গুগলের নতুন নিরাপত্তা নীতি কার্যকর, গোপনীয়তা রক্ষায় প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক:

গুগলের নতুন নিরাপত্তা নীতি কার্যকর হয়েছে যা জানুয়ারিতে ঘোষণা করা হয়েছিল। ‘ফিঙ্গারপ্রিন্টিং’ নামে পরিচিত এই নীতিতে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহল আশঙ্কা করছে, এতে ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন।

২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্টিং নীতির আলোচনা শুরু হলে গুগল নিজেই এর বিরোধিতা করেছিল। তখন গুগল এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে “অসাধু কাজ” বলে আখ্যায়িত করেছিল। তবে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে, ৬ বছর পর প্রতিষ্ঠানটি সেই একই নীতি কার্যকর করেছে, যা এখন ফিঙ্গারপ্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনদাতাদের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ডিভাইস সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দেয়।

ফিঙ্গারপ্রিন্টিং প্রযুক্তি এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ডিভাইসের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো—যেমন IP ঠিকানা, ব্রাউজারের ধরন, অপারেটিং সিস্টেম এবং ডিভাইসের অন্যান্য হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার তথ্য—সংগ্রহ করা হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে অনলাইন বিজ্ঞাপনদাতারা ব্যবহারকারীর অনলাইন আচরণের ওপর ভিত্তি করে তাদের সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারে।

গুগলের দাবি, এই নতুন নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতাদের তথ্য সংগ্রহ এবং ব্যবহারকারীর রুচি অনুযায়ী বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে বিজ্ঞাপনদাতারা আরও নির্ভুলভাবে তাদের লক্ষ্যমাত্রার দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। তবে গুগল আশ্বাস দিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হবে না এবং গোপনীয়তা রক্ষায় কোনও ধরনের আপোষ করা হবে না।

তবে আন্তর্জাতিক গোপনীয়তা রক্ষা সংস্থাগুলোর মতে, এই নতুন নীতিমালার ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পাবে এবং তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়বে। অনেকেই এটিকে “ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গুগল ক্রোমের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাউজার মজিলার প্রকৌশলী মার্টিন থমসন এই নীতিমালা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ফিঙ্গারপ্রিন্টিং এবং আইপি অ্যাড্রেস সংগ্রহ করা ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে। একবার এই তথ্য সংগ্রহ করা হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং ব্যবহারকারীরা সহজেই ট্র্যাক হয়ে যায়।

যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশন অফিস (আইসিও) এই প্রযুক্তিকে “অসাধু পন্থা” বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের পছন্দের তালিকা সংকুচিত হয়ে যাবে এবং তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও সীমিত হবে। আইসিও’র মতে, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্টিং প্রযুক্তি সঠিক উপায় নয়।

গুগল যদিও দাবি করেছে যে এই নীতিমালা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় কোনও প্রভাব ফেলবে না, কিন্তু ব্যবহারকারী গোপনীয়তা রক্ষা সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক হতে পারে। তথ্য সংগ্রহের এই প্রক্রিয়াকে তারা ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন।

সূত্র: ইউএনবি