অনলাইন ডেস্ক:
বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রশংসিত কাজ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন ‘হক’ সিনেমার মাধ্যমে। একজন মুসলিম নারী সাজিয়া বানুর চরিত্রে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে চার মাস ধরে পবিত্র কোরআন পাঠ শিখেছেন তিনি। তার এই নিবেদনই সিনেমাটিকে দর্শকদের কাছে আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে।
চলচ্চিত্রটির পরিচালক সুপর্ণ ভার্মা সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, চরিত্রটির আবেগ ও বিশ্বাসকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “ইয়ামি শুধু সংলাপ মুখস্থ করেননি, বরং কোরআনের আয়াত এবং তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করেছেন। এজন্য তিনি চার মাস ধরে কোরআন পাঠ শিখেছেন, যাতে চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।”
শুধু অভিনেত্রীই নয়, পুরো নির্মাতা দলও দীর্ঘ সময় গবেষণায় ব্যয় করেছে। ইসলামি শরিয়াহ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে প্রায় দেড় বছর কাজ করেছেন তারা। নির্মাতাদের লক্ষ্য ছিল, বাস্তবভিত্তিক গল্পকে নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করা এবং প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা।
পরিচালকের ভাষায়, “বর্তমানে অনেক ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। আমরা চেয়েছি ‘হক’ যেন যুক্তির একটি কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে।” এই লক্ষ্যেই সিনেমাটির প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
গত বছরের ৭ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর আলোচনায় আসে ‘হক’। পরে ২ জানুয়ারি নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর তা আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছেও পৌঁছে যায় এবং ব্যাপক সাড়া ফেলে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দর্শকরাও সিনেমাটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
বাস্তব ঘটনার আলোকে নির্মিত এই কোর্টরুম ড্রামার গল্প সাজিয়া বানু নামের এক নারীর দীর্ঘ আইনি লড়াইকে কেন্দ্র করে। স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে ও ভরণপোষণ না পাওয়ার পর নিজের অধিকার আদায়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। দীর্ঘ সংগ্রামের পর সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়বিচার পান সাজিয়া, যা ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
সিনেমাটিতে ইয়ামি গৌতমের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ইমরান হাশমি। সামাজিক বৈষম্য, নারীর অধিকার এবং ধর্মীয় আইনের জটিলতা, সবকিছু মিলিয়ে ‘হক’ এখন শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একটি শক্তিশালী বক্তব্য।











