ইসলামী ব্যাংক ঘিরে মতিঝিলে দুই পক্ষের অবস্থান, চলছে পাল্টাপাল্টি স্লোগান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে রাজধানীর মতিঝিলে পৃথক কর্মসূচি পালন করছেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ব্যাংকটির দিলকুশার প্রধান কার্যালয় এবং শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। এর আগে টানা চার দিন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।

অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। ‘দফা এক, দাবি এক, চাকরি ফেরত চাই’ স্লোগান দিচ্ছেন তারা। চট্টগ্রামের পটিয়া থেকেও কয়েকজন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা জানান, শাপলা চত্বর থেকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করার কর্মসূচি রয়েছে তাদের।

 

পরিচালনা পর্ষদ ও স্থায়ী এমডি নিয়োগের দাবি
সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান তিনি।

 

তার দাবি, ব্যাংকে তিন মাসের বেশি সময় ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়ে কার্যক্রম চালানোর বিধান নেই। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে তিন মাস পার হলেও স্থায়ী এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

নুরুন্নবী মানিক বলেন, এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের প্রভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে একটি পক্ষের হাতে প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যা ব্যাংক কোম্পানি আইনে এককভাবে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেন তিনি।

এসব শেয়ার প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া অথবা বাজারে বিক্রি করে ব্যাংকের ঋণ সমন্বয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান নুরুন্নবী মানিক।

এ ছাড়া বিদেশে অর্থ পাচার ও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির সঙ্গে জড়িতদের সম্পদ জব্দ করে ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

এস আলম গ্রুপের শেয়ার ও ঋণ নিয়ে দাবি
গ্রাহক ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত এবং অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধা সমন্বয়ের দাবি জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার কথাও বলেন।

মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে ফোরাম।

 

চাকরি ফেরতের দাবিতে অবস্থান
অন্যদিকে, চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থান নিয়েছেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ব্যাংকে চাকরি করার পর কোনো ধরনের নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

 

চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রাপ্য পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা টিপু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে তাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। চাকরি হারানোর পর পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে আছি। আমরা চাকরি ফেরত চাই। এ বিষয়ে আর কোনো তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।’

গ্রাহক ফোরামের পাল্টা কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন টিপু। তার দাবি, চাকরিচ্যুতদের কর্মসূচির সময় গ্রাহক ফোরামের নামে আরেকটি পক্ষ পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা সরকারকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে তাদের। এতে বাধা দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

তবে আন্দোলনরত চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গ্রাহক ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ যে অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।