অনলাইন ডেস্ক:
দুই বছর বয়সী মেয়ার, অপুষ্টি ও সিলিয়াক রোগে ভুগতে থাকা একটি শিশু, গত ১৭ দিন ধরে গাজার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পাঁজরের হাড় বেরিয়ে আসা, ফোলা পেট ও অবসন্ন দেহে মেয়ার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার মা আসমা আল-আর্জা জানান, মেয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ খাবার ও ওষুধ সীমান্ত বন্ধ থাকায় আর পাওয়া যাচ্ছে না।
মেয়ারের মতো হাজার হাজার শিশু এখন একই পরিস্থিতিতে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের তথ্যমতে, চলতি বছর গাজায় ৯ হাজারেরও বেশি শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্যকর্মীরা সতর্ক করছেন, পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার দ্রুত না পৌঁছালে অপুষ্টিতে শিশুমৃত্যুর হার আরও বেড়ে যাবে।
ত্রাণ সংকটে হাসপাতাল, খাদ্য ফুরিয়ে আসছে
গাজার হাসপাতালগুলোতে আহত ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের উপচে পড়া ভিড়। নাসের হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আহমেদ আল-ফারাহ বলেন, “আমাদের হাতে কিছুই নেই। নবজাতক ও গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার বা চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধের পাশাপাশি চলমান অবরোধের কারণে মানুষ উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।
ইসরায়েলি অবরোধে খাদ্য প্রবেশ বাধাগ্রস্ত
গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় খাদ্য, ওষুধসহ সব ধরনের পণ্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে প্রায় ২০ লাখ মানুষের এই উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। একসময় যেখানে প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশ করত, এখন তা অপ্রতুল।
ইসরায়েল সম্প্রতি হামাসের হাতে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ তুললেও, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি। এদিকে ইসরায়েলের নতুন ত্রাণ বিতরণ পরিকল্পনা জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সংস্থাগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।
“আমি এটিকে দুধ বলে চালাই, যাতে আমার ছেলে না কাঁদে”
ত্রাণ শিবিরে বসবাসরত মাই নামের এক মা বলেন, “দুধ নেই, তাই বেশি করে পানি মিশিয়ে খাওয়াই। ছেলে না কাঁদলেই হলো।” নুফ আল-আর্জা নামে আরেক মা বলেন, “চার সন্তানের মধ্যে সবাই অপুষ্টিতে ভুগছে। আমি নিজেই ২৩ কেজি ওজন হারিয়েছি।”
যুদ্ধবিরতির দাবিতে অসহায় মানুষ, অবস্থান থেকে সরছে না কেউ
গত রবিবার ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ১০৩ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই শিশু। যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থানে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
“দয়া করে আমাদের বাঁচান” — কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন জাবালিয়ার বাসিন্দা আবু মোহাম্মদ ইয়াসিন।
বিশ্বের প্রধান খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে গাজায় ৭১ হাজার শিশু অপুষ্টিতে পড়তে পারে এবং ১৭ হাজার গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীর প্রয়োজন হবে জরুরি সহায়তা।











