আসন পুনর্নির্ধারণে বড় পরিবর্তনের পথে নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩০০টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৬৬টি আসনের বিষয়ে ৪১৬টি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশেই ২০০১ সালের সীমানা পুনর্বহালের দাবি করা হয়েছে।
পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনের জন্য সর্বোচ্চ ১০৩টি এবং কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট) আসনের জন্য ৯২টি আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া মানিকগঞ্জে একটি নতুন আসনের দাবিতে ৩৮টি এবং চাঁদপুরে অতিরিক্ত একটি আসনের দাবিতে ৯টি আবেদন জমা পড়ে।
সম্প্রতি ‘সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ জারির পর ইসি সীমানা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেয়। এ প্রক্রিয়ায় জনগণের আবেদন, সর্বশেষ আদমশুমারির তথ্য এবং প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক সামঞ্জস্যকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ইউএনবিকে বলেন, “আমরা আবেদনগুলো খতিয়ে দেখছি। যুক্তিসঙ্গত হলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে সব আসনের সীমানা বদলাবে না।”
তিনি আরও জানান, যৌক্তিক আবেদন ছাড়াও আদমশুমারির তথ্য ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইসি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শহরাঞ্চলে আসন কমে গ্রামীণ এলাকায় বাড়তে পারে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু আসনের সীমানায় পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রথম ধাপে খসড়া সীমানা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে এবং আপত্তির সুযোগ থাকবে। আপত্তি নিষ্পত্তির পর প্রকাশ পাবে চূড়ান্ত গেজেট। ধারণা করা হচ্ছে, ২০০৮ সালের পর এবারই সবচেয়ে বড় পরিসরে সীমানা পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ১০০টির বেশি আসনের সীমানা পরিবর্তন হয়েছিল, তবে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে খুব সামান্য পরিবর্তনই হয়। সাবেক স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম শহীদ খান সতর্ক করেছেন, “আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান না হলে আদালতে রিট হতে পারে, যা নির্বাচনে বিলম্ব ঘটাতে পারে।”
এবার যে ৬৬টি আসন উল্লেখযোগ্য বিবেচনায় এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে: সাতক্ষীরা-৩ ও ৪, রংপুর-১, বরগুনা-১ ও ২, পিরোজপুর-১ ও ২, মানিকগঞ্জের তিনটি আসন, কুমিল্লার পাঁচটি, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি, চাঁদপুরের পাঁচটি, চট্টগ্রামের চারটি এবং আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসন।
