিষয়টি প্রথম পশুর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা যীশু তথা ঈসা (আ) এর  পুনরুত্থানের একটি নকল বা শয়তানী অনুকরণ হিসেবে দেখা হয়। নিচে মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
১. সমুদ্র থেকে ওঠা প্রথম পশু (The Beast from the Sea)
বর্ণনা: এই পশুর সাতটি মাথা, দশটি শিং এবং তার শিংয়ের ওপর দশটি মুকুট ছিল। এটি চিতা, ভল্লুক ও সিংহের সংমিশ্রণের মতো দেখতে।
পুনরুত্থান (মরণঘাতী ক্ষত সুস্থ হওয়া): এই পশুর একটি মাথা “মৃত্যুর মতো জখম” বা মরণঘাতী ক্ষত পেয়েছিল, কিন্তু সেই ক্ষত সুস্থ হয়ে যায় (revived/healed)।
পৃথিবীর বিস্ময়: এই মরণঘাতী ক্ষত থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা দেখে পুরো পৃথিবী অবাক হয়ে সেই পশুর অনুসরণ করে।
শয়তানের ক্ষমতা: ড্রাগন বা শয়তান এই পশুকে তার ক্ষমতা, সিংহাসন এবং বড় কর্তৃত্ব প্রদান করে।
ঈশ্বরনিন্দা: পশুটি ঈশ্বর, তাঁর নাম এবং স্বর্গের অধিবাসীদের বিরুদ্ধে নিন্দা করার জন্য মুখ খোলে।

২. ভূমি থেকে ওঠা দ্বিতীয় পশু (The Beast from the Earth)
বর্ণনা: দ্বিতীয় পশুর মেষশাবকের মতো দুটি শিং ছিল কিন্তু সে ড্রাগনের মতো কথা বলত।
কার্যকলাপ: এই দ্বিতীয় পশু প্রথম পশুর (যেটি ক্ষত থেকে বেঁচে উঠেছিল) সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং পৃথিবীর অধিবাসীদের প্রথম পশুর পূজা করতে বাধ্য করে।
অলৌকিক কাজ: সে আগুন নামানোর মতো বড় বড় অলৌকিক কাজ করে মানুষকে প্রতারিত করে।

৩. পশুর চিহ্ন (Mark of the Beast)
কেনাবেচায় বাধা: দ্বিতীয় পশু মানুষকে বাধ্য করে প্রথম পশুর নামে একটি ছাপ বা চিহ্ন ডান হাতে বা কপালে ধারণ করতে। এই নির্দিষ্ট চিহ্ন—যা পশুর নাম বা তার নামের সংখ্যা (৬৬৬)—যার থাকবে না, সে কোনো কিছু কেনাবেচা বা লেনদেন করতে পারবে না।

এখন আমরা যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখবো ৭ টি মাথা এবং ১০ টি শিং এবং ১০ টি মুকুট । এখন প্রশ্ন জাগবে যে কেন এত গুলো মাথা এবং শিং যেখানে বাস্তবে এরকম কোন জন্তুর অস্তিত্ব নাই। আমরা যদি এর প্রতিকী অর্থ গ্রহন করি তাহলে হয়তো এর অর্থ খুজে পাব।  ইসলামে ৭ সংখ্যার ব্যাবহার আমরা দেখেছি।এখন কথা হচ্ছে কেন মাথা এবং এতগুলো । এর সম্ভাব্য কারন হচ্ছে কম্পিউটার। আমরা যদি মাথা এবং কম্পিউটার এর কাজ এর মাঝে মিল গুলো দেখি তাহলে আমরা যুক্তির আলোকে বাস্তবতার সাথে মিল খুজে পাব। কারন মস্তিষ্ক এবং কম্পিউটার—দুটোই অত্যন্ত জটিল এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণ (Information Processing) সিস্টেমে সক্ষম। যদিও মস্তিষ্ক জৈবিক এবং কম্পিউটার ইলেকট্রনিক, তবুও এদের কাজের পদ্ধতিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে:

১. তথ্য প্রক্রিয়াকরণ (Information Processing):
মস্তিষ্ক: শরীরের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় (চোখ, কান, নাক ইত্যাদি) থেকে তথ্য গ্রহণ করে এবং সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখায়।
কম্পিউটার: কিবোর্ড, মাউস বা সেন্সরের মাধ্যমে ডেটা ইনপুট নেয় এবং তা প্রসেস করে।

২. স্মৃতিশক্তি বা স্টোরেজ (Memory/Storage):
মস্তিষ্ক:  মস্তিষ্ক স্মৃতি বা তথ্য মনে রাখতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা পুনরুদ্ধার করতে পারে।
কম্পিউটার: ডেটা সংরক্ষণের জন্য হার্ড ড্রাইভ বা RAM (Random Access Memory) ব্যবহার করে।

৩. লজিক বা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত (Logic/Decision Making):
মস্তিষ্ক: সমস্যা সমাধান, বিশ্লেষণ এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।
কম্পিউটার: অ্যালগরিদম এবং প্রোগ্রামের সাহায্যে যৌক্তিক ও গাণিতিক কাজ দ্রুত করতে পারে।

৪. ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল সংকেত (Electrochemical Signals):
মস্তিষ্ক: নিউরনের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করতে বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক সংকেত ব্যবহার করে।
কম্পিউটার: সার্কিটের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের (Electrical signals) মাধ্যমে কাজ করে।

৫. প্যাটার্ন রিকগনিশন (Pattern Recognition):
মস্তিষ্ক: ছবি, শব্দ বা ঘটনার প্যাটার্ন চিনে সমস্যা সমাধান করে, যা ‘Pattern Recognition Theory of Mind’ নামে পরিচিত।
কম্পিউটার: মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে ডেটার প্যাটার্ন চিনে ভবিষ্যদ্বাণী বা সিদ্ধান্ত নিতে পারে

সংক্ষেপে বললে মস্তিষ্ক হলো একটি অসাধারণ জৈবিক কম্পিউটার, যা পরিবেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজে উন্নত হতে পারে (Neuroplasticity), অন্যদিকে কম্পিউটার হলো মানুষের তৈরি একটি যন্ত্র যা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দ্রুত কাজ করে।

এখন প্রশ্ন আসবে কেন তাহলে বাইবেলে জন্তু বলা হয়েছে যেখানে হাদিসে মানুষ বলা হয়েছে। এর কারন হচ্ছে মানুষের মস্তিষ্ককে সরাসরি কম্পিউটারের সাথে তুলনা করা কঠিন, কারণ মস্তিষ্ক অনেক বেশি জটিল ও অভিযোজনক্ষম এবং মানুষের মস্তিষ্কের সৃজনশীলতা ও বোধশক্তি অনন্য। অন্যদিকে কম্পিউটার হলো মানুষের তৈরি একটি চমৎকার হাতিয়ার, এবং মানুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি যন্ত্র।সূরা ইয়াসিন, আয়াত ৭১-৭২: আল্লাহ বলেন, “তারা কি দেখে না যে, আমি তাদের জন্য নিজ হাতে সৃষ্ট চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তারা তাদের মালিক? এবং আমি তাদের (পশুপাখির) মালিকানা মানুষের হাতে দিয়েছি, ফলে তাদের কিছু তাদের বাহন এবং কিছু তারা আহার করে।” কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রন শুধু মাত্র একটি নির্ধারিত গোষ্ঠির নিয়ন্ত্রণে।এজন্যই হাদিসে এসেছে যা “আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে আমি কি এমন কথা বলব না, যা কোন নবীই তাঁর জাতিকে বলেননি? তা এই যে, সে হবে কানা। আর সে নিজের সাথে নিয়ে আসবে জান্নাত ও জাহান্নামের মত কিছু। যাকে সে জান্নাত বলবে, বাস্তবে সেটাই হবে জাহান্নাম। আর আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি যেভাবে নূহ তার জাতিকে সতর্ক করেছিলেন।”[সহীহ বুখারী ও মুসলিম] – [সহীহ বুখারী – ৩৩৩৮]

এবার আসা যা ১০ টি শিং ও ১০ টি মুকুট দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে  । ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি এবং একই সাথে বাইনারি সংখ্যা ০ ১ এবং ১ ০ এর প্রকাশ। কারন বাইনারি বা দ্বিমিক সংখ্যা পদ্ধতি হলো ২-ভিত্তিক (Base-2) একটি গাণিতিক পদ্ধতি, যেখানে সমস্ত সংখ্যা প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র দুটি প্রতীক বা অঙ্ক—০ (শূন্য) এবং ১ (এক) ব্যবহার করা হয় এবং এর ক্রমিক হচ্ছে ০ ১ ১ ০। কম্পিউটার এবং ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স সিস্টেমে তথ্যের আদান-প্রদান ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, যেখানে ০ দ্বারা ‘অফ’ (Low) এবং ১ দ্বারা ‘অন’ (High) বা বৈদ্যুতিক সিগন্যালের উপস্থিতি বোঝানো হয়।

এখন আসা যাক দ্বিতীয় পশুর ক্ষেত্রে। এখানে সরাসরি উল্ল্যেখ করা হয়েছে দ্বিতীয় পশু মানুষকে বাধ্য করবে প্রথম পশুর উপাসনা করতে এবং এই পশুর একটি সংখ্যা থাকবে যা প্রত্যেক মানুষ গ্রহন করতে বাধ্য থাকবে আর না গ্রহন করলে  ক্রয় বিক্রয় করতে পারবে না। এখন আমরা যদি বাস্তবতার দিকে নজর দেই তাহলে দেখবো ক্যামেরা এবং কম্পিউটার বিশেষ করে স্মার্ট ফোন যেখানে দুইটি যন্ত্রই পরস্পরের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত এবং সংখ্যাই (বাইনারি সংখ্যা) হচ্ছে এদের পরিচালনার মুল ভিত্তি ,যার দ্বারা এমন বহু কর্ম সংগঠিত হচ্ছে যা একশত বছর আগেও মানুষের নিকট অসম্ভব এবং অলৌকিক কাজ বলে মনে হতো এবং এই প্রযুক্তি একটি গোষ্ঠির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে। বলা যায় অধিকাংশ মানুষের ই একটি করে ফোন নাম্বার রয়েছে। যারা এর নিয়ন্ত্রক গোষ্ঠি অর্থাৎ শয়তানি শক্তির বিরোধিতা করেছে তারাই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে। ইরান ইরাক আফগানিস্থান সিরিয়ার দিকে দেখলেই আমরা বাস্তবতার সাথে মিল খুজে পাব।

পরিশেষে বলবো উপরোক্ত আলোচনা সম্পূর্ণই ব্যক্তিগত চিন্তার প্রতিফলন এবং তাই ভুল হওয়া স্বাভাবিক। যদিও বর্তমানে প্রচলিত ইসলামিক আকিদার সাথে লেখাটির বক্তব্য সাংঘর্ষিক কিন্তু ঈমানের সংজ্ঞা (দিদ্ধা দন্ধহীন, যুক্তি যুক্ত, তর্কহীন মানবীয় অনুভুুতিকে ঈমান বলে) এবং কোরানে বর্ণিত নিদর্শন সমুহ অনুযায়ী বাস্তবতার নিরিখে এটাই অধিক যুক্তি সংগত বলে মনে হয়েছে যে দাজ্জাল কোন একক মানুষ না বরং ডিজিটাল সিস্টেম এবং এর নিয়ন্ত্রক গোষ্ঠিই হচ্ছে হাদিসে বর্ণিত দাজ্জাল এবং বাইবেলে বর্ণিত এন্টি ক্রাইস্ট।

 

[ সম্পাদকীয় নোট: এই নিবন্ধটি ‘বহুমত’ (Bahumat) পত্রিকার পাঠকদের জন্য একটি তাত্ত্বিক ও গবেষণাধর্মী উপস্থাপনা। এর প্রতিটি যুক্তি লেখকের ব্যক্তিগত গবেষণার ফসল।]