কেমিক্যালে পাকানো বিষাক্ত ফল বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কেমিক্যালে পাকানো ফলে সয়লাব বাজার। আর ওই বিষাক্ত ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। অতি মুনাফার লোভে অসাধু চক্র অপরিপক্ব ফল কার্বাইড, ইথোফেন ও বিভিন্ন হরমোন ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে বাজারজাত করছে। আর ওই ফল কিনে প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা। একই সাথে নীরবে ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের জটিলতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দেশজুড়ে প্রকাশ্যে কেমিক্যালযুক্ত ফল বিক্রি হলেও কার্যকর নজরদারি নেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং পুরুষদের উর্বরতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় কার্বাইডে পাকানো ফল। তাছাড়া শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস এবং স্নায়বিক দুর্বলতা তৈরির শঙ্কাও থাকে। সেজন্যই ফল কেনার পর খাওয়ার আগে অন্তত ১-২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি বেকিং সোডা বা হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিলেও কিছুটা কমতে পারে কেমিক্যালের প্রভাব।

 

সূত্র জানায়, অপরিপক্ক ফল পাকাতে অনেক সময় ক্যালসিয়াম কার্বাইড এবং ইথোফেন বা রাইপেনিংয়ের মতো বিভিন্ন হরমোন ব্যবহার করা হয়। তাতে মানবদেহে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। কার্বাইড মূলত শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিক। তা ফলের সংস্পর্শে এসে আর্দ্রতার সাথে বিক্রিয়া করে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করে। ওই কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ফল খাওয়ার ফলে মানবদেহে স্বাস্থ্য সমস্যা হয়। তার মধ্যে কার্বাইড পেটের ভেতর প্রদাহ সৃষ্টি করে। ফলে তীব্র পেট ব্যথা, বমি, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া এবং পেট জ্বালাপোড়া হতে পারে। অ্যাসিটিলিন গ্যাসের প্রভাবে মস্তিষ্কে অঙ্েিজন সরবরাহ কমে গিয়ে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, মানসিক বিভ্রান্তি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং খিঁচুনি হতে পারে। তাছাড়া রক্তে শর্করা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে কার্বাইডে আর্সেনিক এবং ফসফরাসের মতো অত্যন্ত বিষাক্ত উপাদানের অবশিষ্টাংশ থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া ওই কেমিক্যালযুক্ত ফল নিয়মিত খেলে লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে।

 

এদিকে এ প্রসঙ্গে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন জানান, অসাধু কেমিক্যাল সিন্ডিকেট ফলের মৌসুমের দু-এক মাস আগেই সক্রিয় হয়ে ওঠে। মৌসুমের আগেই তারা ফলে বিষ মাখিয়ে কাঁচা ফল পাকা দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রি করে। গত কয়েক বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানেও তার প্রমাণ মিলেছে। এ অবস্থায় ভোক্তাকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি তদারকি সংস্থারও ওদিকে কঠোরভাবে নজর দিতে হবে।

 

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একজন সহকারী পরিচালক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, খাবারে বিষ বা কেমিক্যাল নিয়ে অন্য সংস্থা কাজ করে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর বাজার তদারকি করে এবং তা চলমান আছে। বিশেষ করে ফলের বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।