নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নৈরাজ্য ও দখলবাজির অভিযোগে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এসব পরিস্থিতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পর্ষদসহ কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে এনসিপি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সাংগঠনিক কাঠামো এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নৈরাজ্য ও দখলবাজি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে কর্মসূচির ধরন ও সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গণভোটের গণরায় অগ্রাহ্য করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এনসিপির নেতারা এই কমিটিকে ‘একদলীয়’ আখ্যা দিয়ে এর গণবৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের মতে, এ ধরনের কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্কের ফাটল তৈরি করেছে।
বৈঠক শেষে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছে। এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। এই একদলীয় কমিটির কোনো গণবৈধতা নেই।”
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও দলের কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সব জেলায় জেলা কমিটি গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে সব উপজেলা কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে রাজনৈতিক পর্ষদসহ কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলটি।
সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে ২৩ সদস্যের একটি সাংগঠনিক উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারজিস আলমকে এই উপকমিটির প্রধান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে দুজন উপপ্রধান থাকবেন। এছাড়া প্রতিটি বিভাগে একজন করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও একজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্তও হয়েছে। এসব কর্মশালার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সারজিস আলম, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ ও সালেহ উদ্দিন সিফাতকে।
রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী, আসিফ মাহমুদ, আব্দুল্লাহ আল আমিন, আতিক মুজাহিদ, সারোয়ার তুষার, আরিফুল ইসলাম আদীব, মাহমুদা মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, সালেহউদ্দিন সিফাত ও আকরাম হোসাইন সিএফ উপস্থিত ছিলেন।











