আদাবরে ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত ওসি-এসআই, গুলিবিদ্ধ ২

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর আদাবরে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম ও এক উপপরিদর্শক (এসআই) আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে আদাবরের বেড়িবাঁধ এলাকার ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সকালে আদাবরের ৭ নম্বর সড়কে চাপাতির মুখে একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা দোকানদারকে কুপিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদের ধরতে অভিযানে নামে আদাবর থানা পুলিশ।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে ছিনতাইকারীদের একটি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। সেখানে অভিযান চালাতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ওসি জাহিদুল ইসলাম ও এসআই তরুণ আহত হন।

 

আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সকালের ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ছিনতাইকারীদের চাপাতির আঘাতে আমি ও এসআই তরুণ আহত হই।”

 

হামলার মুখে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে রুবেল ও আমির নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, গুলিবিদ্ধ দুজন ছাড়াও কাশেম ও জয় নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা বলেন, “আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থল থেকে মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে।”

 

পুলিশের দাবি, অভিযানে ধরা পড়া ব্যক্তিরা আদাবর ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় একটি ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। বিভিন্ন সূত্রে এই চক্রকে ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আদাবর, শ্যামলী হাউজিং, তুরাগ হাউজিং, ঢাকা উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এই চক্র।

 

ঘটনার পর ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।