এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: আল নাসরের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়লেন রোনালদো

অনলাইন ডেস্ক:

সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার মধ্যে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে বিশ্রাম দিয়েছে আল নাসর। আগামী সোমবার উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে পাকতাকোরের বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি, তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দলে রাখা হয়নি পর্তুগিজ মহাতারকাকে।

গত সপ্তাহে সৌদি প্রো লিগের ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনালদো। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তার বর্তমান ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা এখন ৯৮৫, আর তিনি ১ হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার লক্ষ্য নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

আল নাসরের কোচ অ্যাঞ্জে পোস্টেকোগলু জানিয়েছেন যে, ম্যাচের বাড়তি চাপ ও দীর্ঘ বিমান যাত্রার ধকলের কারণে রোনালদোকে এই ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের শারীরিক কারণ দেখিয়ে কিংসলে কোমান ও মোহাম্মদ সিমাকানকেও ম্যাচের মূল স্কোয়াডে রাখা হয়নি।

উজবেকিস্তানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোচ পোস্টেকোগলু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ম্যাচের চাপ এবং দীর্ঘ ভ্রমণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে আমরা তাদের বিশ্রাম দিয়েছি।’

এশিয়ার শীর্ষ এই ক্লাব প্রতিযোগিতায় এবার একেবারেই ভালো শুরু করতে পারেনি আল নাসর। প্রথমবারের মতো এশিয়ান শিরোপা জয়ের উচ্চাশা নিয়ে মাঠে নামা দলটি বর্তমানে পশ্চিম অঞ্চলের গ্রুপে নবম অবস্থানে রয়েছে। ৩২ দলের এই প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবের যে পাঁচ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছে, তাদের মধ্যে আল নাসরের অবস্থানই সবচেয়ে নিচে।

চলমান এই প্রতিযোগিতায় পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে মোট ১৬টি করে দল অংশ নিচ্ছে এবং দুই অঞ্চলের শীর্ষ আটটি দল চূড়ান্তভাবে নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করবে।

দলের বর্তমান পারফরম্যান্স ও অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে কোচ বলেন, ‘শুরুটা আমাদের জন্য বেশ কঠিন হলেও প্রস্তুতির সঠিক পরিবেশ এবং মৌসুমের শুরুতে পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আমরা এখন বেশ ভালো একটি অবস্থায় পৌঁছেছি।’

এর আগে গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব আল ওয়াসল নিরাপত্তার আশঙ্কায় রিয়াদে সফরে যেতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিপক্ষে আল নাসরের পূর্বনির্ধারিত ম্যাচটি স্থগিত করে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এর ঠিক আগমুহূর্তে ১২ অক্টোবর আল নাসরের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত আরেকটি ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময়ও এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মূলত ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।