নামের মিলের জেরে এক বছর জেল: অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন নিরপরাধ আলমাস
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দুই যুগ আগের একটি অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামির পরিবর্তে ভুলবশত গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর ধরে কারাভোগ করা নিরপরাধ মো. আলমাসকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কারা কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রবিবার এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন।
নামের মিল থাকায় প্রকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির বদলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন দাবি জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন কারাবন্দী আলমাস। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন এবং কারাগারে থাকা আলমাস ও দণ্ডিত ব্যক্তির আসল পরিচয় এবং বিস্তারিত তথ্য যাচাই করতে একটি অনুসন্ধান পরিচালনার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে একজন জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এই অনুসন্ধান সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আদালতের সেই নির্দেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন শেষে গত ১ নভেম্বর একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান অত্যন্ত নিবিড়ভাবে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
উক্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ এক বছর ধরে কারাগারে বন্দী থাকা মো. আলমাস এবং মিরপুর থানার অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মো. আলমাছ—এই দুই ব্যক্তি সম্পূর্ণ আলাদা ও ভিন্ন। মামলার প্রকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. আলমাস বর্তমানে দেশের বাইরে কানাডায় অবস্থান করছেন। অথচ তার নামের সাথে মিল থাকায় সম্পূর্ণ অন্য এক ব্যক্তি মো. আলমাসকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি কোনো অপরাধ না করেও এক বছর ধরে কারাবাস করছেন, কারণ তিনি ওই মামলার প্রকৃত দণ্ডিত ব্যক্তি নন।
