বিশ্ব ক্রিকেটে অনন্য ইতিহাস, এক পঞ্জিকাবর্ষে ৪০০ ছক্কার বিশ্বরেকর্ড গড়ল ভারত

অনলাইন ডেস্ক:

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার নতুন এক ইতিহাস রচনা করেছে ভারত, যেখানে এক পঞ্জিকাবর্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়ে দলটির ব্যাটাররা হাঁকিয়েছেন ৪০০ ছক্কা। এর আগে ক্রিকেট বিশ্বের কোনো দল এক বছরে এত বেশি ছক্কা মারার নজির গড়তে পারেনি। রোববার ১ নভেম্বর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে নেমে এই অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করে ভারতীয় দল।

নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ২০২৬ সালে নিজেদের ৪০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ভারত। উত্তেজনাকর এই লড়াইয়ে দলটির ব্যাটাররা সব মিলিয়ে মোট ১১টি ছক্কা হাঁকান, যার সুবাদে এক পঞ্জিকাবর্ষে ভারতের মোট ছক্কার সংখ্যা গিয়ে ঠেকে ঠিক ৪০০টিতে।

এর আগে এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার বিশ্বরেকর্ডটি ছিল অস্ট্রিয়ার দখলে। তারা ২০২৫ সালে মাত্র ৩৬ ম্যাচে ৩২৬টি ছক্কা মেরেছিল। আর টেস্ট খেলুড়ে বা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আগের এই রেকর্ডটিও ভারতেরই দখলে ছিল, যারা ২০২২ সালে ৪০ ম্যাচে ২৮৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছিল।

গত চার বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের ছক্কা মারার হার কিংবা গতিও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে দলটি প্রতি ম্যাচে গড়ে ৭ দশমিক ২টি ছক্কা মারত, অথচ ২০২৬ সালে সেই সাফল্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রতি ম্যাচে ১০টিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঐতিহাসিক এই নতুন রেকর্ডের সর্বশেষ ও ৪০০তম ছক্কাটি আসে দলের অলরাউন্ডার নামান ধীরের ব্যাট থেকে। ইনিংসের ১৯তম ওভারে ব্লেয়ার টিকনারের করা বলটি ফাইন লেগের দিকে ফ্লিক করতে গিয়ে ব্যাটের ওপরের অংশে লেগে সীমানা পার হয়ে যায়, আর এর মাধ্যমেই ভারতের ৪০০ ছক্কার রেকর্ডটি পূর্ণতা পায়।

ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ১৯১ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। দলের পক্ষে ইশান কিশান মাত্র ৩২ বলের মুখোমুখি হয়ে ৬১ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে সাজানো ছিল পাঁচটি দর্শনীয় ছক্কা। এছাড়া শ্রেয়াস আইয়ার ২৩ বলে ৫০ রানের আরেকটি কার্যকরী ইনিংস খেলেন এবং চারটি ছক্কা নিজের নামের পাশে যোগ করেন, আর নীতিশ রেড্ডি ইনিংসটিতে একটি ছক্কা হাঁকান।

শুধুমাত্র এক পঞ্জিকাবর্ষে দলগত মোট ছক্কার বিশ্বরেকর্ডই নয়, বরং কোনো নির্দিষ্ট একটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও নতুন এক ইতিহাস গড়েছে ভারত। ২০২৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় লড়াইয়ে এ পর্যন্ত মোট ১৪২টি ছক্কা মেরেছে দলটি, যা এক পঞ্জিকাবর্ষে যেকোনো নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ছক্কার বিশ্বরেকর্ড।

গত এক দশকের খতিয়ান বা তুলনামূলক হিসাবের দিকে তাকালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছক্কা মারার প্রবণতা ও ব্যাটারদের আগ্রাসী মনোভাব কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা পরিষ্কার হয়ে যায়। ২০১৬ সালে ভারত এক পঞ্জিকাবর্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা মেরেছিল, যেখানে ২১ ইনিংসে তাদের মোট ছক্কার সংখ্যা ছিল মাত্র ৮১টি এবং সেই সময় প্রতি ম্যাচে ছক্কা মারার গড় ছিল ৩ দশমিক ৮৫টি।

কিন্তু মাত্র দশ বছরের ব্যবধানে ক্রিকেটের সেই চেনা চিত্র ও কৌশল পুরোপুরি বদলে গেছে এবং বর্তমান যুগে ব্যাটারদের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে ছক্কা মারার প্রবণতা। আধুনিক ব্যাটের উন্নত গুণগত মান, অপেক্ষাকৃত ব্যাটিং সহায়ক পিচ এবং বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অপ্রতিরোধ্য প্রভাবই মূলত এই আমূল পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করছে।

ভারতের সামগ্রিক সাফল্যের ক্ষেত্রে দেশের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আইপিএলের প্রভাবও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী। আইপিএলের মতো হাই-ভোল্টেজ আসরের সুবাদে ভারতের তরুণ ও উদীয়মান ব্যাটাররা নিয়মিতভাবে বিশ্বসেরা বোলারদের মোকাবিলা করার সুযোগ পাচ্ছেন, আর অভিষেক শর্মা কিংবা ইশান কিশানের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটাররা মূলত সেই ধারাবাহিক সফল কাঠামোরই জীবন্ত উদাহরণ।