স্থায়ী ভিটা না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি যুবক: মন্ত্রীকে সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর সহকারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও শুধু স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার যুবক মিশন আচার্য। গণমাধ্যম থেকে বিষয়টি জানার পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন তার নিয়োগ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে ডিও লেটার বা আধা-সরকারি সুপারিশপত্র পাঠিয়েছেন।

 

রবিবার (৪ অক্টোবর) পাঠানো ওই ডিও লেটারে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী বসতভিটা না থাকার কারণে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাকরিপ্রার্থী মিশন আচার্য নিয়োগপত্র পাননি মর্মে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।’

 

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি আমার নিজ জেলা ঝিনাইদহের সদর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, মিশন আচার্য সদর উপজেলার কলাবাগানে জন্মলগ্ন থেকে বসবাস করছেন। তিনি এই এলাকাতেই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং আজ পর্যন্ত এই এলাকাতেই ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।’

 

চিঠিতে মিশন আচার্যের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলা হয়, ছোটবেলা থেকেই তিনি পিতৃহীন। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার মা অনেক কষ্টে তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।

 

স্থানীয় অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়।

 

সব তথ্য ও মানবিক দিক বিবেচনায় এনে বিধি মোতাবেক মিশন আচার্যকে সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগপত্র দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানান রাশেদ খাঁন।

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এমন উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়রা আশা করছেন, এই মানবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে একজন যোগ্য ও মেধাবী তরুণ তার প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবেন।