ইরান যুদ্ধের খেসারত: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি স্বীকার করলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রিপাবলিকান পার্টি। ডেমোক্র্যাটদের কাছে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল, যেখানে প্রতিপক্ষরা চারটি আসন পুনরুদ্ধার করে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে।

রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে এমন পরিস্থিতি মাত্র এক বছর আগেও প্রায় কল্পনার বাইরে ছিল। কিন্তু গত এক বছরের ব্যবধানে মার্কিন মুলুকে নাটকীয়ভাবে জনপ্রিয়তা হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। এই পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়া ইরান যুদ্ধ। সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাগামছাড়া হওয়ায় সরাসরি আঘাত পড়েছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়, যার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ভরাডুবির পেছনে রয়েছে ইরান যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব। তার মতে, চলমান যুদ্ধের কারণেই তেলের বাজার চড়া হয়েছে এবং সেই বাড়তি চাপের জেরে ভোটাররা তাদের রায় দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর একটা অংশ ছিল ইরান। তবে একই সঙ্গে মানুষ বুঝেছে, ইরান নিয়ে আমি কী করেছি, সেটার গুরুত্ব কতটা।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘মানুষ ইরান নিয়ে আমার কাজের সঙ্গে একমত। তবে বেশি দামে জ্বালানি কেনার স্বল্পমেয়াদি পরিণতি তারা সম্ভবত নিতে চায়নি। আর সেটা আমি বুঝতে পারছি।’

তবে বর্তমানের এই রাজনৈতিক ধাক্কা সামলেও ট্রাম্পের জোরালো প্রত্যাশা, সুদূর ভবিষ্যতে ইতিহাস এই সামরিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই মূল্যায়ন করবে। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের বিচারে আমার মনে হয়, সঠিক কাজ করার জন্যই আমাকে মনে রাখা হবে। তবে এর কারণে আমাদের এমন একটি সন্ধ্যা কাটাতে হয়েছে, যা খুব একটা সুখকর ছিল না।’

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্বাচনী ফলাফলের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, ‘বিবেক হোক বা জীবনযাত্রার ব্যয়, আমেরিকানরা যুদ্ধকে না বলেছে। আর আমরা এই বার্তাকে সমর্থন করি।’