ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, গা ঢাকা দিয়েছেন ইমাম

প্রকাশিত: 7 November 2026, 2:50 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ষোল বছর বয়সি এক মাদ্রাসার ছাত্রকে বলাৎকারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক ইমাম ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই লোমহর্ষক ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার বটেরতল গ্রামে অভিযুক্ত ওই ইমামের নিজ বাড়িতে এই কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ওই ইমামের নাম হাফেজ মুফতি নোমান বিন রব্বানী (৩৫)। তিনি উপজেলার বটেরতল গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে এবং শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ জামে মসজিদের ইমাম। এছাড়াও তিনি দারুল আরক্বাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা কোম্পানীগঞ্জের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সেক্রেটারি, হেফাজতে ইসলামের উপজেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসাছাত্র জানায়, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মসজিদে গেলে হুজুর আমাকে বলে মাথাব্যথা করতেছে, আমার মাথা টিপে দাও। আমি উনার মাথা টিপে দেই এবং উনি আমাকে এশার নামাজ পড়াতে বলেন। আমি এশার নামাজ পড়াই। এরপর হুজুর বলে তুমি বাড়িতে গিয়ে বলে আসো, আজ আমার সঙ্গে তোমার দাওয়াত আছে এবং রাতে থাকবে। দাওয়াত খেয়ে হুজুরের বাড়িতে যাই। সেখানে এক রুমে আমি ও হুজুর এবং অন্য রুমে হুজুরের বউ ঘুমায়। রাতে এক পর্যায়ে হুজুর বললেন উনার পেটে ব্যথা করতেছে, আমি যেন উনার পেটে মালিশ করে দেই। সঙ্গে সঙ্গে আমি মালিশ করে দিলাম।’

সে আরও জানায়, ‘এরপর হুজুর আমাকে বলাৎকার করে। বিষয়টি কাউকে জানালে আমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। ফজরের সময় হুজুর উনার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল দিয়ে আমাকে নিয়ে মসজিদে আসেন এবং গোসল না করেই ফজরের নামাজ পড়ান। ফজরের নামাজের পরও তিনি আমাকে দিয়ে উনার পা টেপান। পরে আমি বাড়িতে এসে ঘটনার বিস্তারিত আমার মায়ের কাছে খুলে বলি।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসাছাত্রের মা বলেন, ‘আজ আমার ছেলের সঙ্গে এমন নোংরা ঘটনা ঘটেছে। আর যেন কারো সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে, এজন্য আমি হুজুরের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হাশেম বলেন, ‘ভুক্তভোগী আমাকে এবিষয়ে জানিয়েছে। আমি সভাপতি সাহেবকে অবগত করেছি। তিনি ওই ভুক্তভোগীকে দরখাস্ত দিতে বলেছেন। নিয়ম অনুযায়ী আমাদের যে যে ব্যবস্থা নেওয়া লাগে, তা আমরা নেব।’

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ উছমান গনি বলেন, ‘খোঁজ খবর নিচ্ছি। এবিষয়ে অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মন্তব্য করুন