নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে শ্রম খাতের সংস্কার, শোভন কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার নতুন এক যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রোববার (১৯ জুলাই) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হুংবোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে শ্রম খাতে চলমান সংস্কার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং নিরাপদ শ্রম অভিবাসন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।
দুই দিনের বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হুংবো বিকেলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার শ্রম খাতে ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে শোভন কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনি ইশতেহারে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রম প্রশাসন আরও শক্তিশালী করা, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও দক্ষ শ্রম অভিবাসন সহজতর করতে আইএলওর অব্যাহত সহযোগিতা ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রম খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি আসন্ন আইএলও গভর্নিং বডির অধিবেশনে যথাযথ স্বীকৃতি পাবে এবং আইএলও সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান প্রক্রিয়া দ্রুত সমাপ্তির পথ তৈরি হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, “কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশ নতুন এক যাত্রা শুরু করেছে। শ্রম খাতের সংস্কারের মাধ্যমে শোভন কাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।”
বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হুংবো বাংলাদেশের শ্রম খাত উন্নয়নে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শ্রম সংস্কার, শোভন কর্মসংস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার পাশে আইএলও থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতির উন্নয়নে অর্জিত সাফল্য অন্যান্য দেশের সঙ্গে আইএলওর সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হতে পারে।”
বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও আইএলওর মধ্যে বিদ্যমান অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।











