অনলাইন ডেস্ক:
গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গত তিন দিনে প্রায় আড়াই হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে ৯০০টি ট্রাক গত মঙ্গলবার গাজায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ১৫ মাসের যুদ্ধের ফলে গাজার বাসিন্দারা ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছিলেন, তবে যুদ্ধবিরতির পরে ত্রাণ প্রবাহের এই আয়োজন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ৩ দিনে মোট ২,৪৪২টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তির আওতায়, প্রথম ছয় সপ্তাহে প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০০টি ট্রাক গাজায় ত্রাণ সরবরাহ করবে, যাতে ৫০টি জ্বালানি বহনকারী ট্রাকও থাকবে। বিশেষজ্ঞরা গাজার উত্তরে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং সেখানকার মানুষদের জন্য আরও বেশি ত্রাণ প্রেরণের তাগিদ দিয়েছেন।
জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় সাহায্য কর্মকর্তা মুহান্নাদ হাদি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণে বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হয়নি। কিছু ছোটখাটো লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও, এগুলো সংঘবদ্ধ অপরাধ নয়, তিনি বলেছিলেন, “কিছু শিশু খাবারের ঝুড়ি নিতে ট্রাকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং কিছু লোক পানির বোতল নিতে চেষ্টা করেছিল।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, গাজার মানুষ দ্রুত বুঝতে পারবে যে পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ রয়েছে এবং এই সমস্যা কিছুদিনের মধ্যে সমাধান হবে।
গাজার ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনে প্রায় ২২ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করেন, যেখানে বেকারত্ব উচ্চ এবং এক তৃতীয়াংশ জনগণ জাতিসংঘ ও অন্যান্য দাতা সংস্থার সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে গাজায় ত্রাণ প্রবাহ সংকুচিত হয়ে পড়ে, যার ফলে খাদ্য, চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে প্রায় অর্ধলাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
অতিরিক্ত ত্রাণ সহায়তা এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের অংশ হিসেবে গাজায় খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, পানির লাইন মেরামত এবং আশ্রয়কেন্দ্র পুনর্নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। আশা করা হচ্ছে, গাজার মানুষের জন্য এই ত্রাণ সহায়তা পরিস্থিতি কিছুটা সহজ করবে।











