গুয়ানতানামো বে জেলে শরণার্থী শিবির তৈরি করতে চান ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ৩০ হাজার শরণার্থীকে গুয়ানতানামো বে জেলে পাঠানো হবে। শরণার্থী শিবির তৈরি করার জন্য তিনি একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডার সই করবেন, যা সামরিক ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেবে। এই পদক্ষেপটি শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলায় তার কঠোর নীতির অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, গুয়ানতানামো বে জেলে নতুন শিবিরে অপরাধপ্রবণ শরণার্থীদের রাখা হবে, যারা মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তার হুমকি হতে পারে। তিনি বলেন, “এরা এমন লোক, যারা এত ভয়াবহ অপরাধী যে আমরা তাদের অন্য কোনো দেশে ফেরত পাঠাতে চাই না।”

এছাড়া, ট্রাম্প শরণার্থীদের “অবৈধ এলিয়েন” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং শরণার্থী বিষয়ক নতুন আইন “ল্যাকেন রিলে অ্যাক্ট”-এ সই করেছেন। এর মাধ্যমে শরণার্থী ও অভিবাসন নীতির প্রতি তার কঠোর মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে। শরণার্থীদের নিয়ে তার এই মনোভাব ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও প্রাধান্য পেয়েছিল, যখন তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় ফিরে এলেই তিনি শরণার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

গুয়ানতানামো বে জেলটি সন্ত্রাসীদের আটক রাখতে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং সেখানে বহু মানুষ বিনা বিচারে বন্দি ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শরণার্থীদের নতুন করে সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানিয়েছিলেন, এই জেলটি বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও কিছু বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তবে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করবে, কারণ এই জেলটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত।

এদিকে, ট্রাম্পের শরণার্থী বিষয়ক কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করতে পারে।