অনলাইন ডেস্ক:
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগেও ইসরাইলি হামলা থামছে না। গতকাল ইসরাইলি মন্ত্রিসভায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর ভোটাভুটির কয়েক ঘণ্টা আগে ফিলিস্তিনে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, যার ফলে অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ২০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কাতারে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পর গত বুধবার রাতে ইসরাইলি বিমান হামলায় ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা শহরের শেখ রাদওয়ান পাড়ার একটি আবাসিক ভবনে হামলায় ১২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন, তবে ইসরাইলি বাহিনী এই হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এছাড়া, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বোমা হামলায় আরও ৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পশ্চিম তীরের জেনিনে হামলায় নিহত পাঁচ জনের মরদেহ জেনিন সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির চুক্তির বিষয়ে মধ্যস্থতা করছে কাতার, মিশর এবং যুক্তরাষ্ট্র। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসীম আল-থানি গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী রোববার থেকে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হবে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে হামাস ৩৩ জন ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং গাজার জনবহুল এলাকা থেকে ৭০০ মিটার দূরে ইসরাইল তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করবে। এছাড়া, ইসরাইল বেসামরিক নাগরিকদের গাজার উত্তরে নিরাপদে তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেবে এবং প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০০ ট্রাক ত্রাণ সামগ্রী গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেবে। শর্ত পূরণ হলে দ্বিতীয় ধাপে ইসরাইলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তির বিনিময়ে অবশিষ্ট সব জীবিত জিম্মিদের মুক্তি ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হবে। তৃতীয় ধাপে গাজা পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে, যা মিশর, কাতার এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।











