ইউরোপজুড়ে বড় ধরনের আতঙ্ক: একদিনেই সাত উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি

অনলাইন ডেস্ক:

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইউরোপের আকাশে একের পর এক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার ভুয়া হুমকিতে গোটা মহাদেশজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও বিমান জরুরি অবতরণের পর কঠোর তল্লাশি চালানো হয়, আবার কোথাও নিরাপত্তার খাতিরে যুদ্ধবিমান পর্যন্ত পাহারায় নিয়োজিত করা হয়, যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো বিস্ফোরকের অস্তিত্ব মেলেনি।

ওই দিন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমায় অন্তত সাতটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার এই হুমকি আসে। ভুক্তভোগী এসব বিমানের তালিকায় ছিল রায়ানএয়ার, উইজ এয়ার, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনস এবং লট এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। পোল্যান্ড, ইতালি, স্পেন, বুলগেরিয়া ও যুক্তরাজ্যজুড়ে এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়।

একই সময়ে গ্রিসের সাইরোস দ্বীপের কাছাকাছি ইসরায়েলগামী ‘ক্রাউন আইরিস’ নামের একটি যাত্রীবাহী জাহাজেও বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। হাইফা বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করা এই জাহাজটিকে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যাত্রীদের নামিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও সেখানেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত সোমবার লন্ডনের লুটন বিমানবন্দর থেকে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া উইজ এয়ারের একটি ফ্লাইট বোমা হামলার হুমকির মুখে পড়েছিল। পরবর্তীতে বিমানটি হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে জরুরি অবতরণ করে এবং সে সময় হাঙ্গেরির একটি গ্রিপেন যুদ্ধবিমান আকাশে সেটিকে সার্বিক নিরাপত্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

এসব নিরাপত্তা হুমকির পেছনে ঠিক কারা জড়িত রয়েছে, তা এখন পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারেনি ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ। তবে এর আগে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা এবং নাশকতাসহ নানা ধরনের ‘হাইব্রিড’ হামলা চালানোর অভিযোগ উত্থাপন করে আসছেন, যদিও অভিযুক্ত দুটি দেশই এই ধরনের সব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।

বিমান চলাচলের ঝুঁকি বিশ্লেষক রাইস জোনসের মতে, ঠিক একই দিনে একসঙ্গে সাতটি উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাঁর পরিষ্কার ধারণা, এ ধরনের আকস্মিক হুমকির নেপথ্যে প্রধান উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো।