প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনে শিথিল হচ্ছে প্রক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্য সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশেষ করে বয়স বা জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষা সনদের পাশাপাশি পাসপোর্ট, ওয়ারিশ সনদ, বিদেশের চাকরির পরিচয়পত্র, রেসিডেন্স কার্ড, বিএমইটি কার্ড, ভিসার কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো নথি বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

 

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সিদ্ধান্ত হলে প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের বিদ্যমান প্রক্রিয়া কিছুটা শিথিল করা হতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সংশোধনের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অনেক বাংলাদেশি অল্প বয়সে পাসপোর্ট করে পরিবারের সচ্ছলতার জন্য বিদেশে পাড়ি জমান। পরে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়ে বয়স ও অন্যান্য তথ্য নিয়ে সমস্যায় পড়েন। এ ধরনের ক্ষেত্রে পাসপোর্টকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ধরে এনআইডি সংশোধনের আবেদন বিবেচনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

 

জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদও গ্রহণ করা হতে পারে। তবে ওই সনদে পরিবারের সদস্যদের এনআইডি নম্বর থাকা প্রয়োজন হবে। পরিবারের সদস্যদের এনআইডি না থাকলে শিক্ষা সনদকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্মের ক্রমানুসার এবং বাবা-মা, ভাই-বোনের সঙ্গে বয়সের যৌক্তিক পার্থক্য রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হবে।

 

প্রবাসী হিসেবে আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পাসপোর্টের পাশাপাশি বিদেশের চাকরির পরিচয়পত্র, রেসিডেন্স কার্ড, বিএমইটি কার্ড, ভিসার কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো নথি বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনলাইন ডকুমেন্টকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

 

তবে প্রকৃত প্রবাসী ছাড়া অন্য কেউ যাতে প্রবাসী পরিচয় ব্যবহার করে এনআইডি সংশোধনের সুযোগ না পান, সে বিষয়েও সতর্ক থাকবে ইসি। এজন্য পাসপোর্টে থাকা ভিসার সিল ও ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে। বিদেশ গমন ও দেশে ফেরার তথ্যও পর্যালোচনার প্রস্তাব রয়েছে। ভবিষ্যতে বিএমইটি ও ইমিগ্রেশন ডেটাবেজের সঙ্গে এনআইডি তথ্যভাণ্ডারের সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এনআইডি সেবা সহজ করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে কাজের গতি বেড়েছে। সেবাগ্রহীতারা এর সুফল পাচ্ছেন। সামনে আরও পাবেন।’

 

এর আগে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, এনআইডি অন্যান্য সাধারণ কার্ডের মতো নয়। এর সঙ্গে বিচারিক, উত্তরাধিকার, আইনি, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় জড়িত। তাই প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুসরণ করে বাস্তবভিত্তিক যাচাইয়ের মাধ্যমে কেস-বাই-কেস সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনসংক্রান্ত সার্বিক বিষয় নিয়ে একটি ওয়ার্কশপ করা হবে। সেখানে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

 

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম, ইতালির রোম ও মিলান, কুয়েতের কুয়েত সিটি, কাতারের দোহা, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি, কানাডার অটোয়া ও টরন্টো, জাপানের টোকিও, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস, মালদ্বীপের মালে, ওমানের মাসকাট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াসহ ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে।

 

এ ছাড়া সুইডেন, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে নতুন করে এই কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এসব দেশে কার্যক্রম শুরু হলে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা কার্যক্রম ১৯টি দেশে পৌঁছাবে।