পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা, বিপৎসীমার ওপরে ৪ নদীর পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশজুড়ে টানা ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ মোট পাঁচ জেলায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, আর চারটি নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, চলমান বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এসব অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকে বন্যা বিস্তৃত হতে পারে।

 

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশে বৃষ্টি বেড়েছে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকায়।

 

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

 

কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, “টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, ফলে কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

 

বর্তমানে দেশের চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে ভুগাই কংস, সোমেশ্বরী, মগরা এবং মনু নদী উল্লেখযোগ্য।

 

ভুগাই কংস নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ৮২ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। সোমেশ্বরী নদীতে ৫০ সেন্টিমিটার এবং মনু নদীতে ৭২ সেন্টিমিটার ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মগরা নদীর পানি কিছুটা কম হলেও এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভোলা, ফেনী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলাতেও ভারি বৃষ্টি হয়েছে।

 

এতে শুধু নদীই নয়, নিচু এলাকা, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমিও পানির নিচে চলে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, “উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে মেঘমালা সক্রিয় রয়েছে, ফলে ভারি বৃষ্টির প্রবণতা আগামী দিনগুলোতেও থাকতে পারে।”

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর মতো ছোট ও দ্রুত প্রবাহমান নদীগুলোতে ভারি বৃষ্টির প্রভাব বেশি পড়ে। এসব নদীর পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে আশপাশের এলাকায় প্লাবন সৃষ্টি করে।

 

আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টি কিছুটা কমলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে। তবে আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

বৃষ্টির পাশাপাশি সমুদ্রেও উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি রয়েছে।

 

স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হবে।