জি কে শামীমের খালাসের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মালয়েশিয়ায় অর্থপাচারের অভিযোগে আলোচিত মামলায় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার জি কে শামীমের খালাসের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রবিবার (১৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এ আবেদনের শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র।

গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি মো. যাবিদ হোসেনের বেঞ্চ রায় দিয়ে জি কে শামীমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস দেন। বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা খারিজ করে তাকে মুক্তি দেন আদালত।

এর আগে, ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মো. নজরুল ইসলাম জি কে শামীমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় তার সাত দেহরক্ষীকে চার বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছিল। ওই রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, “টেন্ডারবাজ ও অর্থপাচারকারীদের কোনো আদর্শ থাকে না, তারা শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থে অপরাধে জড়ায়।”

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর র‌্যাব অভিযান চালিয়ে রাজধানীর নিকেতনে জি কে শামীমের বাড়ি ও অফিস থেকে ৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, নগদ ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা, বিদেশি মুদ্রা ও মদ জব্দ করে। পরদিন গুলশান থানায় অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়।

২০২০ সালের ৪ আগস্ট সিআইডি আটজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে। তদন্তে উঠে আসে, জি কে শামীমের নামে ১৮০টি এফডিআর রয়েছে, যার পরিমাণ ৩৩৭.৩ কোটি টাকা। রাজধানীতে রয়েছে ৫২ কাঠা জমি ও দুটি বাড়ি। সিআইডির দাবি, সরকারি টেন্ডার কারসাজি, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অনিয়মের মাধ্যমে এসব সম্পদ গড়ে তোলেন তিনি।

অস্ত্র মামলায় ইতোমধ্যে জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তবে অর্থপাচার মামলায় হাইকোর্টের খালাসের রায় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, অপরাধ প্রমাণিত হলেও খালাসের রায় দেওয়া হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ।