বৈদ্যুতিক যানবাহন বিক্রির প্রভাবে চীনে তেলের চাহিদা কমার পূর্বাভাস

অনলাইন ডেস্ক:

চীনে তেলের চাহিদা আগামীতে আর বাড়বে না বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। দেশটির সরকারের কাঠামোগত পরিবর্তন এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন বিক্রি উৎসাহিত করার ফলে তেলের চাহিদা শীর্ষে পৌঁছাতে পারে, যা পূর্বাভাসের তুলনায় দ্রুত ঘটতে পারে। চীনের ভোগব্যবস্থা বিশ্ব তেলবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির তেল আমদানি আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এটি সাম্প্রতিক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বার্ষিক আমদানি পতন। তেলের দুর্বল চাহিদার প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়েছে, যেখানে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৭০ ডলারে নেমে এসেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনে তেলের চাহিদা কমার পেছনে অর্থনৈতিক চক্রের পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ কিয়েরান টম্পকিনস মনে করছেন, চীন একটি কাঠামোগতভাবে দুর্বল তেলের চাহিদার যুগে প্রবেশ করেছে। টোকিওর মারুবেনি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক লি জুয়েলিয়ানও মনে করেন, চীনের তেলের চাহিদা ইতোমধ্যেই শীর্ষে পৌঁছেছে।

চীনে তেলের চাহিদার পতনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ব্যাপক বিস্তার। গত বছর থেকে চীনে ইভি বিক্রি পেট্রোলচালিত গাড়িকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইভি চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা ১ দশমিক ১৪ কোটি ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। এর ফলে, পরিবহন খাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমে যাওয়ায় মোট তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এছাড়া, চীনের সরকার তেল শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৪-২৫ সালের জ্বালানি সক্ষমতা ও কার্বন হ্রাস কর্মপরিকল্পনায় শোধনাগারের ক্ষমতা বছরে ১০০ কোটি টনের নিচে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। চীনের সরকার কার্বন নির্গমন শূন্যে নামানোর লক্ষ্যে কাজ করছে, তবে একই সময়ে কয়লার ব্যবহার ও আমদানি বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের তেলের ৭৩ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। জাপানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেটালস অ্যান্ড এনার্জি সিকিউরিটির প্রধান মিকা তাকেহারা বলেন, চীন এখন অন্যান্য দেশের চাপ মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য ও বিকল্প জ্বালানিতে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছে।

সূত্র: নিক্কেই এশিয়া