অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) প্রধানসহ প্রায় ১০০টি দেশের নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা বুধবার আর্জেন্টিনায় মাদক পাচার যৌথভাবে মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ল্যাটিন আমেরিকার এক ডজনেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রপন্থী সরকারের মধ্যে আর্জেন্টিনা অন্যতম, যারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ মাদকচক্রবিরোধী জোটে যোগ দিয়েছে। বুয়েনস আয়ার্স থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
ডিইএ’র পরিচালক টেরেন্স কোলের সঙ্গে বৈঠকের সহ-আয়োজক নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মনতেওলিভা এক্সে লিখেছেন, ‘মাদকচক্রের সঙ্গে আলোচনা করা যায় না। দৃঢ়তা, সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর এমন কঠোর নীতির মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।’
আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার লামেলাস সম্মেলনে বলেন, ওয়াশিংটন ‘মাদকচক্র, অপরাধী নেটওয়ার্ক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা এবং গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে।’ তিনি স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, ‘কোনো দেশই এর ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। আর কোনো দেশ একা এই লড়াই করতে পারে না।’
১৯৮৩ সালে ডিইএ’র উদ্যোগে শুরু হওয়া বার্ষিক আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্মেলন এবারই প্রথম আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে মেক্সিকোর আলোচিত নিরাপত্তামন্ত্রী ওমর গার্সিয়া হারফুচও উপস্থিত ছিলেন। তিনি শক্তিশালী মাদকচক্রগুলোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ক্লদিওয়া শেইনবাউমের সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক ডজন মাদকচক্রের শীর্ষ নেতাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
মাদক পাচার দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে ‘ব্যাটম্যান’ নামে পরিচিত হারফুচ এক্সে লিখেছেন, ‘সমন্বয়, দৃঢ়তা এবং প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধার সঙ্গে কাজ করলে কোনো অপরাধী সংগঠনই রাষ্ট্রগুলোর চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে না।’ সার্বভৌমত্ব নিয়ে তার বক্তব্য বামপন্থী শেইনবাউমের মাদকবিরোধী যুদ্ধে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়ে বারবার দেওয়া সতর্কবার্তার প্রতিধ্বনি করেছে।
মেক্সিকো গত মাসে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মাদকসম্রাট ইসমায়েল ‘এল মায়ো’ সাম্বাদাকে গ্রেফতারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা তদন্ত করছে। তাকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে কারাগারে রয়েছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, মাদকচক্রগুলো মেক্সিকো নিয়ন্ত্রণ করছে। শেইনবাউম মাদকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সীমান্তের দক্ষিণে মার্কিন সেনা মোতায়েনেরও হুমকি দিয়েছেন তিনি।











