“স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় সিসি ক্যামেরা দিতে বলেছি কারণ শিক্ষকরা ক্লাসে থাকে না”

নিজস্ব  প্রতিবেদক:

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টেশন ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, “ভিসিরা কিভাবে শিক্ষার উন্নয়ন করে এগুলোর খতিয়ান আমি তৈরি করছি। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে কাজ করছে সেসবের রিপোর্ট নেয়া হচ্ছে। আমি সবকিছুই দেখছি, ইউজিসির রিপোর্টও আমি নেব আমার রিপোর্টও নেব। স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় সিসি ক্যামেরা দিতে বলেছি কারণ শিক্ষকরা ক্লাসে থাকে না।”

 

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো করার সুযোগ রয়েছে। যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাকে কুরআন শরিফ অবমাননার কথা বলা হয়েছে। আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা একটি বিষয় না পড়ার কারণে সঠিকভাবে কুরআন শরিফ পড়তে পারেন না।”

 

‘আমরা ৯ হাজার ইসলামী শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছি না ওই বিষয় না পড়ার জন্য। এটা কওমীকে দেয়া যাচ্ছে না নীতিমালার কারণে। কিন্তু সেটাকে অপব্যাখ্যা দেয়া হলো কুরআন শরিফকে অবমাননা করা হয়েছে। এই যে কিছু বট বাহিনী আছে। আমার সঙ্গে এসব করে কোন লাভ হবে না। আমার কাজ আমাকে করতেই হবে, শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতেই হবে। সরকার বাজেটের কথা বলেছে, আমি বাজেট নিতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের খাতে একটি টাকা চাওয়া হয়নি। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আমরা অত্যন্ত দুর্বল’-উল্লেখ করেন তিনি।

 

ড. মিলন আরও বলেন, এই দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় চলে জনগনের করের টাকায়। তাই জনগণের টাকায় তুমি পড়ছো। দেশের প্রতি তুমি কতটুকু ঋণি এটা তোমাকে বুঝতে হবে।

 

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না। শিক্ষক নিয়োগে দলীয় এবং বিরোধী দলীয় রাজনীতি করা হয়। তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

 

ফেসবুকের ‘বট বাহিনী’ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও গুজব ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

তিনি বলেন, এই বট বাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায় এবং ট্রল করে। এমনকি আমি নাকি পরীক্ষার দিন পরীক্ষার রুটিন দিব-এমন হাস্যকর অপপ্রচারও তারা চালাচ্ছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্যের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, আমি বলেছিলাম এবার কোনো প্রতিষ্ঠানে জিরো পাস করলেও এমপিও বাতিল হবে না। কিন্তু বট বাহিনী লিখে দিল এবার ফেল করলেই এমপিও বাতিল। এখন দেখা যাচ্ছে দেশ ফেসবুকেই চলে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম তদারকি প্রসঙ্গে ড. এহছানুল হক মিলন কঠোরঠ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন আমি দেখতে চাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে কাজ করছে তা তদারকি করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) রিপোর্টের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব রিপোর্টও আমার কাছে থাকবে।