জুলাইয়ে কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই আন্দোলনের সময় কে হত্যাসহ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মামলার রায়ের দিন নির্ধারণ করেছে আদালত।
আজ সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আগামী ৩০ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ৩৯ পৃষ্ঠার অভিযোগের সঙ্গে রয়েছে এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র।
রয়েছে তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও ডকুমেন্ট। আর এ মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে।
আটটি অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী, সাম্প্রদায়িক ট্যাগ প্রদান করে এবং তাদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উস্কানী, ১৪ দলীয় জোট সরকারের অংশীদার জাসদের সভাপতি হিসেবে তার উর্ধ্বতন অবস্থান থেকে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন ও বাস্তবায়নের নির্দেশ, প্ররোচনা দিয়েছেন, উস্কানি এবং সহায়তা, কুষ্টিয়ায় পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলন দমনের নির্দেশনার পর ৬ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবীতে “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচীতে ছাত্রদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের জনতার সাথে নিরীহ-নিরস্ত্র শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মোঃ উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকুরীজীবি ইউসুফ শেখ রাস্তায় নেমে আসে। তারা সকাল দশটার দিকে কুষ্টিয়ার হাজার নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র জনতা হাসপাতাল মোড়ে জড়ো হয়ে সেখান থেকে চৌড়হাস থেকে মজমপুরের দিকে শান্তিপূর্ণ ভাবে অগ্রসর হতে চেষ্টা করলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুগত অধস্তন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ মাহবুবউল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর সভাপতি সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা এবং নির্দেশের প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান আতাদের নির্দেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসী অজয় সুরেখা, মানব চাকী, আতিকুর রহমান অনিক, শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ, রাশিদুল ইসলাম বিপ্লব, তৈয়ব বাদশা, তাইজাল আলী খান, স্বপন কুমার গং পুলিশের ছত্র ছায়ায় (কোন কোন ক্ষেত্রে পুলিশের সাথে একত্রে) নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলি চালাতে থাকে। তাদের এই গুলি বর্ষনের ফলে দুপুর দেড়টা থেকে চারটার মধ্যে বক চত্বর থেকে অনুমান ৫০ গজ উত্তরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, বার্মিজ গলিতে সুরুজ আলী বাবু, হরিপুর গামী রাস্তা আড়ং এর সামনে শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুত্তাকিন, মোঃ উসামা, তুলা পট্টির গলিতে ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও ফায়ার সার্ভিসের বিপরিত দিকে রাস্তার উপর চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ শহীদ হয়।
