খনিজ চুক্তি ছাড়াই ওয়াশিংটন ছাড়লেন জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্ক:

ওভাল অফিসে এক বিশেষ বৈঠকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় কোনো খনিজ চুক্তি না করেই হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি হলে এটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারত বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ইউরোপসহ পুরো বিশ্বে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। সফরের অংশ হিসেবে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বাড়ানো নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। এছাড়া, দুই নেতা একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার পরিকল্পনা করলেও বৈঠকের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।

বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইউক্রেনকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১৮০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তার প্রতিদান স্বরূপ চুক্তিটি অপরিহার্য। তবে জেলেনস্কি তাতে আপত্তি জানান। বিতর্কের এক পর্যায়ে ট্রাম্প জেলেনস্কিকে তিরস্কার করে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করতে বলেন। এরপরই তার শীর্ষ উপদেষ্টারা জেলেনস্কিকে বিদায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ট্রাম্প জেলেনস্কিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে তামাশা করছেন। যা করছেন, তা এই দেশের (যুক্তরাষ্ট্রের) প্রতি অসম্মানজনক। এই দেশ আপনাকে প্রচুর সহায়তা দিয়েছে।”

প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকের শেষ ১০ মিনিট ছিল সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ। ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও জেলেনস্কির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা প্রায় বিতণ্ডায় রূপ নেয়।

জেলেনস্কির মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্পকে বোঝানো যে, তিনি যেন ইউক্রেনকে একা ফেলে না যান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর অতি আস্থার বিষয়ে সতর্ক থাকেন। তবে ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো জেলেনস্কির বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেন।

একপর্যায়ে জেলেনস্কি বলেন, “পুতিন যুদ্ধবিরতি ও অন্যান্য চুক্তির প্রতিশ্রুতি অন্তত ২৫ বার ভঙ্গ করেছেন। তাকে বিশ্বাস করা যায় না।”

জবাবে ট্রাম্প বলেন, “পুতিন আমার সঙ্গে কোনো চুক্তি ভঙ্গ করেননি।” তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এড়িয়ে যান। বরং তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবিত খনিজ চুক্তিই যুদ্ধ শেষ করার একমাত্র কার্যকর উপায়।

বৈঠকে উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জেলেনস্কিকে বলেন, “জনাব প্রেসিডেন্ট, সম্মানের সঙ্গে বলছি, ওভাল অফিসে এসে আমেরিকান মিডিয়ার সামনে অভিযোগ করার চেষ্টা করা আপনার জন্য অসম্মানজনক।”

জেলেনস্কি আপত্তি জানালে ট্রাম্প উচ্চস্বরে বলেন, “আপনি লাখ লাখ মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছেন!”

এরপর ট্রাম্প নিজেকে “নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী” দাবি করে বলেন, তিনি ইউক্রেন বা রাশিয়ার পক্ষে নন। জেলেনস্কির পুতিনবিরোধী অবস্থানকেই শান্তি আলোচনার প্রধান বাধা বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, “পুতিনের প্রতি তার (জেলেনস্কির) ঘৃণা আপনারা দেখেছেন। এ ধরনের ঘৃণার সঙ্গে চুক্তি করা আমার জন্য খুবই কঠিন।”

এই বৈঠকের ব্যর্থতার পর ট্রাম্প প্রশাসন জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। খনিজ চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নতুন কোনো প্রচেষ্টা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখন কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনাপ্রবাহ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কৌশল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।