জিরো টলারেন্সে কমেছে চাঁদাবাজি, দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদাবাজি, ভূমি দখল ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ফলে এসব অপরাধ অনেকাংশে কমেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও সংসদে জানিয়েছেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রাজশাহী-১ ও নোয়াখালী-৫ আসনের দুই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি আইনশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি দমন এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর অপরাধ। এসবের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তার ভাষায়, “জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পর জড়িতদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার ফলে অপরাধ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।”

 

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সেক্টরে দখল ও চাঁদাবাজির কারণে মানুষ ভোগান্তিতে ছিল। বর্তমান সরকার এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজশাহী-১ এলাকায় এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

মন্ত্রী বলেন, “অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।”

 

সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত রয়েছে, তবে তা আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সেবা বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশ ১০টি পদক্ষেপ নিয়েছে। যদিও ওই পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত সংসদে তুলে ধরা হয়নি, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

 

সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পরিবহন অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, একদিকে অভ্যন্তরীণ অপরাধ দমন, অন্যদিকে কৌশলগত স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের বার্তা সরকার একই সঙ্গে দিতে চেয়েছে।

 

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।