জেলা প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর তিন উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে এক মাদ্রাসাছাত্রী, এক শিশু এবং এক তরুণ ব্যবসায়ী। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ও মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এসব ঘটনা ঘটে কবিরহাট, হাতিয়া ও সুবর্ণচরে। আকস্মিক এই প্রাণহানিতে তিন এলাকাতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সবশেষ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে সুবর্ণচরের চরআমান উল্যাহ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে মারা যায় তানজিলা আক্তার (১৭)। বাড়ির পাশে হাঁটার সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি ইসমাইল ফাজিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
তানজিলার মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি শোকের জন্ম দিয়েছে আরেক কারণে। গত বছরের দাখিল পরীক্ষায় পুরো সুবর্ণচর উপজেলা থেকে মাত্র দুজন জিপিএ ৫ পেয়েছিল, তাদের একজন ছিলেন তিনি। এলাকাবাসী বলছেন, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
চরআমান উল্যাহ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. কামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। চরজব্বর থানার ওসি লুৎফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে, বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে কবিরহাট উপজেলার চর মন্ডলিয়া গ্রামে বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় বজ্রপাতে মারা যায় ৯ বছর বয়সী আয়মান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিন দুপুরে হাতিয়ার পূর্ব গামছাখালী গ্রামে বাদাম তুলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে প্রাণ হারান আরাফাত (২১) নামে এক তরুণ ব্যবসায়ী। স্বজনদের ভাষ্য, মায়ের চোখের সামনেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
একদিনে তিন উপজেলায় তিন প্রাণহানির ঘটনায় আবারও সামনে এলো বজ্রপাতের ঝুঁকি। বিশেষ করে খোলা মাঠ, বাড়ির উঠান বা উন্মুক্ত স্থানে অবস্থানের সময় সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।











