ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ: নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ

প্রকাশিত: 24 June 2025, 7:22 pm
ফন্ট:

অনলাইন ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নতুন করে এক সংকটময় মোড় নিয়েছে। সাম্প্রতিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, তা কার্যকর হওয়ার আগেই ইসরায়েলের হামলায় সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। এতে চরমভাবে বিরক্ত ও হতাশ ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

আল জাজিরার মার্কিন সংবাদদাতা ফিল লাভেলের বরাতে বলা হয়, চুক্তি ভঙ্গের ঘটনায় ট্রাম্প উভয় পক্ষ—ইরান ও ইসরায়েল—এর ওপর ক্ষুব্ধ হলেও তার প্রধান অসন্তোষ ছিল নেতানিয়াহুর প্রতি। ট্রাম্প মনে করছেন, নেতানিয়াহু তাকে ‘কৌশলগতভাবে অন্ধকারে রেখে’ একতরফাভাবে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুধু সমঝোতাকে ভেস্তে দিয়েছেনই না, বরং তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

গত সোমবার ট্রাম্প প্রথমে ফোনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি আদায় করেন। এরপর ইরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে তিনি কাতারের সহায়তা নেন। কিন্তু সমঝোতা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এতে চুক্তি কার্যত ভেঙে যায় এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ব্যর্থতার ছাপ পায়।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ইউরোপ সফরের প্রাক্কালে ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির ব্যর্থতায় তিনি হতাশ, এবং এই ঘটনার জন্য নেতানিয়াহুকে বিশেষভাবে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “আমরা শান্তির জন্য যেটুকু পারি করেছি, কিন্তু এটি একপাক্ষিকভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক ব্যর্থতা কেবল তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভূমিকা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনে এই ইস্যুতে ট্রাম্পকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির এই আকস্মিক ভাঙন কেবল দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে তা-ই নয়, বরং এতে নতুন করে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির অঙ্গনে।

মন্তব্য করুন