অনলাইন ডেস্ক:
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে কঠোর বার্তা দিয়ে মস্কো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সামরিক অভিযান, ধ্বংসযজ্ঞ এবং প্রাণহানির মাধ্যমে ইরানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অদম্য সংকল্প কোনোভাবেই দুর্বল করা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি ইরানের কৌশলগত কেশম দ্বীপে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনার খবর পাওয়া গেছে। এই আকস্মিক ও উত্তেজনাকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক সংকট ও সংঘাতের পারদ আরও বহুলাংশে বেড়ে গেছে।
গত সোমবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো সামনে এসেছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পষ্টভাবে বলেছেন, গত কয়েক মাসের ঘটনাবলি অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রমাণ করেছে যে, শক্তি প্রয়োগ করে ইরানি জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দুর্বার আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। যারা নতুন করে হামলার হুমকি দিচ্ছে কিংবা বেপরোয়া সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের অতীতের ভুল ও সংঘাতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।
বর্তমান এই মারাত্মক সংকট সমাধানে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের পথ থেকে সরে এসে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাখারোভা। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, চলমান সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে এবং তা সফলভাবে বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে মস্কো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে খুব দ্রুতই স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে বলে প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাশিয়ার এই শীর্ষ মুখপাত্র।
তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের বৈধ জাতীয় স্বার্থের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে, বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অবাধ নৌ চলাচলের স্বার্থে বিশ্বের সব দেশের জন্য এই কৌশলগত জলপথ সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে।











