নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে রয়েছে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকদের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে এবং এই প্রস্তাব শিগগিরই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া, গ্যাস সঞ্চালন খাতে হুইলিং চার্জ বাড়ানোরও প্রস্তাব রয়েছে।
বর্তমানে দেশে ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় কোম্পানি তিতাস গ্যাস। এই কোম্পানির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক গ্যাস ব্যবহার করেন। সূত্র অনুযায়ী, মিটারবিহীন গ্রাহকরা বর্তমানে প্রায় ১০০ ঘনমিটার গ্যাস পর্যন্ত ব্যবহার করছেন, যা সাধারণত ৫৫ বা ৬০ ঘনমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকেরা অনেকটা মিতব্যয়ী হয়ে থাকে, তবে মিটারবিহীন গ্রাহকরা অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করছেন।
এছাড়া, পেট্রোবাংলা গত জানুয়ারি মাসে শিল্পখাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আইনগত বাধার কারণে পেট্রোবাংলার দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, ফলে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো সেই প্রস্তাবনা নিয়ে এগোচ্ছে।
তিতাস গ্যাসসহ অন্যান্য বিতরণ কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই দাম বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব জমা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিতাস গ্যাসের দাবি, গ্যাসের ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে কোম্পানি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং এর জন্য দাম বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।
গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে হুইলিং চার্জও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে, কারণ বর্তমানে তাদের লোকসান হচ্ছে। তবে, এই দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে ব্যবসায়ী নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং তারা দ্রুত এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। ব্যবসায়ী নেতাদের আশঙ্কা, দাম বাড়ানোর কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং শিল্পায়ন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রক্রিয়া নিয়ে বিইআরসি একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে, যাদের রিপোর্টের পর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।











