নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক আজ। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও দলের প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, এটি স্থায়ী কমিটির নিয়মিত বৈঠক। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তেল ও গ্যাসের দামসহ বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা আগে থেকে বলার সুযোগ নেই।”
অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় কে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। তবে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি নির্দলীয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেই বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
এর আগে ২৬ জুলাই বগুড়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলীয় না নির্দলীয় কাউকে বেছে নেওয়া হবে, তা সংবিধান ও আইনের আলোকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই চূড়ান্ত করা হবে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা’ না থাকার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ভেতরে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নাম রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আলোচনায় এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তবে এসব নামের কোনোটি এখনো চূড়ান্ত নয়। দলের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এ বিষয়ে সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা ও জুলাই সনদে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের যৌথ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে প্রস্তাব রয়েছে, সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। ফলে বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থাতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিভিন্ন দলের কর্মসূচি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সংঘাতের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান আরও পরিষ্কার করা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, আজকের বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে যাচ্ছে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান ও পরবর্তী করণীয় চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।











