নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তার বান্ধবী ও সন্দিগ্ধ আসামি জেরিকা তাসনিম দিশাকে (১৯) নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঘটনার দিন রাতে উত্তরার একটি বারে সিসিটিভির ফুটেজে তাকে নিহত তাহসিফের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল।
গত রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওইদিন বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে কঠোর পুলিশি পাহারায় তরুণী এই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করার পক্ষে আইনি যুক্তি তুলে ধরেন। এর বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের আবেদন সম্পূর্ণ বাতিল করে তার জামিনের প্রার্থনা জানান।
আদালতে শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জোরালোভাবে বলেন যে, কেবল একটি সিসিটিভি ফুটেজের ওপর নির্ভর করে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার দিন রাতে ভিকটিম নিজ গাড়িতে করে আসামি দিশাকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পর তাদের মধ্যে আর কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়নি। বন্ধু হিসেবে তারা দেখা করতেই পারেন, কেবল এ কারণে তাকে কোনোভাবেই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা যায় না। এই যুক্তিতে তারা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিন আবেদন করেন।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর ডিএমপির উত্তরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে এবং সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে কাফরুল থানা এলাকা থেকে সন্দিগ্ধ আসামি জেরিকা তাসনিম দিশাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ফিরোজ উদ্দিন তার রিমান্ড আবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মামলার ভিকটিম তাহসিফ সাউরির সঙ্গে ঘটনার পূর্বে গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরা ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ আসামির যাতায়াত ছিল। এছাড়া মোটরসাইকেল গ্যারেজসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাদের দুইজনের মাঝে মোবাইল ফোনেও নিয়মিত যোগাযোগের পরিষ্কার প্রমাণ রয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও জোরালোভাবে বলা হয় যে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা, অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা, মামলার বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা, হত্যাকাণ্ডের সঠিক স্থান নির্ধারণ করা এবং পূর্বে রিমান্ডে থাকা অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া নানা বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান আসামির দেওয়া তথ্যগুলো ক্রস-চেক বা মিলিয়ে দেখার জন্য জেরিকা দিশাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।











