নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদুল আজহার আগের দিন (২৭ মে) ভোরে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয়টি নবজাতক আকস্মি মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ত্রুটিগুলো সংশোধন করে সেবা কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন নিহত নবজাতকদের একজনের বাবা হাবিবুর রহমান।
রাজধানীর হলিডে ইন হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজ শনিবার তিনি বলেন, এটি ছিল তাঁর তৃতীয় সন্তান। প্রথম দুই সন্তানও একই হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিয়েছিল। সেবায় সন্তুষ্ট থাকায় এবারও তিনি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁরা চান হাসপাতালের ত্রুটিগুলো সংশোধন করা হোক এবং সেবা কার্যক্রম সেবা কার্যক্রম চালু থাকুক।
সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতাল উভয়ই চান না হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাক বা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। তবে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জানান, পাঁচ সদস্যের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এক নার্স ও আরেক কর্মীর পেশাগত ঘাটতি পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে তাঁদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘অপ্রত্যাশিত অবহেলা’র ফল বলে মনে করছে।শিশির মনির আরও বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নোটিশ বেআইনি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আজীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসা, সম্মানজনক আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের যোগ্য সদস্যদের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঈদুল আজহার আগের দিন (২৭ মে) ভোরে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয়টি নবজাতক আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর অল্প সময়ের ব্যবধানে একে একে ছয় শিশুরই মৃত্যু হয়। পরে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ওই দিনই হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে রমনা থানায় একটি মামলা করা হয়। গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয় এবং পরদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত কমিটি তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করে।











