গাজার শিশুরা সংঘাতে চরম মূল্য দিয়েছে, নিহত ৪৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি

অনলাইন ডেস্ক:

গাজার চলমান সংঘাতে সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছে নারী ও শিশুরা। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ গাজার জনজীবনকে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী গাজাকে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে, যেখানে মসজিদ, হাসপাতাল, স্কুল, আবাসিক ভবন—কোনো স্থানে হামলা চালানো হয়নি। এই পরিস্থিতি নিয়ে আল জাজিরা বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছেন রামজি নামের এক ফিলিস্তিনি, যিনি বেইত হানুনের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জানান, গাজায় সংঘাত শুরুর পর তিনি এবং তার পরিবার একে একে সবকিছু হারিয়েছেন। প্রথমে বেইত হানুনে ইসরায়েলি হামলায় সবকিছু ধ্বংস হয়, এরপর তারা জাবালিয়া, নুসেইরাত শরণার্থী শিবির, রাফা হয়ে শেষমেশ খান ইউনিসে আশ্রয় নেন।

রামজি বলেন, “আমরা সবকিছু হারিয়েছি। আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এখন হামাস সিটির পূর্বাঞ্চলে একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছি। আমাদের সন্তানরা অসুস্থ, আমরা পানির, বিদ্যুতের ও খাবারের অভাবে ভুগছি। প্রচণ্ড শীতে কষ্ট পাচ্ছি এবং গত রাতের ভারী বৃষ্টিতে আমাদের আশ্রয় তলিয়ে গেছে।”

বর্তমানে গাজায় যুদ্ধবিরতি চলছে, কিন্তু এমন এক সময় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে যখন ফিলিস্তিনিরা পুরোপুরি নিঃস্ব। তাদের হারানোর আর কিছু বাকি নেই—তাদের মাথার ওপরের ছাদ, পায়ের নিচের মাটি, খাবার সবকিছুই কেড়ে নিয়েছে দখলদার বাহিনী।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে ৪৭ হাজার ১০৭ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ১ লাখ ১১ হাজার ১৪৭ জন আহত হয়েছেন।