অনলাইন ডেস্ক:
ইরাকের পশ্চিম আল আনবার প্রদেশে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর এবং ইরাকি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর শীর্ষ নেতা আবদুল্লাহ মক্কি মুসলিহ আল-রিফাই, যিনি আবু খাদিজা নামেও পরিচিত, নিহত হয়েছেন। তাকে ‘ইরাক ও সারা বিশ্বে অন্যতম সবচেয়ে বিপজ্জনক সন্ত্রাসী’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, জানিয়েছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি।
গত বৃহস্পতিবার, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি ‘নির্ভুল বিমান হামলা’ পরিচালনা করে, যার ফলে রিফাই নিহত হন। সেন্টকম জানিয়েছে, তিনি আইএসের সবচেয়ে শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন এবং আইএসের বৈশ্বিক সংগঠনের জন্য রসদ সরবরাহ, অভিযান পরিকল্পনা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করতেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “তাকে আমাদের সাহসী যোদ্ধারা নিরলসভাবে অনুসরণ করে হত্যা করেছে।” তিনি আরও বলেন, “আরেকজন আইএস সদস্যের দুর্বিষহ জীবন শেষ হয়েছে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে বলেন, “শক্তির মাধ্যমে শান্তি!” আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসী নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই হামলা সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এসেছে।
সেন্টকম জানায়, রিফাই এবং আরও এক আইএস সদস্যকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তারা সুইসাইড ভেস্ট পরিহিত ছিলেন, যা বিস্ফোরিত হয়নি। তাদের কাছে একাধিক অস্ত্রও ছিল। সেন্টকম আরও জানায়, তাদের পূর্ববর্তী অভিযানে পাওয়া ডিএনএ থেকে রিফাইকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়, যেখানে তিনি কিছুটা ভাগ্যক্রমে বাঁচতে সক্ষম হয়েছিলেন।
জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলা, স্পেসেল অপারেশনস কমান্ডের প্রধান, বলেন, “রিফাই ছিলেন আইএসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে একজন। আমরা সন্ত্রাসীদের হত্যা করতে ও তাদের সংগঠনগুলো ভাঙতে চলেছি, যেগুলো আমাদের দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, মিত্র ও অংশীদারদের জন্য হুমকি তৈরি করে।”
আইএস একসময় ৮৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে ছিল, যা উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে উত্তর ইরাক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রায় আট কোটি মানুষ তাদের নিষ্ঠুর শাসনে ছিল। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ইরাক আইএসের পরাজয় ঘোষণা করে এবং ২০১৯ সালে তারা তাদের শেষ দখলকৃত এলাকা হারায়। তবে, সন্ত্রাসী ও ঘুমন্ত সেল এখনও দেশের বিভিন্ন অংশে সক্রিয় রয়েছে এবং তারা ইরাকি সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি, সেন্টকম











