অনলাইন ডেস্ক:
চীন তাদের ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরির গবেষণার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। পূর্ব চীনের আনহুই প্রদেশের হফেই শহরে অবস্থিত ‘সায়েন্স আইল্যান্ড’ গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা ফিউশন শক্তির উন্নয়ন এবং প্রয়োগের ওপর কাজ করছেন। এটি চীনের পরবর্তী প্রজন্মের বিশুদ্ধ জ্বালানির উৎস হিসেবে ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরির অংশ।
সম্প্রতি, চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের অধীন প্লাজমা ফিজিক্স ইনস্টিটিউট বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেটের ডায়নামিক পরীক্ষার ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা ফিউশন প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ফিউশন শক্তির সক্ষমতা পরিমাপ করা হচ্ছে।
গবেষক ছিন চিংকাং জানান, “প্রথম রাউন্ডের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই আরও উচ্চতর প্যারামিটার ও চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের হার দিয়ে একাধিক পরীক্ষা চালানো হবে।” এই পরীক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি সুবৃহৎ সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট, যা ফিউশন রিয়েক্টরের মূল উপাদান।
বায়ুশূন্য কনটেইনারে পরীক্ষা চলাকালে, সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি ৬.৫ মিটার ব্যাস এবং ৯.২ মিটার উচ্চতার। এতে অত্যন্ত নি¤œ তাপমাত্রা ও উচ্চ বৈদ্যুতিক প্রবাহের পাওয়ার সাপ্লাই রয়েছে, যা বিভিন্ন পরীক্ষার পরিস্থিতিতে সফলভাবে পরীক্ষা চালানোর সক্ষমতা রাখে।
গবেষকরা জানান, প্রথম রাউন্ডের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্থির বৈদ্যুতিক প্রবাহ ছিল ৪৮ কিলোঅ্যাম্পিয়ার, যা আশানুরূপ ফলাফল দিয়েছে। ভবিষ্যতে, এই সিস্টেমের বহন ক্ষমতা ৫০ কিলোঅ্যাম্পিয়ারের বেশি হবে এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের হার প্রতি সেকেন্ডে ১.৫ টেরাওয়াটে পৌঁছাবে।
এছাড়া, ফিউশন প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ১৮টি সাব-সিস্টেমের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে, এবং সেগুলোর একত্রীকরণ সংক্রান্ত পরীক্ষা চলছে। গবেষকরা আশা করছেন, চলতি বছরের শেষে এই গবেষণা ও অবকাঠামো সম্পন্ন হবে।











