নিজস্ব প্রতিবেদক:
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে অবশেষে ৬ সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিচারপতি আশাকু রহমানকে চেয়ারম্যান করে গঠিত এই বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী জানান যে, এর আগে শ্রমিকনেতা ও মালিকপক্ষের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠকের পর রবিবারই মজুরি বোর্ড গঠনের এই ঘোষণা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আজকের এই নবগঠিত বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুসলিউদ্দিন আহমেদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া তৈরি পোশাকশিল্পের পক্ষ থেকে আরও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ’র পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিনকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তারকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ায় এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে শ্রমমন্ত্রী জানান যে, বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে একজন বিচারপতি এই গুরুদায়িত্ব পালন করবেন এবং চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সকল সদস্য সম্মিলিতভাবে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে কাজ করবেন।
আরিফুল হক চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন যে, গত তিন দিন ধরে শ্রমিকনেতা ও মালিকপক্ষের সঙ্গে তাদের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেহেতু শুক্রবার সরকারি ছুটি ছিল, তাই পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ রোববারই মজুরি বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথা ছিল, যদিও এর মাঝেই রবিবার সকাল থেকে বিভিন্ন সড়কে শ্রমিকদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শ্রমিকদের নায্য দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার আজই এই মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এখন বোর্ডের সম্মানিত সদস্যরা দ্রুত বৈঠকে বসে পুরো বিষয়টি একটি ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।
পরিশেষে দেশের সকল পোশাকশ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বার্তা দিয়ে বলেন যে, তাদের জীবনজীবিকা ও নায্য দাবিগুলো নিয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, আর আজকের এই মজুরি বোর্ড আনুষ্ঠানিক গঠনের মাধ্যমেই সেই প্রতিশ্রুত প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন শুরু হলো।











