অনলাইন ডেস্ক:
বয়স ৪৬ বছর, কিন্তু স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে গতকাল শনিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কলা ও আইন অনুষদের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন নওগাঁর তৌহিদুর রহমান তপু।
তপু জানান, কিশোর বয়সে মস্তিষ্কের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ২৬-২৭ বছর অসুস্থতার সঙ্গে সংগ্রাম করেছেন। এ কারণে পড়াশোনা বন্ধ ছিল। তার স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যান। কিন্তু তপু হার মানেননি। তিনি বলেন, “২০১৭-১৮ সালে সুস্থ হয়ে পড়াশোনা শুরু করি। ২০১৯ সালে জেডিসি, ২০২১ সালে দাখিল এবং ২০২৪ সালে আলিম পাস করেছি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিই।”
এখনও তার স্বপ্ন পূরণের পথ সহজ নয়। তপু বলেন, “যদি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পাই, তবে আবার চেষ্টা করব। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেব।” তার স্বপ্নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ভালো ফল করতে চাই। আমি একজন শিক্ষক হতে চাই। আমার লক্ষ্য হলো গরিব শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা, যাতে তারা কম খরচে ভালো শিক্ষা পায়। দেশের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষার সুযোগ দিতেই আমি এই কাজটি করতে চাই।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। তিনি ‘বি’ ইউনিটে পরীক্ষা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, মেধাতালিকায় স্থান পেলে ভর্তির সুযোগ পাবেন।”
তপুর এই প্রচেষ্টা শুধু তার জীবনকেই পাল্টে দিয়েছে, বরং এটি সমাজের জন্যও এক শক্তিশালী বার্তা— ইচ্ছা শক্তি আর পরিশ্রমে সবকিছুই সম্ভব।










