জর্ডানে গির্জায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় তিন হামলাকারী গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক:

জর্ডানের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় মর্মান্তিক ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার (২৫ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ওই বর্বরোচিত হামলায় ৯ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, যৌথ নিরাপত্তা অভিযান, বিশেষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট অভিযান পরিচালনাকারী দলের নিরলস তৎপরতার ফলেই হামলার মূল হোতা ওই তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের সশস্ত্র সংঘর্ষ হয় এবং এতে তিনজনই আহত হন বলে জানানো হয়।

জর্ডানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কারাক গভর্নরেটের হাম্মুদ গ্রামের সেন্ট জর্জ গির্জা প্রাঙ্গণে এই সশস্ত্র হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। ওই সময় সেখানে একটি শেষকৃত্যের শোভাযাত্রা চলছিল এবং শোভাযাত্রা চলাকালেই তারা অতর্কিতভাবে গির্জার ভেতর ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ জর্ডানের কারাক অঞ্চলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই থেকে তিন শতাংশ মানুষ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী।

সোমবার এক্সে দেওয়া এক পৃথক পোস্টে জর্ডানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়া বলেন, আমরা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তরুণদের উগ্রবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে ঠিক কী কী পরিস্থিতি কাজ করছে, তা আমরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি। এ ঘটনায় যার সঙ্গেই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের প্রত্যেককেই কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

এই রক্তক্ষয়ী হামলার পর পরই আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান এবং তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। গত শনিবার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, জর্ডানবাসীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা একটি অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা।

একই সঙ্গে অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে রাজা আবদুল্লাহ বলেন, প্রতিটি সন্ত্রাসীর কাছেই শেষ পর্যন্ত আইনের বিচারের হাত নিশ্চিতভাবে পৌঁছাবে।

এর আগে গত শুক্রবার রাজা আবদুল্লাহ এক বাণীতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এ ধরনের জঘন্য হামলার জবাবে সম্ভাব্য সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে গির্জায় হামলার এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গত শুক্রবার থেকেই দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান। এই শোক চলাকালীন সরকারি ও জনসাধারণের ব্যবহৃত সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত রোববার হামলায় নিহত নয়জনের মধ্যে আটজনকে গির্জার ঠিক পাশেই অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে সমাহিত করা হয়। এই শেষকৃত্যানুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির তোলা ছবিতে দেখা যায়, বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সরব উপস্থিতি এবং অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনগুলো জনসমুদ্রের মধ্য দিয়ে বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।