জেলা প্রতিনিধি :
সুন্দরবনের দুবলার চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে বনদস্যুরা ১৫ জন জেলেকে অপহরণ করেছে। ঘটনার তিন দিন পার হলেও এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। মঙ্গলবার রাতে অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা এবং দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ দ্রুত জেলেদের মুক্তির দাবি জানান। পাশাপাশি, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে আবেদন করেছেন স্থানীয় জেলেরা।
অপহৃত জেলেদের মধ্যে রয়েছেন শাহআলম, আজাহারুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, আরাফাত হোসেন, আলমগীর হোসেন, শাহাজান গাজী, রাসেল, শাহজাহান ঢালী, হাফিজুর রহমান, শাহীনুর আলম, মতিয়ার সরদার, খান রফিক, রিপন মোড়ল, নুরে আলম ও নাথন বিশ্বাস। তারা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। অপহরণের সময় তারা দুবলার আলোরকোল চরে অবস্থান করে সাগরে মাছ শিকার ও শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
গেল রবিবার দুবলার চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে ১৫ জেলেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায় বনদস্যুরা। এ সময় দস্যুরা আরও কয়েকজন জেলেকে অপহরণের চেষ্টা করলে তিনজন দস্যুকে ধরে ফেলেন জেলেরা এবং তাদের মারধর করে আটক করেন। পরে আটক দস্যুদের কোস্টগার্ডের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের আলোরকোল কন্টিনজেন্ট কমান্ডার (সিসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ জানিয়েছেন, কোস্টগার্ড তিনজন দস্যুকে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ১৫ জন জেলে ও একটি মাছ ধরার ট্রলার দস্যুদের হাতে জিম্মি রয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। দ্রুত তাদের ফেরত দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।
বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, অপহৃত ১৫ জেলেকে উদ্ধারে বনরক্ষীদের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।











