শার্লিজ থেরনের অস্কার জয়ী অভিনেত্রী হওয়ার যাত্রা

অনলাইন ডেস্ক:

অস্কারজয়ী অভিনেত্রী শার্লিজ থেরন পা দিলেন জীবনের ৫০ বছরে। এই বিশেষ উপলক্ষে তার অভিনয়জীবনের সংগ্রামী পথচলা ও শৈশবের দুঃসহ স্মৃতিগুলো তুলে ধরেছে আইএমডিবি।

১৯৭৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বেনোনিতে জন্মগ্রহণ করেন শার্লিজ থেরন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাকে বোর্ডিং স্কুলে পাঠানো হয়, যেখানে তার মধ্যে শিল্পচর্চার প্রতি আগ্রহ জন্মে। শুরুতে ব্যালে নৃত্যশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও হাঁটুতে গুরুতর আঘাতের কারণে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। এরপর শুরু করেন মডেলিং, পরে যুক্ত হন বিজ্ঞাপনচিত্রে। অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক থাকলেও দোটানায় ছিলেন তিনি।

ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ঘুরে বেড়ানোর পর তিনি চলে যান নিউইয়র্কে। সেখান থেকে মাত্র ৩০০ ডলার হাতে নিয়ে মা-সহ পাড়ি জমান লস অ্যাঞ্জেলেসে। কাজের অভাবে কখনও রেস্তোরাঁ থেকে রুটি চুরি করতেও বাধ্য হয়েছেন।

একবার ব্যাংকে চেক ভাঙাতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে সেখানে উপস্থিত জন ক্রসবি নামের এক ব্যক্তি তাকে সাহায্য করেন। তিনিই প্রথম থেরনকে ফিল্ম স্কুলে ভর্তি করান এবং পরিচয় করিয়ে দেন অভিনয়ের জগতে।

১৯৯৫ সালে ‘চিলড্রেন অব দ্য কর্ন ৩: আরবান হার্ভেস্ট’ সিনেমায় এক্সট্রা চরিত্রে অভিনয় করে শুরু হয় তার চলচ্চিত্র জীবন। এরপর ‘ডেভিলস অ্যাডভোকেট’ সিনেমায় আল পাচিনোর সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ তাকে পৌঁছে দেয় মূলধারার হলিউডে।

২০০৪ সালে ‘মনস্টার’ সিনেমার জন্য অস্কার জিতে তিনি হয়ে ওঠেন হলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী। তিনি অভিনয় করেছেন ‘সুইট নভেম্বর’, ‘দ্য ইতালিয়ান জব’, ‘ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড’-এর মতো ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে। একসময় তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের একজন।

তবে থেরনের জীবনে সবচেয়ে বড় ট্রমার জন্ম দেয় ১৯৯১ সালের এক ভয়াবহ রাত। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার মাতাল বাবার গুলির মুখে পড়েন তিনি ও তার মা। আত্মরক্ষার্থে থেরনের মা বন্দুক হাতে নিয়ে পাল্টা গুলি চালালে তার বাবার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেরনের মা আইনি বিচারে বেকসুর খালাস পান।

সেই দুঃসহ অতীত বয়ে নিয়ে শার্লিজ থেরন আজকের অবস্থানে এসেছেন। তার জীবন কেবল সিনেমার পর্দায় নয়, বাস্তবেও এক অনুপ্রেরণার গল্প।