ইরানে বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু ঘোষণা’—শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক:

ইরানে চরম অর্থনৈতিক সংকটের জের ধরে বেশ কয়েকদিন থেকেই বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তবে এই বিক্ষোভ এক পর্যায়ে এসে সরকার বিরোধী হয়ে উঠে। বিক্ষোভে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। বিক্ষোভকারীদেরকে উসকানোর পাশাপাশি জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরকার পতনের এ আন্দোলন এতটাই ফুঁসে উঠেছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু চাইছেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে।

 

১৯৭৯ সালে ইসলামি শাসনতন্ত্র কায়েমের পর এই মুহূর্তে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে খামেনির শাসনব্যবস্থা। বিক্ষোভ দমাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীকে। এ অবস্থায় এবার ইরানের বিক্ষোভরত জনতাকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। বিক্ষোভে যারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, তাদেরকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। খবর এএফপির।

 

ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রদান করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের ‘মোহারেব’ (আল্লাহর শত্রু) বলে ঘোষণা করছে ইসরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র। ‘মোহারেব’-দের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’

 

ইরানের সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী কিংবা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান গ্রহণ করে- তাহলে ওই গোষ্ঠীর বা সংগঠনের সব সদস্যকে মোহারেব বা আল্লাহর শত্রু বলে ঘোষণা করে। ইরানের সংবিধানে আল্লাহর শত্রুদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

 

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলনের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল এখন বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।

 

জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ।

 

এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।