নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ছিল ৩ শিশু, আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬ জন। একই সময়ে নতুন করে ১৬৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে, আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ১ হাজার ২৭৬ শিশু।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, নিশ্চিত হামে মারা যাওয়া তিন শিশুই ঢাকা বিভাগের। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ছয় শিশুর মধ্যে দুজনও এই বিভাগের। এতে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, হাম পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপ এখন ঢাকাতেই।
১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২২৬ জন। শুধু ঢাকা বিভাগেই উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১০৫, আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু ৩১ জন। রাজশাহীতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, সেখানে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে ৯০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হয়েছে ৩৭৬ শিশু, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৫ মার্চ থেকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে এসেছে ৩৪ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৮৫৬ শিশুর।
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই ধারা উদ্বেগজনক। হাসপাতালে রোগীর চাপও বেড়েছে। ১৫ মার্চ থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩ হাজার ৩৪৮ জন, আর সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৯ হাজার ৯৯১ জন।
এ অবস্থায় টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। ২০ এপ্রিল শুরু হওয়া দেশব্যাপী ক্যাম্পেইনে এখন পর্যন্ত ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৯৯ শিশু টিকা পেয়েছে। ১২টি সিটি করপোরেশনে টিকা পেয়েছে আরও ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৩১৯ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং দ্রুত শনাক্তকরণ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার আওতা আরও বাড়াতে না পারলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে।
হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তারা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। জ্বর, র্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।











