নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং গণহত্যার শিকার মানুষের একটি নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও এমন তালিকা না হওয়াকে দুঃখজনক উল্লেখ করে জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটি গ্রহণযোগ্য তালিকা তৈরির জন্য সরকার কার্যক্রম শুরু করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গণহত্যার শিকার মানুষ এবং সব শহীদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ স্বীকৃতি পাবে।
মন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার এত বছর পরও পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা সম্ভব হয়নি। আমরা নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য একটি তালিকা প্রণয়নে কাজ করছি।” তার ভাষ্য, এ জন্য গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে কর্মপরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
সংসদে তিনি জানান, বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮০। এর মধ্যে বেসামরিক শহীদ ৩ হাজার ৬৯৮ জন, সশস্ত্র বাহিনীর ১ হাজার ৫৪১ জন, বিজিবির ৮১৭ জন, পুলিশ সদস্য ৪২৩ জন এবং আনসারের একজন সদস্য রয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। এমন সময়ে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির সরকারি উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আহমদ আযম খান বলেন, এই তালিকা শুধু সংখ্যা নির্ধারণের বিষয় নয়, এটি ইতিহাস সংরক্ষণ এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতির বিষয়। “যাদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে, তাদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব,” বলেন তিনি।
সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশে ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকাভুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ৪৮১ জনের নাম।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, শহীদ ও গণহত্যার শিকার মানুষের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন শুধু রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য নয়, ভবিষ্যৎ গবেষণা এবং ইতিহাস বিকৃতি রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।











