গাজায় ত্রাণে বাধা দিতে পারবে না ইসরাইল: আইসিজে

অনলাইন ডেস্ক:

হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরাইল কোনোভাবেই বাধা দিতে পারবে না। ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সরবরাহ নিশ্চিত করা ইসরাইলের দায়িত্ব বলেও আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে।

আদালত জানায়, যদিও এই পরামর্শমূলক রায় আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবু এর রয়েছে “বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক গুরুত্ব”। আইসিজের সভাপতি ইউজি ইওয়াসাওয়া বলেন, ইসরাইল জাতিসংঘ ও এর সংস্থাগুলোর ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে বাধ্য।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে ক্ষুধাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার নিষিদ্ধ। ইসরাইল দখলদার শক্তি হিসেবে স্থানীয় জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বাধ্য।

তবে রায় ঘোষণার পরপরই ইসরাইল তা প্রত্যাখ্যান করে। ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেন মারমোরস্টেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আইসিজের এই পরামর্শমূলক রায় আন্তর্জাতিক আইনের আড়ালে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের আরেকটি প্রচেষ্টা।”

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আমি আশা করি, ইসরাইল রায়টি মেনে চলবে।”

রায় ঘোষণার পর নরওয়ে ঘোষণা দেয়, গাজায় ত্রাণ প্রবেশে আরোপিত ইসরাইলি বিধিনিষেধ তুলে নিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করবে তারা।

ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি আম্মার হিজাজি বলেন, “এই রায় বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে।”

মানবিক সংস্থা ডব্লিউএফপি জানায়, যুদ্ধবিরতির পর ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় ৫৩০টি ট্রাকের মাধ্যমে ৬ হাজার ৭০০ টনের বেশি খাদ্যসামগ্রী প্রবেশ করেছে। তবে প্রতিদিনের গড় সরবরাহ এখনো লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম।

এর আগে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আইসিজে বলেছিল, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখল “অবৈধ” এবং তা দ্রুত শেষ করতে হবে। বর্তমানে আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যার মামলাটিও বিচারাধীন।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইতিমধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও হামাস নেতা মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।