নিজস্ব প্রতিবেদক:
কমিশনিং লাইসেন্সে আটকে রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। অথচ চলতি আগস্টেই জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা ছিলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যু। যদিও বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষাও শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো মেলেনি পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) ‘বি-২’ কমিশনিং লাইসেন্স। আর ওই লাইসেন্স ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব নয়। তাতে আরো পিছিয়ে গেল রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার সময়। বিদ্যুৎ বিভাগ এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি (এনপিসিবিএল) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার খরচে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ মডেলের রিঅ্যাক্টর রয়েছে। যার প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপসের সুযোগ নেই। সেজন্যই প্রতিটি ধাপ নিখুঁতভাবে শেষ করেই কেবল পরবর্তী ধাপে যেতে হয়।
সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথম ইউনিটে গত এপ্রিলে পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজন শুরু হয়। তারপর জ্বালানি সংযোজন ও প্রাথমিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো রিঅ্যাক্টরে (যেখানে পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তাপ উৎপাদন করা হয়) নিয়ন্ত্রিতভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা। তাকে ক্রিটিক্যালিটি বলা হয়। ওই ধাপে যেতে হলে আগে বায়রোর বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স পেতে হবে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে রূপপুর প্রকল্প পরিচালনাকারী নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর সম্পন্ন হয়েছে জ্বালানি সংযোজন এবং গুরুত্বপূর্ণ ৯০টি নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা। তবে এখন বায়রো চূড়ান্ত পরিদর্শন শেষে লাইসেন্স দিলেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে। তাছাড়া লাইসেন্স পেলেই শুরু হবে না বিদ্যুৎ উৎপাদন। প্রথমে রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া চালু হবে। তারপর আরো ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রস্তুতিত শেষে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যাবে।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বায়রোর চেয়ারম্যান মো. মাহামুদুল হাসান জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ পর্যায়ের লাইসেন্স দেয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল প্রক্রিয়া। প্রকল্পের নিরাপত্তা, সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ নিশ্চিত হওয়ার পরই লাইসেন্স দেয়া হবে। তবে কবে নাগাদ ওই অনুমোদন দেয়া হতে পারে তা এখনো নিশ্চিত করা হয়।











