নিজস্ব প্রতিবেদক:
বগুড়ায় হাঁটুর নিচে বিশেষ কায়দায় তৈরি অ্যাংলেটে লুকিয়ে অভিনব পন্থায় ইয়াবা পাচারের সময় এক স্বামী ও স্ত্রীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), যাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে জেলার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকা থেকে এই মাদক কারবারি দম্পতিকে আটক করা হয়।
অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার দোগাছী গ্রামের সোহাগ মৃধা (৩১) এবং তার স্ত্রী মোছা. সারমিন খানম (২৫)। বর্তমানে তারা রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার মধ্যপাইকারপাড়ার আহম্মদ নগর এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। এর মধ্যে স্বামী সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে অবস্থান নেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল। এ সময় ঢাকা থেকে বগুড়াগামী ‘আর কে ট্রাভেলস্’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ওই দম্পতিকে আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অভিযানে স্ত্রী সারমিন খানের দেহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হয়। এ সময় সারমিনের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে বিশেষ কায়দায় অ্যাংলেটে আটকানো স্কচটেপ মোড়ানো ২০টি প্যাকেটে চার হাজার পিস এবং বাম পায়ের নিচে থাকা অ্যাংলেটে ১৯টি প্যাকেটে তিন হাজার আটশত পিস—সব মিলিয়ে মোট ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ডিজিটাল স্কেলে পরিমাপ করে ইয়াবাগুলোর মোট ওজন পাওয়া যায় ৭৬০ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২৩ লাখ টাকা। এছাড়া তাদের কাছ থেকে মাদক পাচারকাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক মো. জিললুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই বিশাল মাদকের চালানের সঙ্গে অন্য কোনো চক্র বা ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চলছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া মাত্রই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।











